নৌপরিবহন অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের পিএস এস এম আশিকুল ইসলামের ক্ষমতার অসীম দাপট চলছে। তিনি একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা। আজ প্রায় তিন বছর যাবত আছেন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব ( পিএস) পদে। প্রচন্ড দাম্ভিক এবং অভদ্র এই কর্মকর্তা মহাপরিচালকের পিএস পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসনিক ফাইলগুলোতে হস্তক্ষেপ করে থাকেন। তার ইচ্ছে মর্জির ওপরই নির্ভর করে মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর একটি পাবলিক সেবা মুলক সরকারী প্রতিষ্ঠান বিধায় প্রতিদিন অসংখ্য নৌযান মালিক,সার্ভে এজেন্ট, কর্মকর্তা,কর্মচারী ও সাংবাদিকরা আসেন মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের আবেদন নিবেদন জানাতে। কিন্তু এই পিএস নিজেকে মহাক্ষমতাধর কর্মকর্তা মনে করে সাক্ষাৎ প্রার্থীদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখেন। এমন কি তাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অনেককে দেখা হবে না বলে তাড়িয়ে দেন। তার এ ধরনের অপেশাদারী আচরণে দর্শনার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করতে করতে অধিদপ্তর ত্যাগ করেন। আজ থেকে প্রায় দুই মাস আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( যিনি মহাপরিচালকের স্যার ছিলেন)
দেখা করতে এলে পিএস এস এম আশিকুল ইসলাম তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন এবং বেয়াদবি আচরণ করেন। তখন সাক্ষাৎপ্রার্থী সাবেক নৌকর্মকর্তা ফোন করে মহাপরিচালককে বিষয়টি জানান। তখন মহাপরিচালক নিজে এসে তার স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আরো জানাগেছে, এই পিএস প্রায়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করতে দেন না। কর্মচারিদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এমন অভিযোগ করেছেন অনেক কর্মচারি। তাদের অভিযোগ- অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হলেন তাদের অভিভাবক অথচ সেই অভিভাবকের কাছে তারা তাদের অভাব অভিযোগের কথা জানাতে পারেন না এই পিএস এর কারনে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরো জানাগেছে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলী,ছুটি, সহ অন্যান্য ফাইল উপাস্থাপন করার কথা চীফ ইন্জিনিয়ার বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার। কিন্তু সেই ফাইলগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন পিএস এস এম আশিকুল ইসলাম। তিনি এই ক্ষমতা নিজের হাতে রেখে নিয়মিত বদলী বাণিজ্য করছেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলী খাতে তিনি মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় থেকে শাহরিয়ার নামের এক কর্মচারিকে নারায়ণগঞ্জ অফিসে লোভনীয় পদে বদলী করা হয়েছে।
এই কর্মচারী একজন সাবেক ছাত্র লীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের দোসর। তাকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে নারায়গন্জ কার্যালয়ে বদলী করেছেন। এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি নির্বাচনকালীন সময়ের বিধিমালা।
এমন কি এই বদলীতে অধিদপ্তরের চীফ ইন্জিনিয়ারের মীর্জা সাইফুর রহমানের কোন মতামতও নেওয়া হয়নি।
সরকারি সার্কুলার মোতাবেক নির্বাচনকালীন সময়ে কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বদলী করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। এই বদলীর ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রতিপালন করা হয়নি।
কেবলমাত্র অর্থ লোভে সরকারি আইন ভেঙে এই বদলী আদেশ জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হলেও মহাপরিচালকের টনক নড়েনি।
সুত্রমতে,পিএস এস এম আশিকুল ইসলাম তার ইচ্ছে খুশিমত মহাপরিচালককে পরিচালিত করছেন।ফলে অধিদপ্তরে অশান্তি ও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য দানা বেঁধেছে। আর কিছুদিন এই পিএস স্বচেয়ারে অধিষ্ঠিত থাকলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
দেশবাসীর প্রশ্ন সরকারি সেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠানে কিভাবে একজন পিএস এর দাদাগিরি চলছে?
মহাপরিচালক করছেন কি? নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবইবা এ ক্ষেত্রে উদাসীন কেন?
সারাক্ষণ ডেস্ক 












