মতুয়া ভক্তের সমাগমে গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বারুনী স্নান উৎসব ও মেলা। মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর–এর ২১৫তম জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মতুয়া ভক্তের সমাগম ঘটেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ,২৬) সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যা চলবে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ,২৬) সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে তিনদিনব্যাপী মেলা চলবে ১৮ মার্চ বিকেল পর্যন্ত।
উৎসবকে কেন্দ্র করে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি এলাকা ও আশপাশের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত মতুয়া ভক্তরা ঢাক-ঢোল ও উলুধ্বনির মাধ্যমে ঠাকুরবাড়িতে উপস্থিত হচ্ছেন।
১৭ মার্চ ব্রক্ষ্মমুহূর্তে বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘের মহাসংঘাধিপতি ও ঠাকুর পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য শ্রীমতি সীমাদেবী ঠাকুর মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও পূজাঅর্চনা করবেন। এরপর ভক্তরা ঠাকুরবাড়ির কামনা সাগর ও শান্তি সাগরে পবিত্র স্নান করে পাপমুক্তি ও দেশমঙ্গল কামনা করবেন।
তিনদিনব্যাপী মেলায় বসেছে দেশজ ও কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের দোকান। মৃৎশিল্প, খেলনা, পোশাক, খাদ্যদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির দোকানে জমে উঠেছে বেচাকেনা।
উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যা এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রস্তুতি সভা করেছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্নান উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে।
স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি জানান, আগত ভক্তদের থাকা ও প্রসাদের ব্যবস্থা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ ভক্তদের জন্য একাধিক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সভাপতি পদ্মনাভ ঠাকুর বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক ভক্ত এ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর গোপালগঞ্জের এই ওড়াকান্দি গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বের কোটি কোটি মতুয়া ভক্তের কাছে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি একটি পবিত্র তীর্থস্থান। ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের সময় এই ঠাকুরবাড়িতে পূজা অর্চনা করেন।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 


















