নীলাদ্রিতে পর্যটকদের মিলনমেলায় মুখরিত।প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা সুনামগঞ্জের নীলাদ্রি যেন এক টুকরো স্বপ্নভূমি। সবুজ পাহাড়, নীলাভ পানি আর খোলা আকাশের মিলনে তৈরি এই অপরূপ স্থানটি দিন দিন হয়ে উঠছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত নীলাদ্রি আজ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ছে নীল পানির স্বচ্ছতা, দূরের মেঘে ঢাকা পাহাড়, আর হাসিমুখে ঘুরে বেড়ানো মানুষের আনন্দঘন মুহূর্ত। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছে, কেউ বন্ধুবান্ধবদের সাথে, আবার কেউ একাকী প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে।
আমরা কথা বলেছি এখানে ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটকের সাথে।প্রথমেই কথা বলি ইমন আহমেদের সাথে। তিনি ঢাকার ব্যস্ত জীবন থেকে একটু অবকাশ পেতে এসেছেন নীলাদ্রিতে। ইমন আহমেদ বলেন, “সত্যি বলতে, ছবিতে যত সুন্দর দেখেছি, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি সুন্দর। এখানে এসে মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে গেছে। চারপাশের পরিবেশ এত শান্ত, মনে হয় সব দুঃশ্চিন্তা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। তবে পলাশ থেকে নীলাদ্রি পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আসা খুবই কষ্ট দায়ক তাই এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।এরপর আমরা কথা বলি আব্দুল হাকিমের সাথে। তিনি এসেছেন সিলেট থেকে। তিনি জানান, “আমি অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু নীলাদ্রির মতো এমন শান্ত আর মনোরম পরিবেশ খুব কমই দেখেছি। আমার বাচ্চারাও খুব আনন্দ করছে। সময় কাটানোর জন্য এটি একটি পারফেক্ট জায়গা।”
সবশেষে কথা বলি রুবেল আহমেদের সাথে। তিনি বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। হাসিমুখে রুবেল বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে প্ল্যান করছিলাম এখানে আসার জন্য। আজ এসে সত্যিই মনে হচ্ছে আমাদের প্ল্যান সার্থক হয়েছে। এখানে এসে আমরা অনেক ছবি তুলেছি, অনেক মজা করেছি। এই স্মৃতিগুলো অনেকদিন মনে থাকবে।”
নীলাদ্রি শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি যেন প্রকৃতির সাথে মানুষের এক মধুর বন্ধনের জায়গা। এখানে এসে মানুষ খুঁজে পায় প্রশান্তি, আনন্দ আর নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। দিন শেষে সূর্য যখন ধীরে ধীরে ডুবে যায়, তখন নীলাদ্রির আকাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অপূর্ব রঙের খেলা। সেই দৃশ্য যেন প্রতিটি পর্যটকের মনে গেঁথে যায় চিরদিনের জন্য। এইভাবেই নীলাদ্রি হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম প্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য, যেখানে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গল্প।
বিনোদন ডেস্ক 


















