ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সেই দুর্নীতিবাজ আব্দুর রশিদ মিয়া।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ৩৮৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন মহা দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মিয়া।

বিএনপি সরকারের বিশেষ চয়েসে তিনি এই নিয়োগ লাভ করেছেন। তার এই নিয়োগ দানে সারাদেশের এলজিইডি অফিসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। ৬০ এর দশকে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় এর পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সীমানায় রয়েছে এলজিইডির বিশাল কর্মযজ্ঞ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। ৬০ এর দশকে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় এর পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সীমানায় রয়েছে এলজিইডির বিশাল কর্মযজ্ঞ। আর এই কর্মযজ্ঞকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা গড়ে তুলেছেন নিজেদের সম্পদের পাহাড়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পগুলোতে জনগণের যতটুকু লাভ হয় তার থেকে বেশি লাভ হয় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের।

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার তথ্য-উপাত্ত হাতে এসেছে । এই দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন হলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া।

এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট তৈরির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরটিতে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই দপ্তরের এক কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানান, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া প্রায় ৮০ কোটি টাকার বিনিময়ে দপ্তরটির প্রধান প্রকৌশলী পথ বাগিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন মোঃ আবদুর রশিদ এলজিইডিতে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে বড় একটি অংশ চলে যায় এলজিইডি এই সিন্ডিকেটের হাতে।প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া দুর্নীতির এই অর্থ কোথায় রেখেছেন?

আমাদের অনুসন্ধানী দল এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বের হয়ে আসে একাধিক তথ্য-উপাত্ত। দুর্নীতির অর্থে নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ ও ঢাকায় কিনেছেন জমি ও বেনামে একাধিক বাড়ি।ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন শত কোটি টাকা।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন, বরুয়া মৌজায় তার নামে ক্রয়ে করেছেন ৭ কাঠা জমি, যার জার বাজার মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। মোহাম্মদপুরের শাজাহান রোডের ডি-ব্লকের হোল্ডিং নং ৩২/৩ এর ছয়তলা বাড়িটিও তার। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে স্ত্রী ফাতেমা জাকিয়ার নামে ক্রয় করেছেন ফ্লাট। সিরাজগঞ্জের হাইওয়ে রাস্তার পাশে ৬০ কাঠা জায়গার উপর চালাচ্ছেন ফুড গার্ডেন নামে রেস্টুরেন্ট এবং তার পাশেই নিজ শ্যালকের নামে জমি ক্রয় করে দুইটি ৫তলা বাড়ি নির্মান করেছেন। আব্দুর রশিদ তার নিজ গ্রাম কাজিপুর উপজেলায় সম্পদ পাহাড় গড়েছেন।

এই রকম একজন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর হাতে এলজিইডির ভাগ্য তুলে দিয়ে বিএনপি সরকার একটি বিতর্কিত কাজ করেছে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ছাত্র, জনতা।

 

 

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সেই দুর্নীতিবাজ আব্দুর রশিদ মিয়া।

আপডেট সময় : ১২:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন মহা দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মিয়া।

বিএনপি সরকারের বিশেষ চয়েসে তিনি এই নিয়োগ লাভ করেছেন। তার এই নিয়োগ দানে সারাদেশের এলজিইডি অফিসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। ৬০ এর দশকে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় এর পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সীমানায় রয়েছে এলজিইডির বিশাল কর্মযজ্ঞ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। ৬০ এর দশকে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় এর পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সীমানায় রয়েছে এলজিইডির বিশাল কর্মযজ্ঞ। আর এই কর্মযজ্ঞকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা গড়ে তুলেছেন নিজেদের সম্পদের পাহাড়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পগুলোতে জনগণের যতটুকু লাভ হয় তার থেকে বেশি লাভ হয় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের।

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার তথ্য-উপাত্ত হাতে এসেছে । এই দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন হলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া।

এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট তৈরির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরটিতে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই দপ্তরের এক কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানান, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া প্রায় ৮০ কোটি টাকার বিনিময়ে দপ্তরটির প্রধান প্রকৌশলী পথ বাগিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন মোঃ আবদুর রশিদ এলজিইডিতে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে বড় একটি অংশ চলে যায় এলজিইডি এই সিন্ডিকেটের হাতে।প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া দুর্নীতির এই অর্থ কোথায় রেখেছেন?

আমাদের অনুসন্ধানী দল এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বের হয়ে আসে একাধিক তথ্য-উপাত্ত। দুর্নীতির অর্থে নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ ও ঢাকায় কিনেছেন জমি ও বেনামে একাধিক বাড়ি।ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন শত কোটি টাকা।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন, বরুয়া মৌজায় তার নামে ক্রয়ে করেছেন ৭ কাঠা জমি, যার জার বাজার মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। মোহাম্মদপুরের শাজাহান রোডের ডি-ব্লকের হোল্ডিং নং ৩২/৩ এর ছয়তলা বাড়িটিও তার। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে স্ত্রী ফাতেমা জাকিয়ার নামে ক্রয় করেছেন ফ্লাট। সিরাজগঞ্জের হাইওয়ে রাস্তার পাশে ৬০ কাঠা জায়গার উপর চালাচ্ছেন ফুড গার্ডেন নামে রেস্টুরেন্ট এবং তার পাশেই নিজ শ্যালকের নামে জমি ক্রয় করে দুইটি ৫তলা বাড়ি নির্মান করেছেন। আব্দুর রশিদ তার নিজ গ্রাম কাজিপুর উপজেলায় সম্পদ পাহাড় গড়েছেন।

এই রকম একজন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর হাতে এলজিইডির ভাগ্য তুলে দিয়ে বিএনপি সরকার একটি বিতর্কিত কাজ করেছে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ছাত্র, জনতা।