ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎

সতীত্বের মূল্য কী অর্থ দিয়ে কেনা যায়?

কথায় আছে, অর্থই অনর্থের মূল। অর্থ কি সম্মান এনে দিতে পারে? সমাজে অবস্থান করে দিতে পারে? এরকম নানা প্রশ্ন মাথায় ভিড় করতো। বাবাকে বলতাম, অর্থ মানুষকে সব কিছুই এনে দিতে পারে না। সুখ এনে দিতে পারেনা। মেধাবী বানাতে পারেনা। আর কত না যুক্তি! এখন বাস্তবতায় এসে দেখি ভিন্ন রূপ। তখন যদি বাবার উপদেশ শুনতাম, তাহলে আজকে এই পরিণতি আমার হত না। আজ অর্থের কাছে সব জায়গায় হার মানতে হয় । যার অর্থ আছে, তার সম্মান আছে, মেধা আছে, ভোগ করার অধিকার আছে। আমরা ভোগের বস্তু। অর্থ প্রভাবশালীরা আমাদের নিয়ে হাসি তামাশা করে। মলি মল্লিক ও এই ফর্মুলার ব্যতিক্রম নয়। ৩০ লক্ষ টাকার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো। হয়তো ভবিষ্যতের চিন্তায় আত্মীয়দের সমঝোতায়, কামরুল ভাইয়ের মতো গুণী মানুষদের অনুরোধে পরাস্ত হয়েছে। কি বা করার আছে, মলি মল্লিকদের। আত্মীয়-স্বজন, গুণীজনদের কথা না শুনলে আর এক বিপদ নেমে আসতো। তখন হতে হতো অপ্রয়োজনীয় পাত্র। তবুও মানতে পারছি না। টাকার কাছে হেরে গেল মলি মল্লিক। সমাজ তুমিই পারবে এই অর্থ প্রভাবশালীদের টিকিয়ে রাখতে। পারবে ওদের পক্ষে রায় এনে দিতে। ডাক্তার ইন্দ্রজিৎ এর ৩০লক্ষ টাকা তুলতে বেশিদিন প্রয়োজন হবে না। নতুন ঘর বাঁধতে সময় লাগবেনা। কিন্তু মলি মল্লিকদের এই ক্ষত কিভাবে শুকাবে? পারবে কি নতুন সংসার বাঁধতে? সমাজ কি এই ইতিহাস ভুলতে পারবে? সারা জীবন এই ক্ষত বহন করে যেতে হবে তার পরিবারকে, মলি মল্লিকের। তবু বলব, মলি মল্লিকরা জীবনের কাছে পরাস্ত হবে না। এগিয়ে চল। আমরা আছি তোমার সাথে।

তবে জনান্তিকের জিজ্ঞাসা,মলি মল্লিকের হৃদয়ের ক্ষতের মূল্য নির্ধারণ করা হলো ৩০ লক্ষ টাকা। প্রথমে ২৫ লক্ষ টাকার চেক, দ্বিতীয় হচ্ছে ৫ লক্ষ টাকার চেক। ধারণা করছি বিত্তবান ডাক্তারটি সঠিক সময়ের মধ্যে এর অর্থ পরিশোধ করবে। এতে করে হয়তো মলি মল্লিকের অর্থনৈতিক সাফল্য কিছুটা বাড়বে। তাতে করে কি ক্ষত কমবে? মলি মল্লিক কি সঠিক বিচার পেল? এবার আসা যাক, আইনের ঘরে বসে যে দফারফাটি শেষ হলো-সেটি কি আইনসম্মত হলো? আমি আইনের ছাত্র নয়, তাই সঠিক উত্তরটি লিখতে পারছি না। তবে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, হিন্দু আইন মোতাবেক এর ব্যত্যয় কতটুকু ঘটেছে তাও আলোচনা করতে এই মুহূর্তে নাইবা চাইলাম। কিন্তু প্রকাশ্যে এই ধরনের সালিশ হওয়ায় অপরাধীরা কি কিছুটা উৎসাহিত হলো? বিচার ভালো হলো কি মন্দ হলো সেটিও বিবেচনায় আনছি না। আমাদের বক্তব্য, এই বিচারের ফলে সমাজ ভুল ইনফরমেশন পাবে না তো ? আর কোন অপরাধী এই বিচার দেখে উৎসাহিত হবে না তো ? বিচার খুবই কঠিন। যারা বিচার করেছেন তারাও নিঃসন্দেহে সমাজের আস্থাশীল মানুষ। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় , আমরা কি অপরাধীদের উৎসাহিত করলাম। এটা কিন্তু ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে প্রশ্ন মলি মল্লিক হারলেন না সমাজপতিরা হারলেন। এটি ভাবার বিষয়। আমরা চাই, ডাক্তার ইন্দ্রজিৎ যে মলি মল্লিকের সাথে আচরণ করছে তার প্রকৃত রহস্য বের করে বিচারের আওতায় আনা হোক। প্রকৃত বিচারের মাধ্যমে সমাজে এই ধরনের অপরাধ কমে আসুক? অপরাধীরা বুঝুক টাকা দিয়ে সব অপরাধ ঢাকা যায় না? সত্যের পক্ষে সমাধান আছে। তাই বলবো জাগাও বিবেক-রুখো অপরাধ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু

সতীত্বের মূল্য কী অর্থ দিয়ে কেনা যায়?

আপডেট সময় : ১০:২৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

কথায় আছে, অর্থই অনর্থের মূল। অর্থ কি সম্মান এনে দিতে পারে? সমাজে অবস্থান করে দিতে পারে? এরকম নানা প্রশ্ন মাথায় ভিড় করতো। বাবাকে বলতাম, অর্থ মানুষকে সব কিছুই এনে দিতে পারে না। সুখ এনে দিতে পারেনা। মেধাবী বানাতে পারেনা। আর কত না যুক্তি! এখন বাস্তবতায় এসে দেখি ভিন্ন রূপ। তখন যদি বাবার উপদেশ শুনতাম, তাহলে আজকে এই পরিণতি আমার হত না। আজ অর্থের কাছে সব জায়গায় হার মানতে হয় । যার অর্থ আছে, তার সম্মান আছে, মেধা আছে, ভোগ করার অধিকার আছে। আমরা ভোগের বস্তু। অর্থ প্রভাবশালীরা আমাদের নিয়ে হাসি তামাশা করে। মলি মল্লিক ও এই ফর্মুলার ব্যতিক্রম নয়। ৩০ লক্ষ টাকার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো। হয়তো ভবিষ্যতের চিন্তায় আত্মীয়দের সমঝোতায়, কামরুল ভাইয়ের মতো গুণী মানুষদের অনুরোধে পরাস্ত হয়েছে। কি বা করার আছে, মলি মল্লিকদের। আত্মীয়-স্বজন, গুণীজনদের কথা না শুনলে আর এক বিপদ নেমে আসতো। তখন হতে হতো অপ্রয়োজনীয় পাত্র। তবুও মানতে পারছি না। টাকার কাছে হেরে গেল মলি মল্লিক। সমাজ তুমিই পারবে এই অর্থ প্রভাবশালীদের টিকিয়ে রাখতে। পারবে ওদের পক্ষে রায় এনে দিতে। ডাক্তার ইন্দ্রজিৎ এর ৩০লক্ষ টাকা তুলতে বেশিদিন প্রয়োজন হবে না। নতুন ঘর বাঁধতে সময় লাগবেনা। কিন্তু মলি মল্লিকদের এই ক্ষত কিভাবে শুকাবে? পারবে কি নতুন সংসার বাঁধতে? সমাজ কি এই ইতিহাস ভুলতে পারবে? সারা জীবন এই ক্ষত বহন করে যেতে হবে তার পরিবারকে, মলি মল্লিকের। তবু বলব, মলি মল্লিকরা জীবনের কাছে পরাস্ত হবে না। এগিয়ে চল। আমরা আছি তোমার সাথে।

তবে জনান্তিকের জিজ্ঞাসা,মলি মল্লিকের হৃদয়ের ক্ষতের মূল্য নির্ধারণ করা হলো ৩০ লক্ষ টাকা। প্রথমে ২৫ লক্ষ টাকার চেক, দ্বিতীয় হচ্ছে ৫ লক্ষ টাকার চেক। ধারণা করছি বিত্তবান ডাক্তারটি সঠিক সময়ের মধ্যে এর অর্থ পরিশোধ করবে। এতে করে হয়তো মলি মল্লিকের অর্থনৈতিক সাফল্য কিছুটা বাড়বে। তাতে করে কি ক্ষত কমবে? মলি মল্লিক কি সঠিক বিচার পেল? এবার আসা যাক, আইনের ঘরে বসে যে দফারফাটি শেষ হলো-সেটি কি আইনসম্মত হলো? আমি আইনের ছাত্র নয়, তাই সঠিক উত্তরটি লিখতে পারছি না। তবে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, হিন্দু আইন মোতাবেক এর ব্যত্যয় কতটুকু ঘটেছে তাও আলোচনা করতে এই মুহূর্তে নাইবা চাইলাম। কিন্তু প্রকাশ্যে এই ধরনের সালিশ হওয়ায় অপরাধীরা কি কিছুটা উৎসাহিত হলো? বিচার ভালো হলো কি মন্দ হলো সেটিও বিবেচনায় আনছি না। আমাদের বক্তব্য, এই বিচারের ফলে সমাজ ভুল ইনফরমেশন পাবে না তো ? আর কোন অপরাধী এই বিচার দেখে উৎসাহিত হবে না তো ? বিচার খুবই কঠিন। যারা বিচার করেছেন তারাও নিঃসন্দেহে সমাজের আস্থাশীল মানুষ। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় , আমরা কি অপরাধীদের উৎসাহিত করলাম। এটা কিন্তু ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে প্রশ্ন মলি মল্লিক হারলেন না সমাজপতিরা হারলেন। এটি ভাবার বিষয়। আমরা চাই, ডাক্তার ইন্দ্রজিৎ যে মলি মল্লিকের সাথে আচরণ করছে তার প্রকৃত রহস্য বের করে বিচারের আওতায় আনা হোক। প্রকৃত বিচারের মাধ্যমে সমাজে এই ধরনের অপরাধ কমে আসুক? অপরাধীরা বুঝুক টাকা দিয়ে সব অপরাধ ঢাকা যায় না? সত্যের পক্ষে সমাধান আছে। তাই বলবো জাগাও বিবেক-রুখো অপরাধ।