ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎

বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু,দায় কার? স্পিডব্রেকার নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী! 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আলমনগর এলাকায় বেপরোয়া গতির অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন আগে আলমনগর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া অটোরিকশা শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর জখম হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে কোনো গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) না থাকায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে, যা আজ একটি প্রাণ কেড়ে নিল।

স্পিডব্রেকার না থাকার কারণ নিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক জানান, জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি নিজ উদ্যোগে আলমনগর রোডের গোল মসজিদের সামনে একটি স্পিডব্রেকার নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার এসে তাকে কাজে বাধা দেন এবং নির্মিত স্পিডব্রেকারটি ভেঙে ফেলতে বাধ্য করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সে সময় পৌরসভার পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল— ‘স্পিডব্রেকারের কারণে যদি কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীর ক্ষতি হয়, তবে তার দায় কে নেবে?’

এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে শোকসন্তপ্ত এলাকাবাসীর মুখে। তাদের প্রশ্ন, “স্পিডব্রেকার না থাকায় অটোরিকশার ধাক্কায় নিষ্পাপ শিশুটি প্রাণ হারাল, এর দায়ভার এখন কে নেবে? পৌর প্রশাসন কি এই দায় এড়াতে পারবে?”

এলাকাবাসী অতি দ্রুত নবীনগরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রয়োজনীয় গতিরোধক স্থাপন এবং বেপরোয়া অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌর প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু

বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু,দায় কার? স্পিডব্রেকার নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী! 

আপডেট সময় : ০৬:১১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আলমনগর এলাকায় বেপরোয়া গতির অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন আগে আলমনগর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া অটোরিকশা শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর জখম হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে কোনো গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) না থাকায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে, যা আজ একটি প্রাণ কেড়ে নিল।

স্পিডব্রেকার না থাকার কারণ নিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক জানান, জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি নিজ উদ্যোগে আলমনগর রোডের গোল মসজিদের সামনে একটি স্পিডব্রেকার নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার এসে তাকে কাজে বাধা দেন এবং নির্মিত স্পিডব্রেকারটি ভেঙে ফেলতে বাধ্য করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সে সময় পৌরসভার পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল— ‘স্পিডব্রেকারের কারণে যদি কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীর ক্ষতি হয়, তবে তার দায় কে নেবে?’

এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে শোকসন্তপ্ত এলাকাবাসীর মুখে। তাদের প্রশ্ন, “স্পিডব্রেকার না থাকায় অটোরিকশার ধাক্কায় নিষ্পাপ শিশুটি প্রাণ হারাল, এর দায়ভার এখন কে নেবে? পৌর প্রশাসন কি এই দায় এড়াতে পারবে?”

এলাকাবাসী অতি দ্রুত নবীনগরের ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রয়োজনীয় গতিরোধক স্থাপন এবং বেপরোয়া অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌর প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।