ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কাশীপুর মাদ্রাসায় দ’গ্ধ জিদনি-আতিয়ার পর মা’রা গেল লামিয়া ‎ বিআইডব্লিউটিএ’র মেগা প্রকল্পে পাইলিং জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ‎ ‎ জাতীয় যুব শক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির অনুমোদন ভাঙ্গুড়া থেকে অসুস্থ গরু কিনে মাংস বিক্রির চেষ্টা, ফরিদপুরে দুজন আটক পীরগঞ্জে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষ্য পীরগঞ্জ থানার উদ্যেগে মত-বিনিময় সভা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে কুমিল্লার মহাসড়কজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ শৈলকূপায় স্ত্রীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্বামী গুরুতর আহত, স্ত্রী আটক গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ‘ফ্যাব্রিক লাইব্রেরি’র যাত্রা শুরু, দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত   কৃষক কার্ড’ বিতরণ কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ-ফজলুল হক মিলন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বিআইডব্লিউটিএ’র মেগা প্রকল্পে পাইলিং জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ‎ ‎

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

বিআইডব্লিউটিএ’র মেগা প্রকল্পে পাইলিং জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

‎

‎

‎নিজস্ব ড্রয়িংয়ে স্পেসিফিকেশন বদল:

‎

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল অনুমোদিত ডিজাইন ও কার্যাদেশ বাইপাস করে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা সাইটে ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ নামে নিজস্ব তৈরি দুটি বিকল্প ড্রয়িং ব্যবহার করছেন। তবে এই সংশোধিত ড্রয়িংয়ের আইনগত বা প্রকৌশলগত অনুমোদন কে দিয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের ভেটিং নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

‎

‎সাংবাদিকদের ওপর হুমকি ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক:

‎

‎অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক বাইরে থেকে এসে এই মেগা প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ায় প্রকল্পের কাজের চেয়ে অর্থ ভাগাভাগিতেই তার নজর বেশি। এ বিষয়ে কোনো সাংবাদিক তথ্য জানতে চাইলে বা প্রশ্ন করলে তাকে ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়, যাতে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ না পায়।

‎

‎বিল ভাগাভাগি ও সাব-কন্ট্রাক্ট দুর্নীতি :

‎

‎অভিযোগ উঠেছে, উপকরণের ব্যবহার কম দেখিয়ে ভুয়া মাপবই (MB) ও রানিং বিল প্রস্তুত করে প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার আরশাদ পারভেজ আনুপাতিক হারে অর্থ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে “মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইলিংয়ের রডের কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছে।

‎

‎টেন্ডারে রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্বচ্ছতা :

‎

‎বিআইডব্লিউটিএ-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের মতে, তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশার ও ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো কর্মকর্তা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি।

‎

‎যেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি:

‎

‎১. কার্যাদেশের ৫০০ মিমি ব্যাস ও ৪০.৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের জায়গায় ৩০০ মিমি ব্যাস ও ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল কোন যুক্তিতে করা হলো?

‎

‎২. ১০টি রডের পরিবর্তে ৭টি রড ব্যবহারের অনুমোদন কে দিয়েছেন?

‎

‎৩. ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ ড্রয়িংয়ের প্রস্তুতকারক ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে?

‎

‎৪. মূল নকশা পরিবর্তনের ভেটিং নথি ও সংশোধিত অনুমোদনের কাগজপত্র কোথায়?

‎

‎৫. কম পরিমাণের কাজ সত্ত্বেও ফুল বিল কীভাবে প্রস্তুত ও পরিশোধ করা হলো?

‎

‎৬. “মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন”-কে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার পেছনে বিধিসম্মত অনুমোদন ছিল কি না?

‎

‎৭. প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক পাঠানো ঠিকাদারি লাইসেন্সটির সাথে এই সাব-কন্ট্রাক্টের মূল সম্পর্ক কী?

‎

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলিং অবকাঠামোগত নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এভাবে নকশা পরিবর্তন করে কম উপকরণ ব্যবহার করা শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, বড় ধরনের কাঠামোগত ঝুঁকিরও সৃষ্টি করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রকল্পের মূল কার্যাদেশ, BOQ, মাপবই, ব্যাংক লেনদেন, টেস্ট রিপোর্ট ও সাইটের বাস্তব পরিমাপ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলেই থলের বিড়াল ও প্রকৃত আর্থিক কেলেঙ্কারি বেরিয়ে আসবে।

‎

‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার টেলিফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

‎

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

কাশীপুর মাদ্রাসায় দ’গ্ধ জিদনি-আতিয়ার পর মা’রা গেল লামিয়া ‎

বিআইডব্লিউটিএ’র মেগা প্রকল্পে পাইলিং জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ‎ ‎

আপডেট সময় : ১০:১০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

বিআইডব্লিউটিএ’র মেগা প্রকল্পে পাইলিং জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

‎

‎

‎নিজস্ব ড্রয়িংয়ে স্পেসিফিকেশন বদল:

‎

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল অনুমোদিত ডিজাইন ও কার্যাদেশ বাইপাস করে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা সাইটে ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ নামে নিজস্ব তৈরি দুটি বিকল্প ড্রয়িং ব্যবহার করছেন। তবে এই সংশোধিত ড্রয়িংয়ের আইনগত বা প্রকৌশলগত অনুমোদন কে দিয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের ভেটিং নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

‎

‎সাংবাদিকদের ওপর হুমকি ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক:

‎

‎অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক বাইরে থেকে এসে এই মেগা প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ায় প্রকল্পের কাজের চেয়ে অর্থ ভাগাভাগিতেই তার নজর বেশি। এ বিষয়ে কোনো সাংবাদিক তথ্য জানতে চাইলে বা প্রশ্ন করলে তাকে ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়, যাতে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ না পায়।

‎

‎বিল ভাগাভাগি ও সাব-কন্ট্রাক্ট দুর্নীতি :

‎

‎অভিযোগ উঠেছে, উপকরণের ব্যবহার কম দেখিয়ে ভুয়া মাপবই (MB) ও রানিং বিল প্রস্তুত করে প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার আরশাদ পারভেজ আনুপাতিক হারে অর্থ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে “মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইলিংয়ের রডের কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছে।

‎

‎টেন্ডারে রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্বচ্ছতা :

‎

‎বিআইডব্লিউটিএ-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের মতে, তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশার ও ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো কর্মকর্তা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি।

‎

‎যেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি:

‎

‎১. কার্যাদেশের ৫০০ মিমি ব্যাস ও ৪০.৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের জায়গায় ৩০০ মিমি ব্যাস ও ২৩ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল কোন যুক্তিতে করা হলো?

‎

‎২. ১০টি রডের পরিবর্তে ৭টি রড ব্যবহারের অনুমোদন কে দিয়েছেন?

‎

‎৩. ‘TYPE-1’ ও ‘TYPE-2’ ড্রয়িংয়ের প্রস্তুতকারক ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে?

‎

‎৪. মূল নকশা পরিবর্তনের ভেটিং নথি ও সংশোধিত অনুমোদনের কাগজপত্র কোথায়?

‎

‎৫. কম পরিমাণের কাজ সত্ত্বেও ফুল বিল কীভাবে প্রস্তুত ও পরিশোধ করা হলো?

‎

‎৬. “মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন”-কে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার পেছনে বিধিসম্মত অনুমোদন ছিল কি না?

‎

‎৭. প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক পাঠানো ঠিকাদারি লাইসেন্সটির সাথে এই সাব-কন্ট্রাক্টের মূল সম্পর্ক কী?

‎

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলিং অবকাঠামোগত নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এভাবে নকশা পরিবর্তন করে কম উপকরণ ব্যবহার করা শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, বড় ধরনের কাঠামোগত ঝুঁকিরও সৃষ্টি করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রকল্পের মূল কার্যাদেশ, BOQ, মাপবই, ব্যাংক লেনদেন, টেস্ট রিপোর্ট ও সাইটের বাস্তব পরিমাপ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলেই থলের বিড়াল ও প্রকৃত আর্থিক কেলেঙ্কারি বেরিয়ে আসবে।

‎

‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার টেলিফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

‎