আধুনিক ও উন্নত রেল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: রেলমন্ত্রী
মোঃ আজিজুল হাকিম পার্বতীপুর, দিনাজপুর, প্রতিনিধি ,
বর্তমান সরকার একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব রেল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সড়ক, নৌ-পরিবহন, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল ইঞ্জিন মেরামতের সর্ববৃহৎ ‘কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা’ পরিদর্শনে এসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে দুপুর ২টায় প্রতিনিধিদল পার্বতীপুরে পৌঁছায় এবং বেলা সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেলমন্ত্রী বাংলাদেশ রেলওয়ের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের নানা রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ রেল পরিবহন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ জনবান্ধব করে তোলা হবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রেল খাতে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, রেলপথে ট্রেন চলাচলে গতি আনতে ইতিমধ্যে তিন ধাপে আরও ৮০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
বিগত সরকারগুলোর নীতি ও কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, “অতীতের সরকারগুলো রেলওয়ের উন্নয়নে কোনো কার্যকর বা টেকসই পদক্ষেপ নেয়নি। বরং উন্নয়নের নামে তারা ঐতিহ্যবাহী এই খাতটিকে বহুলংশে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়ে করিয়েছিল।”
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ ও কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কারখানা পরিদর্শন শেষে রেলমন্ত্রী, রেল প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও রেলওয়ের মহাপরিচালক যৌথভাবে কারখানা চত্বরে চারটি জলপাইয়ের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার যৌথ সভায় মিলিত হয়ে কারখানার সার্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সারাক্ষণ ডেস্ক 



















