ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পদায়ন পেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়  ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ সদরে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও খাল খনন পঞ্চগড়ে মামলার বেড়াজালে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী পুলিশ সুপারের কাছে গণঅভিযোগ এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ যুব ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হলেন খুলনার ওয়াহিদুজ্জামান খুলনায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মাটি খুঁড়ে মিলল ১০ হাজার ইয়াবা, বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা নেত্রকোনায় কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি চট্রগ্রাম ফায়ার সার্ভিস গিলে খাচ্ছে এডি তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া!  মৃধা বাড়ির দুর্গোৎসব: সম্প্রীতির বন্ধনে বাঁধা এক রাত, আনন্দের অমলিন স্মৃতি। খুলনায় জাতীয় পার্টির উদ্যোগে উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

পঞ্চগড়ে মামলার বেড়াজালে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী পুলিশ সুপারের কাছে গণঅভিযোগ

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

পঞ্চগড়ে মামলার বেড়াজালে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী পুলিশ সুপারের কাছে গণঅভিযোগ

 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

 

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের রাজারহাট গ্রামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধ, তুচ্ছ ঘটনা কিংবা নিজের কথামতো কাজ না করলেই অপহরণ, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিকার চেয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত গণঅভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।

 

অভিযুক্ত ফজলুল হক রাজারহাট গ্রামের মৃত মীর বকসের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় আদালতের একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী।

 

ভুক্তভোগীদের পক্ষে আব্দুল খালেক ও আজহার আলী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে ফজলুল হক নিজে এবং আত্মীয়স্বজনকে বাদী করে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে আসছেন। মামলা থেকে রেহাই দেওয়া, বিরোধ মীমাংসা কিংবা আইনি সেবা দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, ফজলুল হকের কথামতো কাজ না করলে কিংবা তাঁর দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও মামলার আসামি করা হয়। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজারহাট গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক ফজলুল হকের পরিকল্পিত মামলায় সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার একটি অপহরণের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই অপহরণের ঘটনা সাজানো ছিল এবং অন্য ব্যক্তিকে বাদী করে তাঁদের আসামি করা হয়।

 

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত করে থানা-পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এসব প্রতিবেদনে মামলাগুলোকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

 

এরপর ফজলুল হক তাঁর মামা আব্দুস সালামকে বাদী করে ঠাকুরগাঁও আদালতে মিস পিটিশন ৭২/২৪ মামলা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল খালেক হামলার শিকার হন। তাঁকে মারধর করে ঠাকুরগাঁওয়ের ফকিরপাড়া গ্রামের নিচু বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০০ টাকা মূল্যের একটি নন-জুডিশিয়াল ফাকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ঘটনায় আব্দুল খালেক ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। মামলা করায় ফজলুল হক তাঁকে আবারও হুমকি দিলে খালেকের বড় ভাই তরিকুল ইসলাম স্ট্যাম্পেসহ ফজলুর সকল কূকৃত্তির কথা উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।সেনাবাহিনী গ্রেপতার করার জন্য একাধিক বার ফজলুল হকের বাড়ী ঘেরাও করলে ফজলুল হক কৌশলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী মোমিনুল হকের কাছে গিয়ে আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দিলে মমিনুল ইসলাম সেনাকেম্পের অনুমতি সাপেক্ষে কালিগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে পঞ্চ ভদ্র বৈঠকের আয়োজন করে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী মামুনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানায় বৈঠকে ফজলুল হক জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং আপোষ পরবর্তী সময় স্ট্যাম্পটি মমিনুলের হাতে জমা দিবে বলে অঙ্গীকার করে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, পরবর্তী সময়ে ফজলুল হকের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসার সময় তিনি আর মামলা করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকারের পরও স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প অবসরপ্রাপ্ত মমিনুল ইসলাম এর কাছে জমা না দিয়ে ওই ফাকা স্ট্যাম্পটি ব্যবহার করে ঠাকুরগাঁও আদালতে আবার মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

 

আব্দুল খালেকের দাবি, ফজলুল হক গ্রামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনকে বিভিন্নভাবে মামলায় জড়িয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২০ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রম চলছে।

 

আদালতে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তথ্য তুলে ধরে অভিযোগকারীরা জানান, ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেবীডুবা, নগর সাকোয়া ও রাজারহাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এসব মামলার মধ্যে কামাল উদ্দিনসহ আটজন, সুরুজ আলীসহ ১২ জন, মরিয়ম বেগমসহ ছয়জন, মিনা খাতুনসহ নয়জন এবং শহীদুর রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, ফজলুল হক নিজে বাদী হয়ে এবং অন্যদের বাদী করে শতাধিক মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলার কারণে বহু নিরীহ মানুষ আর্থিক ক্ষতি, সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতায় পড়েছেন।

 

ইদানিং ফজলুল হক বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পঞ্চগড়ে মোছাঃ মুসলিমা আক্তার ইতি নামক মহিলা দিয়ে ০৩ মে অপহরন ও ১৫ জুলাই গনধর্ষন মামলা আনয়ন করে। অপহরন মামলাটি সদর থানার এস আই মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা না পাইয়া বাদীর বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত ১৭ ধারা মঞ্জুর এর মাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এভাবে কিছু মামলায় বাদীদের বিরুদ্ধেও আদালত আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন।

 

গ্রামবাসীর গণঅভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষানবিশ আইনজীবী ফজলুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

আসাদুজ্জামান আপেল

 

পঞ্চগড়

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পদায়ন পেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় 

পঞ্চগড়ে মামলার বেড়াজালে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী পুলিশ সুপারের কাছে গণঅভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড়ে মামলার বেড়াজালে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী পুলিশ সুপারের কাছে গণঅভিযোগ

 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

 

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের রাজারহাট গ্রামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধ, তুচ্ছ ঘটনা কিংবা নিজের কথামতো কাজ না করলেই অপহরণ, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিকার চেয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত গণঅভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।

 

অভিযুক্ত ফজলুল হক রাজারহাট গ্রামের মৃত মীর বকসের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় আদালতের একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী।

 

ভুক্তভোগীদের পক্ষে আব্দুল খালেক ও আজহার আলী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে ফজলুল হক নিজে এবং আত্মীয়স্বজনকে বাদী করে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে আসছেন। মামলা থেকে রেহাই দেওয়া, বিরোধ মীমাংসা কিংবা আইনি সেবা দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, ফজলুল হকের কথামতো কাজ না করলে কিংবা তাঁর দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও মামলার আসামি করা হয়। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজারহাট গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক ফজলুল হকের পরিকল্পিত মামলায় সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার একটি অপহরণের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই অপহরণের ঘটনা সাজানো ছিল এবং অন্য ব্যক্তিকে বাদী করে তাঁদের আসামি করা হয়।

 

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত করে থানা-পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এসব প্রতিবেদনে মামলাগুলোকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

 

এরপর ফজলুল হক তাঁর মামা আব্দুস সালামকে বাদী করে ঠাকুরগাঁও আদালতে মিস পিটিশন ৭২/২৪ মামলা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল খালেক হামলার শিকার হন। তাঁকে মারধর করে ঠাকুরগাঁওয়ের ফকিরপাড়া গ্রামের নিচু বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০০ টাকা মূল্যের একটি নন-জুডিশিয়াল ফাকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ঘটনায় আব্দুল খালেক ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। মামলা করায় ফজলুল হক তাঁকে আবারও হুমকি দিলে খালেকের বড় ভাই তরিকুল ইসলাম স্ট্যাম্পেসহ ফজলুর সকল কূকৃত্তির কথা উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।সেনাবাহিনী গ্রেপতার করার জন্য একাধিক বার ফজলুল হকের বাড়ী ঘেরাও করলে ফজলুল হক কৌশলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী মোমিনুল হকের কাছে গিয়ে আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দিলে মমিনুল ইসলাম সেনাকেম্পের অনুমতি সাপেক্ষে কালিগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে পঞ্চ ভদ্র বৈঠকের আয়োজন করে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী মামুনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানায় বৈঠকে ফজলুল হক জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং আপোষ পরবর্তী সময় স্ট্যাম্পটি মমিনুলের হাতে জমা দিবে বলে অঙ্গীকার করে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, পরবর্তী সময়ে ফজলুল হকের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসার সময় তিনি আর মামলা করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকারের পরও স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প অবসরপ্রাপ্ত মমিনুল ইসলাম এর কাছে জমা না দিয়ে ওই ফাকা স্ট্যাম্পটি ব্যবহার করে ঠাকুরগাঁও আদালতে আবার মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

 

আব্দুল খালেকের দাবি, ফজলুল হক গ্রামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনকে বিভিন্নভাবে মামলায় জড়িয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২০ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রম চলছে।

 

আদালতে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তথ্য তুলে ধরে অভিযোগকারীরা জানান, ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেবীডুবা, নগর সাকোয়া ও রাজারহাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এসব মামলার মধ্যে কামাল উদ্দিনসহ আটজন, সুরুজ আলীসহ ১২ জন, মরিয়ম বেগমসহ ছয়জন, মিনা খাতুনসহ নয়জন এবং শহীদুর রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, ফজলুল হক নিজে বাদী হয়ে এবং অন্যদের বাদী করে শতাধিক মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলার কারণে বহু নিরীহ মানুষ আর্থিক ক্ষতি, সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতায় পড়েছেন।

 

ইদানিং ফজলুল হক বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পঞ্চগড়ে মোছাঃ মুসলিমা আক্তার ইতি নামক মহিলা দিয়ে ০৩ মে অপহরন ও ১৫ জুলাই গনধর্ষন মামলা আনয়ন করে। অপহরন মামলাটি সদর থানার এস আই মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা না পাইয়া বাদীর বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত ১৭ ধারা মঞ্জুর এর মাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এভাবে কিছু মামলায় বাদীদের বিরুদ্ধেও আদালত আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন।

 

গ্রামবাসীর গণঅভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষানবিশ আইনজীবী ফজলুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

আসাদুজ্জামান আপেল

 

পঞ্চগড়