ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক কৃষিজমি কর্তন, থানায় অভিযোগ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর। ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” বাণিজ্যে শত কোটি টাকার প্রতারণা : কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেল সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতি!  গীতার আলোয় আলোকিত মাদারীপুর গড়তে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর -২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া। টেকেরহাটে নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ইউসিবি ব্যাংকের জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন, সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা। বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার থেকে ১৫ কোটি টাকার ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ, গ্রেফতার- ৯।

ফ্যাসিবাদের দোসর আ. লীগ নেতা ই লার্নিং এর মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুব উন্নয়নের পরিচালক হামিদ খান

  • সারাক্ষণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • ১৭৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

স্বৈরাচারী আ.লীগ সরকারের পতনের পর ও থেমে নেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের দৌরাত্ম, গত ৫ ই আগস্ট আ.লীগ সরকার পতনের পরও তাদের দোসররা এখনো রয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, সম্প্রতি গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ই লার্নিং এন্ড আর্নিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম।
দেশের ৬৪ জেলায় ২৮ হাজার ৮০০ জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিতে সরকার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়, প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খানের সর্বাত্মক সহযোগিতায় ও বিতর্কিতভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ই লার্নিং এন্ড আর্নিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।
প্রতিটি জেলায় ৬০০ জন করে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা ও ৩০০ টাকার খাবার পাবেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী উচ্চ মাধ্যমিক পাস কর্মপ্রত্যাশী নারী-পুরুষ এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল অথচ অনুসন্ধানে জানা যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ভুয়া নাম ও মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
মাসুদ আলম সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত, এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের সাথে ছিল তার ঘনিষ্ঠতা, তিনি ২০২২ সালে শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলেন্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ও ২০২৩ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পেয়েছে, একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ও ২০০১ সালের বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কারণ তার বাবা আওয়ামী লীগ নেতা ছিল ও গত ৭ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুইদিন পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্টিকার যুক্ত গাড়িতে এক বস্তা (আড়াই কোটি টাকা) টাকা সহ আটক হন মাসুদ আলম এবং সেই সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে এত তথ্য থাকার পরও ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খান মাসুদ আলমের কাছ থেকে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য করে তাকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই তথ্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন সাংবাদিককে হামিদ খান ম্যানেজ করে দেন, ইতিমধ্যে মাসুদ আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে ও তাদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অথচ পরিচালক হামিদ খানের কাছে সাংবাদিকরা গেলে তিনি মাসুদ আলমের প্রশংসা করেন কয়েকজন সাংবাদিককে হামিদ খান বলেন ভাই ব্রাদার মনে করে কাজ করেন নিউজ করে কি করবেন সুসম্পর্ক রাখেন লাভবান হবেন, মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গণমাধ্যমের সংবাদপ্রকাশ হওয়ার পরও অর্থের বিনিময়ে তা প্রত্যাহার করিয়াছেন আর এগুলোর মধ্যস্থতা করেছেন যুব উন্নয়নের প্রকল্প পরিচালক হামিদ খান।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প পরিচালক হামিদ খান অনেক ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি, তিনি অবৈধ অর্থে নিজের পরিবার ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ করেছেন এবং তিনি অর্থছড়া কিছুই বোঝেন না ও মাসুদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কমিশন নিয়েছেন তিনি, মাসুদ আলম ফ্যাসিবাদের দোসর এই তথ্য তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করেননি। আপনারা আরো ভালোভাবে অনুসন্ধান করুন তাহলে উনার আরো কুকীর্তি বেরিয়ে আসবে, যুব উন্নয়ন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন অবৈধ ভাবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মন্ত্রী এমপিদের সঙ্গে হামিদ খানের ঘনিষ্ঠতা ছিল সেই ধারাবাহিকতায় তিনি মাসুদ আলমের পক্ষে কাজ করেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হামিদ খানের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়।

ফ্যাসিবাদের দোসর আ. লীগ নেতা ই লার্নিং এর মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুব উন্নয়নের পরিচালক হামিদ খান

আপডেট সময় : ০৪:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

স্বৈরাচারী আ.লীগ সরকারের পতনের পর ও থেমে নেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের দৌরাত্ম, গত ৫ ই আগস্ট আ.লীগ সরকার পতনের পরও তাদের দোসররা এখনো রয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, সম্প্রতি গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ই লার্নিং এন্ড আর্নিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম।
দেশের ৬৪ জেলায় ২৮ হাজার ৮০০ জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিতে সরকার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়, প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খানের সর্বাত্মক সহযোগিতায় ও বিতর্কিতভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ই লার্নিং এন্ড আর্নিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।
প্রতিটি জেলায় ৬০০ জন করে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা ও ৩০০ টাকার খাবার পাবেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী উচ্চ মাধ্যমিক পাস কর্মপ্রত্যাশী নারী-পুরুষ এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল অথচ অনুসন্ধানে জানা যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ভুয়া নাম ও মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
মাসুদ আলম সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত, এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের সাথে ছিল তার ঘনিষ্ঠতা, তিনি ২০২২ সালে শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলেন্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ও ২০২৩ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পেয়েছে, একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ও ২০০১ সালের বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কারণ তার বাবা আওয়ামী লীগ নেতা ছিল ও গত ৭ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুইদিন পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্টিকার যুক্ত গাড়িতে এক বস্তা (আড়াই কোটি টাকা) টাকা সহ আটক হন মাসুদ আলম এবং সেই সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে এত তথ্য থাকার পরও ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খান মাসুদ আলমের কাছ থেকে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য করে তাকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই তথ্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন সাংবাদিককে হামিদ খান ম্যানেজ করে দেন, ইতিমধ্যে মাসুদ আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে ও তাদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অথচ পরিচালক হামিদ খানের কাছে সাংবাদিকরা গেলে তিনি মাসুদ আলমের প্রশংসা করেন কয়েকজন সাংবাদিককে হামিদ খান বলেন ভাই ব্রাদার মনে করে কাজ করেন নিউজ করে কি করবেন সুসম্পর্ক রাখেন লাভবান হবেন, মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গণমাধ্যমের সংবাদপ্রকাশ হওয়ার পরও অর্থের বিনিময়ে তা প্রত্যাহার করিয়াছেন আর এগুলোর মধ্যস্থতা করেছেন যুব উন্নয়নের প্রকল্প পরিচালক হামিদ খান।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প পরিচালক হামিদ খান অনেক ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি, তিনি অবৈধ অর্থে নিজের পরিবার ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ করেছেন এবং তিনি অর্থছড়া কিছুই বোঝেন না ও মাসুদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কমিশন নিয়েছেন তিনি, মাসুদ আলম ফ্যাসিবাদের দোসর এই তথ্য তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করেননি। আপনারা আরো ভালোভাবে অনুসন্ধান করুন তাহলে উনার আরো কুকীর্তি বেরিয়ে আসবে, যুব উন্নয়ন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন অবৈধ ভাবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মন্ত্রী এমপিদের সঙ্গে হামিদ খানের ঘনিষ্ঠতা ছিল সেই ধারাবাহিকতায় তিনি মাসুদ আলমের পক্ষে কাজ করেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হামিদ খানের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।