ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটির আগামীদিনের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা।

পতিতাবৃত্তি থেকে লাস্যময়ী এক চিত্রনাট্যকারের জীবন যুদ্ধের কাহিনী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২০৮ জন সংবাদটি পড়েছেন
7

চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়ায় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, কিন্তু একজন শক্তিশালী কাহিনির পেছনে থাকেন যিনি, সেই লেখকদের অবদান প্রায়ই থেকে যায় আড়ালে। এমনই একজন লেখক হলেন শাগুফতা রফিক, যার বাস্তব জীবন একেবারে সিনেমার মতোই চমকপ্রদ ও হৃদয়বিদারক।

সময়ের আঘাত তাকে পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেয়। তিনি তার জীবনের একটা পর্যায় কাটিয়েছেন বার ডান্সার হিসেবেও, কিন্তু গল্প বলার শখ তাকে মুম্বাইয়ের মায়ানগরীতে নিয়ে আসে, যেখানে তিনি সুপারহিট ছবির গল্প লিখেছিলেন, ইমরান হাশমি এবং আদিত্য রায় কাপুরকে তারকাও বানিয়েছিল তার লেখা ছবির গল্পে।শfগুফতা রফিক ‘উও লমহে’, ‘মার্ডার ২’, ‘জন্নত ২’, ‘আশিকি ২’, ‘জিসম ২’ এবং ‘রাজ ৩ডি’-র মতো সুপারহিট সব ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। চলচ্চিত্রের জন্য লেখা গল্প অসাধারণ তো বটেই, তবে তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের চেয়ে কম নাটকীয় ছিল না। শাগুফতাকে কলকাতার এক ধনী ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মহিলা দত্তক নিয়েছিলেন।

এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর শাগুফতা এবং পরিবার সংগ্রাম করতে বাধ্য হয়েছিল। শাগুফতার বয়স যখন ১১ বছর, তখন তিনি তার মাকে সাহায্য করার জন্য প্রাইভেট পার্টিতে নাচতে শুরু করেন। সেই সময়ে শাগুফতা প্রতি রাতে ৭০০ টাকা আয় করতেন। অনেক সময় আবার তাকে ৫০০ টাকায় এক মাস টিকে থাকতে হত।

‘আল জাজিরা’-র কাছে পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে শাগুফতা রফিক বলেন, অনেক আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে নারীরা কতটা অনিরাপদ। টাকাই নির্ধারণ করে কে সম্মানের যোগ্য আর কে নয়! শাগুফতার বয়স যখন ১৭, তখন তিনি একজন ধনী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যাকে শাগুফতা নিজের জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় বলে মনে করেন। স্থিতিশীলতা খুঁজে পেতে তিনি সেই খারাপ সম্পর্কে থেকে যান। যখন সেই ব্যক্তি চলে যান, তখন শাগুফতাকে পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেওয়া হয়।

অবশেষে, জীবিকা নির্বাহের জন্য তাকে  বার ডান্সারের কাজ নিতে হয়। জীবনের সংগ্রামের বর্ণনা দিতে গিয়ে শাগুফতা বলেন, এটা একটা দুষ্টচক্র ছিল। এর থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না, আমি পতিতাবৃত্তিতে আটকে পড়েছিলাম। এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমি বার ডান্সার হয়েছিলাম। তার পর আমি মুম্বাই থেকে দুবাই পালিয়ে যাই। সমস্ত অসুবিধা সত্ত্বেও গল্প লেখার প্রতি তার আগ্রহ কমেনি, কিন্তু বলিউডে বিরতি পাওয়া সহজ ছিল না।

শাগুফতা কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও নেননি। সে কারণে অনেক প্রোডাকশন হাউজ এবং টিভি শো তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি বলেন, লেখক হিসেবে কাজ চাইতে আমি প্রোডাকশন হাউস এবং টিভি শোতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছিল না কারণ আমার কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না।

  1. মহেশ ভাটের প্রযোজনা সংস্থা ‘বিশেষ ফিল্ম স’-এ যোগদানের পর শাগুফতার জীবন বদলে যায়। এখানেই তিনি তার প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পান। তিনি অনেক সুপারহিট ছবির স্ক্রিপ্ট লেখেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র জগতের  বড় নাম।
Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

পতিতাবৃত্তি থেকে লাস্যময়ী এক চিত্রনাট্যকারের জীবন যুদ্ধের কাহিনী

আপডেট সময় : ০৫:৫০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
7

চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়ায় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, কিন্তু একজন শক্তিশালী কাহিনির পেছনে থাকেন যিনি, সেই লেখকদের অবদান প্রায়ই থেকে যায় আড়ালে। এমনই একজন লেখক হলেন শাগুফতা রফিক, যার বাস্তব জীবন একেবারে সিনেমার মতোই চমকপ্রদ ও হৃদয়বিদারক।

সময়ের আঘাত তাকে পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেয়। তিনি তার জীবনের একটা পর্যায় কাটিয়েছেন বার ডান্সার হিসেবেও, কিন্তু গল্প বলার শখ তাকে মুম্বাইয়ের মায়ানগরীতে নিয়ে আসে, যেখানে তিনি সুপারহিট ছবির গল্প লিখেছিলেন, ইমরান হাশমি এবং আদিত্য রায় কাপুরকে তারকাও বানিয়েছিল তার লেখা ছবির গল্পে।শfগুফতা রফিক ‘উও লমহে’, ‘মার্ডার ২’, ‘জন্নত ২’, ‘আশিকি ২’, ‘জিসম ২’ এবং ‘রাজ ৩ডি’-র মতো সুপারহিট সব ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। চলচ্চিত্রের জন্য লেখা গল্প অসাধারণ তো বটেই, তবে তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের চেয়ে কম নাটকীয় ছিল না। শাগুফতাকে কলকাতার এক ধনী ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মহিলা দত্তক নিয়েছিলেন।

এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর শাগুফতা এবং পরিবার সংগ্রাম করতে বাধ্য হয়েছিল। শাগুফতার বয়স যখন ১১ বছর, তখন তিনি তার মাকে সাহায্য করার জন্য প্রাইভেট পার্টিতে নাচতে শুরু করেন। সেই সময়ে শাগুফতা প্রতি রাতে ৭০০ টাকা আয় করতেন। অনেক সময় আবার তাকে ৫০০ টাকায় এক মাস টিকে থাকতে হত।

‘আল জাজিরা’-র কাছে পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে শাগুফতা রফিক বলেন, অনেক আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে নারীরা কতটা অনিরাপদ। টাকাই নির্ধারণ করে কে সম্মানের যোগ্য আর কে নয়! শাগুফতার বয়স যখন ১৭, তখন তিনি একজন ধনী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যাকে শাগুফতা নিজের জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় বলে মনে করেন। স্থিতিশীলতা খুঁজে পেতে তিনি সেই খারাপ সম্পর্কে থেকে যান। যখন সেই ব্যক্তি চলে যান, তখন শাগুফতাকে পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেওয়া হয়।

অবশেষে, জীবিকা নির্বাহের জন্য তাকে  বার ডান্সারের কাজ নিতে হয়। জীবনের সংগ্রামের বর্ণনা দিতে গিয়ে শাগুফতা বলেন, এটা একটা দুষ্টচক্র ছিল। এর থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না, আমি পতিতাবৃত্তিতে আটকে পড়েছিলাম। এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমি বার ডান্সার হয়েছিলাম। তার পর আমি মুম্বাই থেকে দুবাই পালিয়ে যাই। সমস্ত অসুবিধা সত্ত্বেও গল্প লেখার প্রতি তার আগ্রহ কমেনি, কিন্তু বলিউডে বিরতি পাওয়া সহজ ছিল না।

শাগুফতা কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও নেননি। সে কারণে অনেক প্রোডাকশন হাউজ এবং টিভি শো তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি বলেন, লেখক হিসেবে কাজ চাইতে আমি প্রোডাকশন হাউস এবং টিভি শোতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছিল না কারণ আমার কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না।

  1. মহেশ ভাটের প্রযোজনা সংস্থা ‘বিশেষ ফিল্ম স’-এ যোগদানের পর শাগুফতার জীবন বদলে যায়। এখানেই তিনি তার প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পান। তিনি অনেক সুপারহিট ছবির স্ক্রিপ্ট লেখেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্র জগতের  বড় নাম।