ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ধামরাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার পুনর্বহাল নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন। বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী হোলি উৎসব ২০২৬, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রায়, নতুন কলেবরে কদমবাড়ী দিঘীর পাড়।  মাদারীপুরের রাজৈরে স্বচ্ছ সাংবাদিকতা,পেশাগত দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারাক্ষণ বার্তা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর, প্রাণবন্ত, ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল। মহাসড়কের সংরক্ষিত জায়গা দখল: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাকা–রংপুর ফোর লেন।! ইলিশ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা, চরম ভোগান্তিতে ভোলার লক্ষাধিক জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ।

জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার উৎস কোথায়? দাপুটে জাহাঙ্গীর এখনো বহাল তবিয়তে গণপূর্তে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে।

  • রোস্তম মল্লিক
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের মতো তুঘলকি কান্ড ঘটেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে | শুধু তাই নয় , বরং বেআইনিভাবে এসব ব্লক পোস্টে নিয়োগপ্রাপ্তরা পেয়েছেন পদোন্নতিও | আর এ সকল ভাগ্যবান কয়েকজন প্রকৌশলী হলেন সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীর আলম , জিয়াউর রহমান , মোঃ আবু তালেব, নাফিজ প্রমুখ |

 

জানা যায় , ২০১২ সালে গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন প্রকৌশলী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হবার সুবাদে সরকারি চাকরিতে বিসিএস পরীক্ষা বাইপাস করে উচ্চতর পদে নিয়োগ পান | বিসিএসের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও এসব ভাগ্যবান প্রকৌশলী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে সরাসরি ষষ্ট গ্রেডে নিয়োগ পেয়েছেন |

 

এ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএসের মতো কোনো প্রিলি কিংবা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি | বরং পিএসসি বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে এ সকল প্রকৌশলীর নাম সুপারিশ করে | বিজ্ঞজনের প্রশ্ন , কি এমন হলো যে কোন লিখিত ও প্রিলি ছাড়াই পিএসসিকে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে কর্মকর্তা সুপারিশ করতে হয়েছে ?

 

এ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাধ্য হয়ে নিয়োগের রায় প্রদান করেন এবং বাদী কর্মকর্তাদের পদসমূহ সংরক্ষণের আদেশ দেন |

এমনকি আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ সকল কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং পদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের উপরে তাদের জেষ্ঠ্যতা প্রদান করা হয়েছে |

 

চাকরিবিধি অনুযায়ী উচ্চতর পদে (নবম গ্রেডের উপর কোন পদে ) সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের কোন পদোন্নতির বিধি নেই | তাদের পদোন্নতি দিতে হলে নতুন করে তাদের জন্য বিধি তৈরী করতে হবে | অর্থাৎ , উচ্চতর কোন পদে সরাসরি নিয়োগ হলে সেটি মূলত ব্লক পদ হিসেবে বিবেচিত হয় | কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে |

 

এদিকে এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএ তে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন | অথচ , গণপূর্ত অধিদপ্তরে ২০১৬ সালে বাস্তবে যোগদান করলেও ব্যাক ডেট দিয়ে ২০১২ সালে যোগদান দেখিয়েছেন যা আদালত অবমাননার শামিল | তারা যে সময়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন সে সময়ে আদালতকর্তৃক নিয়োগের বিষয়ে স্থগিতাদেশ ছিল | এই ব্যাকডেটে যোগদান করে একদিকে আদালত অবমাননা করেছেন ,অন্যদিকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গণপূর্ত থেকে চার বছরের এককালীন বকেয়া টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন | ফলে রাষ্ট্রের টাকা তিনি দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একই সময়ে বেতন হিসেবে উত্তোলন করেছেন যা একটি চরম দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ |

 

আদালত অবমাননা করে স্থগিতাদেশের মধ্যে যোগদান করে বাস্তবে চাকরি না করে বকেয়া বেতন হিসেবে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদের একটি চরম দৃষ্টান্ত |

 

ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এসকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগের বিরুদ্ধে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন | মামলাটির শুনানি নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধে | এ সকল দুর্নীতির বিষয়ে শেখ হাসিনা , সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার , আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া , রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনসহ নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদককে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞজনেরা মত প্রকাশ করেছেন | তারা যে অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে চাকরি না করেই নিয়েছেন তা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমাদান করার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ মত দিয়েছেন | এছাড়াও তাদের পদোন্নতি কিভাবে হলো তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করতে দুদকের প্রতি তারা উম্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন |

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩।

জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার উৎস কোথায়? দাপুটে জাহাঙ্গীর এখনো বহাল তবিয়তে গণপূর্তে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে।

আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের মতো তুঘলকি কান্ড ঘটেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে | শুধু তাই নয় , বরং বেআইনিভাবে এসব ব্লক পোস্টে নিয়োগপ্রাপ্তরা পেয়েছেন পদোন্নতিও | আর এ সকল ভাগ্যবান কয়েকজন প্রকৌশলী হলেন সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীর আলম , জিয়াউর রহমান , মোঃ আবু তালেব, নাফিজ প্রমুখ |

 

জানা যায় , ২০১২ সালে গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন প্রকৌশলী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হবার সুবাদে সরকারি চাকরিতে বিসিএস পরীক্ষা বাইপাস করে উচ্চতর পদে নিয়োগ পান | বিসিএসের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও এসব ভাগ্যবান প্রকৌশলী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে সরাসরি ষষ্ট গ্রেডে নিয়োগ পেয়েছেন |

 

এ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএসের মতো কোনো প্রিলি কিংবা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি | বরং পিএসসি বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে এ সকল প্রকৌশলীর নাম সুপারিশ করে | বিজ্ঞজনের প্রশ্ন , কি এমন হলো যে কোন লিখিত ও প্রিলি ছাড়াই পিএসসিকে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে কর্মকর্তা সুপারিশ করতে হয়েছে ?

 

এ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাধ্য হয়ে নিয়োগের রায় প্রদান করেন এবং বাদী কর্মকর্তাদের পদসমূহ সংরক্ষণের আদেশ দেন |

এমনকি আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ সকল কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং পদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের উপরে তাদের জেষ্ঠ্যতা প্রদান করা হয়েছে |

 

চাকরিবিধি অনুযায়ী উচ্চতর পদে (নবম গ্রেডের উপর কোন পদে ) সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের কোন পদোন্নতির বিধি নেই | তাদের পদোন্নতি দিতে হলে নতুন করে তাদের জন্য বিধি তৈরী করতে হবে | অর্থাৎ , উচ্চতর কোন পদে সরাসরি নিয়োগ হলে সেটি মূলত ব্লক পদ হিসেবে বিবেচিত হয় | কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে |

 

এদিকে এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএ তে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন | অথচ , গণপূর্ত অধিদপ্তরে ২০১৬ সালে বাস্তবে যোগদান করলেও ব্যাক ডেট দিয়ে ২০১২ সালে যোগদান দেখিয়েছেন যা আদালত অবমাননার শামিল | তারা যে সময়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন সে সময়ে আদালতকর্তৃক নিয়োগের বিষয়ে স্থগিতাদেশ ছিল | এই ব্যাকডেটে যোগদান করে একদিকে আদালত অবমাননা করেছেন ,অন্যদিকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গণপূর্ত থেকে চার বছরের এককালীন বকেয়া টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন | ফলে রাষ্ট্রের টাকা তিনি দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একই সময়ে বেতন হিসেবে উত্তোলন করেছেন যা একটি চরম দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ |

 

আদালত অবমাননা করে স্থগিতাদেশের মধ্যে যোগদান করে বাস্তবে চাকরি না করে বকেয়া বেতন হিসেবে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদের একটি চরম দৃষ্টান্ত |

 

ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এসকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগের বিরুদ্ধে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন | মামলাটির শুনানি নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধে | এ সকল দুর্নীতির বিষয়ে শেখ হাসিনা , সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার , আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া , রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনসহ নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদককে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞজনেরা মত প্রকাশ করেছেন | তারা যে অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে চাকরি না করেই নিয়েছেন তা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমাদান করার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ মত দিয়েছেন | এছাড়াও তাদের পদোন্নতি কিভাবে হলো তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করতে দুদকের প্রতি তারা উম্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন |