ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী হোলি উৎসব ২০২৬, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রায়, নতুন কলেবরে কদমবাড়ী দিঘীর পাড়।  মাদারীপুরের রাজৈরে স্বচ্ছ সাংবাদিকতা,পেশাগত দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারাক্ষণ বার্তা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর, প্রাণবন্ত, ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল। মহাসড়কের সংরক্ষিত জায়গা দখল: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাকা–রংপুর ফোর লেন।! ইলিশ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা, চরম ভোগান্তিতে ভোলার লক্ষাধিক জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। গোদাগাড়ীতে র‍্যাবের অভিযান ৮ কেজি গান পাউডার ও কাঁচের গুঁড়া উদ্ধার। লুকিয়ে থাকা খামেনির অবস্থান যেভাবে খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল।

গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব, পদোন্নতি ও বিতর্ক— প্রশ্নের মুখে ই/এম বিভাগের এক প্রকৌশলী।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০১ জন সংবাদটি পড়েছেন

গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বহু সৎ ও দক্ষ প্রকৌশলী কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ দপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আশরাফুল ইসলাম।

দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি প্রায় আট বছর ধরে রাজধানীতে একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, যা সরকারি বদলি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো নির্বাহী প্রকৌশলীর তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকার কথা নয়। এমনকি ২০২১ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত উপদেষ্টার দপ্তর থেকেও দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত প্রকৌশলীদের বদলির নির্দেশনা জারি হয়েছিল। তবে আশরাফুল ইসলামের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট তাকে ভূতাপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপ-সচিব। পরে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে গণপূর্ত ই/এম সার্কেল–২ এ পদায়ন করা হয়। পদায়নে নির্বাচন কমিশনের সম্মতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে (স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.১৩০.১২.০০৩.১৮-০৬, তারিখ: ১৫/০১/২০২৬)। এই পদায়ন ঘিরে দপ্তরের অভ্যন্তরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার অধীনে কাজ করতে গেলে নিয়মের পাশাপাশি “ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা” গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাদের ভাষ্য, কিছু প্রকল্পে কাজ শুরুর পর কাগজে-কলমে টেন্ডার ও প্রাক্কলন সম্পন্ন করার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আলোচিত একটি দুর্নীতির ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছিল বলেও দপ্তর-সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। জানা গেছে, ওই ঘটনায় তিনি দুদকের একটি মামলার আসামি ছিলেন। তবে পরবর্তীতে বিভাগীয় ও দুদক-সংক্রান্ত মামলায় তিনি অব্যাহতি পান। অন্যদিকে একই ঘটনায় তৎকালীন এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাস্তির মুখে পড়লেও আশরাফুল ইসলাম বহাল থাকায় দপ্তরের ভেতরে বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মেরামত ও সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন তার অধীনে থাকায় দপ্তরে তার একটি প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ উঠলেও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এক জুনিয়র প্রকৌশলী বলেন,“দপ্তরে টিকে থাকতে হলে শুধু নিয়ম জানলেই হয় না, বাস্তবতাও বুঝতে হয়।”

সোহবানবাগ মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সিভিল বিভাগের এক প্রকৌশলীকে বদলি করা হলেও একই প্রকল্পে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আশরাফুল ইসলাম বহাল থাকেন— এমন অভিযোগও উঠেছে দপ্তরের অন্দরমহলে।

সচেতন মহলের মতে, এতসব অভিযোগ ও বিতর্কের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পাওয়া শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত। 

গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব, পদোন্নতি ও বিতর্ক— প্রশ্নের মুখে ই/এম বিভাগের এক প্রকৌশলী।

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বহু সৎ ও দক্ষ প্রকৌশলী কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ দপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আশরাফুল ইসলাম।

দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি প্রায় আট বছর ধরে রাজধানীতে একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, যা সরকারি বদলি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো নির্বাহী প্রকৌশলীর তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকার কথা নয়। এমনকি ২০২১ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত উপদেষ্টার দপ্তর থেকেও দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত প্রকৌশলীদের বদলির নির্দেশনা জারি হয়েছিল। তবে আশরাফুল ইসলামের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট তাকে ভূতাপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপ-সচিব। পরে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে গণপূর্ত ই/এম সার্কেল–২ এ পদায়ন করা হয়। পদায়নে নির্বাচন কমিশনের সম্মতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে (স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.১৩০.১২.০০৩.১৮-০৬, তারিখ: ১৫/০১/২০২৬)। এই পদায়ন ঘিরে দপ্তরের অভ্যন্তরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার অধীনে কাজ করতে গেলে নিয়মের পাশাপাশি “ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা” গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাদের ভাষ্য, কিছু প্রকল্পে কাজ শুরুর পর কাগজে-কলমে টেন্ডার ও প্রাক্কলন সম্পন্ন করার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আলোচিত একটি দুর্নীতির ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছিল বলেও দপ্তর-সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। জানা গেছে, ওই ঘটনায় তিনি দুদকের একটি মামলার আসামি ছিলেন। তবে পরবর্তীতে বিভাগীয় ও দুদক-সংক্রান্ত মামলায় তিনি অব্যাহতি পান। অন্যদিকে একই ঘটনায় তৎকালীন এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাস্তির মুখে পড়লেও আশরাফুল ইসলাম বহাল থাকায় দপ্তরের ভেতরে বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মেরামত ও সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন তার অধীনে থাকায় দপ্তরে তার একটি প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ উঠলেও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এক জুনিয়র প্রকৌশলী বলেন,“দপ্তরে টিকে থাকতে হলে শুধু নিয়ম জানলেই হয় না, বাস্তবতাও বুঝতে হয়।”

সোহবানবাগ মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সিভিল বিভাগের এক প্রকৌশলীকে বদলি করা হলেও একই প্রকল্পে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আশরাফুল ইসলাম বহাল থাকেন— এমন অভিযোগও উঠেছে দপ্তরের অন্দরমহলে।

সচেতন মহলের মতে, এতসব অভিযোগ ও বিতর্কের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পাওয়া শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।