নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ নৌপরিবহন অধিদপ্তরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা ভর করেছে।
৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর এই প্রতিষ্ঠানটিতে কোন প্রকার সংস্কারের হাত পড়েনি। ফলে আওয়ামী লীগের দোসররা এই প্রতিষ্ঠানে লোভনীয় পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে সাবেক একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা দায়িত্বশীল থাকলেও তাকে ভুল বুঝিয়ে একটার পর একটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী আদেশ জারি করা হচ্ছে।
এতে গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
এই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নৌবাহিনীর একজন করিৎকর্মা কর্মকর্তা হলেও তিনি আওয়ামী ঘরাণার কয়েকজন সার্ভেয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ফাইল ওয়ার্ক করছেন। ফলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকান্ড জনবান্ধব হতে পারছে না।
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ এই অধিদপ্তর থেকে একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারিকে নারায়ণগঞ্জ সার্ভে অফিসে প্রাইজ পোষ্টিং দেওয়া হয়েছে। যার স্মারক নং ১৮.১৭.০০০০.০০০.০২৯.১৮.০০০১.২২.৩৮ তাং ২৩/০১/২০২৬।এ নিয়ে অধিদপ্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সুত্রমতে এই তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর নাম আ ন ম শাহরিয়ার লস্কর। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লীগের নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক নৌ মন্ত্রী মোঃ শাহজাহান খান তাকে ছাত্রলীগ কোটায় চাকুরী দেন।
এই আ ন ম শাহরিয়ার লস্কর বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা প্রকার অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন।
এ সব বিষয় নিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে অনেকবার। এজন্য আওয়ামী লীগ আমলে তাকে চট্টগ্রামে বদলী করা হয়। এর আগে তিনি সদরঘাট সার্ভে অফিসে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা প্রকার দুর্নীতি করে ধরা পড়েন।
চট্টগ্রামে পোষ্টিং থাকাকালে কর্মস্থলে না গিয়ে ঢাকায় বসে বিভিন্ন নৌযান মালিকদের সাথে আড্ডা দিতেন। তাদের ফাইল নিয়ে তদবীর করতেন।
এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাকে প্রধান কার্যালয়ে বদলী করে আনা হয়।এখন সবার একটাই প্রশ্ন কোন খুঁটির জোরে এই স্বৈরাচারের দোসর, সাবেক ছাত্র লীগ নেতাকে বারবার প্রাইজ পোষ্টিং দেওয়া হচ্ছে?
নৌপরিবহন অধিদপ্তর কি আওয়ামী লীগের গ্রাসমুক্ত হবে না? এই অধিদপ্তরের কি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারন করে না?
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র, জনতা।
সারাক্ষণ ডেস্ক 
















