ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
রাজউক এর প্রধান প্রকৌশলী হতে চান মহা দুর্নীতিবাজ উজ্জ্বল মল্লিক   #পূর্বাচল প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। # দুদকে দুর্নীতির মামলা চলমান। # আওয়ামী লীগের দোসর। # হাসিনাপুত্র জয়ের টাকা পাচারকারি। টাঙ্গাইলে আম্র মুকুলের সুবাসে মাতোয়ারা জনপদ বসন্তের বার্তা, ভালো ফলনের আশায় কৃষক। বরিশাল বাবুগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত অন্তত ১০জন। গণপূর্তের ই/এম ডিভিশন–৮ ঘিরে নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতার অভিযোগ। ঈদের আগেই ফ্যামেলী কার্ড পাবে দেশের মানুষ: রাজৈরে মতবিনিময় সভায় জাহান্দার আলী মিয়া নব নির্বাচিত এমপি।  আওয়ামী লীগ আমলে চাকরি হারিয়ে  বিএনপি আমলে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আলী হোসেন ফকির! প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ৮৬ কেজি গাঁজাসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। দুর্নীতির মামলায় সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড। বায়োফার্মার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি: লকিয়তুল্লাহ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আমলনামা।

নেপথ্যে বিসিআইসি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালকের সেটেলমেন্ট: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ী ভাংগা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে বাফার ৫টি গুদাম নির্মাণের ৩০০ কোটি টাকার কাজ!।

  • রোস্তম মল্লিক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

২০১০ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি রাতারাতি ভাংগার জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নিজে প্রায় একডজন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ডেকেছিলেন। তন্মধ্যে অন্যরা আপত্তি জানালেও ‘মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন’ (এমএসসিএল) নিজের আগ্রহে স্ব-উদ্যোগে বাড়িটি ভেংগে মাত্র ১০ মাসের মধ্যে নতুন স্থাপনা তৈরীর কন্ট্রাক্ট সাইন করোছলেন।

সেই ফ্যাসিবাদের দোসর মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনকে বর্তমানে বিসিআইসি চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো: ফজলুর রহমান এবং বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মহাদুর্নীতিবাজ মো: মঞ্জুরুল হক বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের বিভিন্ন লটের ৫ জেলায় ৫ টি সার গুদাম নির্মাণের ঠিকাদারী কাজ দিয়েছেন। জেলাগুলো হলো-লালমনিরহাট,সিরাজগঞ্জ,জয়পুরহাট ও দিনাজপুর। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও কাজেরও সেটেলমেন্ট করে নেটিশ অব এ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন। যার মেমো নং ৩৬.০১.০০০.৯৬০.৩৭.০০৩.২৪/১৭০ তারিখ: ২২/০২/২০২৬। প্রতিটি গুদাম নির্মাণ বরাদ্দ ৬০ কোটি টাকার কিছু কমবেশি। তাহলে হিসাব করলে দাঁড়ায় ৩ শত কোট টাকার মত। বিশেষ চুক্তিতে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে রেটকোট ফাঁস করেছেন পিডি মো: মঞ্জুরুল হক। এই মঞ্জুরুল হকের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে ২০২৫ সালে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হলে শিল্প মন্ত্রণালয় থেেেক একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপূর্ব কুমার মন্ডল। এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, আজ থেকে প্রায় ৩/৪ মাস আগেই তদন্ত রিপোর্ট সচিবের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়নি।

দুদকের পদক্ষেপ হিমঘরে:

২০২৫ সালে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগের সুত্র ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন এর প্রধান কার্যালয় একটি তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। দুদক থেকে ৩ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। যে টিমের প্রধান ছিলেন উপ-পরিচালক মো: আজিজুল হক। সদস্য ছিলেন সহকারী পরিচালক মো: নাছরুল্লাহ ও উপসহকারী পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান । যার দুদক প্রধান কার্যালয় স্মারক নয়-০০.০১.০০০০.৫০৫.০১.১৯২-২৩-৩৪১৮৯ তারিখ: ০৩/০৭/৩০২৫ইং। দুদকের উপ-পরিচালক মো: আজিজুল হক ৪ দফা ডকুমেন্ট বা দলিলপত্র চেয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যানকে পত্রও দিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেটিও বিশেষ তদবীরে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন ফার্মের যতো অপকান্ড:

বিসিআইসি চেয়ারম্যান ও পিডি সেটেলমেন্টের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনকে একাধিক লটে ৮ টি সার গুদাম নির্মাণের যে কার্যাদেশ দিয়েছেন তার নেপথ্যে রয়েছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন। এই মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বালিশকান্ডে বেশ আলোচিত ছিলো। মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর ওয়েবসাইটের সূত্রে জানা যায়, তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট সিটি কর্পোরেশনে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করেছে। তখন এই প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণাধীন একটি ভবনের একাংশ ভেঙে পড়ে।

এই মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন রাজশাহীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রুয়েটের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তলা সাইন্স বিল্ডিং ও ১০তলা বিশিষ্ট শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হল নির্মাণ কাজ। এসব কাজ অতি নিন্মমানের হওয়ায় তার একটি ভেংগে পড়েছিল। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বালিশকান্ডে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে দুদক একাধিক মামলা দায়ের করে। এক মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেনকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে আটক থাকার পর হাইকোটের একটি বেঞ্চ থেকে জামিন পান। কিন্তু দুদক জামিনের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপীল করে। হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের শুনানি হয় ২৯ অক্টোবর। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তার জামিনের আদেশ স্থগিত করে আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

এর আগে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভবনে অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির এক মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেনকে জামিন দেন হাইকোর্ট। গত ২১ অক্টোবর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আসিফের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

প্রসঙ্গত,২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভবনে অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পাবনায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় আসিফ হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে দু’টি মামলায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪২ হাজার ও ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা বালিশকান্ড নামে পরিচিতি পেয়েছে।

তদন্ত করতে গিয়ে নিজেই ঢুকে পড়লেন দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে:

সব থেকে মজার বিষয় হলো বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয় নিয়ে ২০২৫ সালে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপূর্ব কুমার মন্ডলকে করা হয় তদন্ত কমিটির প্রধান। তিনি তদন্ত করতে গিয়ে প্রকল্পের “মাখন” খাওয়ার লোভে নিজেই দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে ঢুকে পড়েন। যা একটি নজিরবিহিন ঘটনা। এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ইজিপি শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই যদি দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটির সদস্য বনে যান তাহলে সেই তদন্তের আর কোন অর্থ থাকে না। ওটা শ্রেফ লোক দেখানো তদন্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এটা একটা ব্যাড প্রাকটিস। এজন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা “তিরস্কার” শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। একই সাথে ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্টও অগ্রহনযোগ্য।

বিসিআইসি চেয়ারম্যানের অঢেল সম্পদ:

চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো: ফজলুর রহমান বিসিআইসিতে যোগদান করেন গত ১৮ মে ২০২৫ তারিখে। এরপর তিনি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হাতে হাত মিলিয়ে নিজের আখের গোছাতে সচেষ্ট হন। নিয়োগ,বদলী,পদন্নোতি,কেনাকাটা,টেন্ডার প্রভৃতি খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আঁতাত করে মাত্র ৮ মাসে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তিনি ৫ আগষ্টের পর তার দেশের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ী নির্মাণ করছেন। এ ছাড়া তার ভাইয়ের নামে শিকদার ডিজিটাল ডায়াগনেস্টিক সেন্টার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যন্ত্রপাতি সহ এই প্রতিষ্ঠানের মুল্য কয়েক কোটি টাকা। এ ছাড়া রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কিনেছেন একাধিক ফ্ল্যাট।

চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য:

উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিআইসির চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ভাল বলতে পারবে। আপনি তার সাথে কথা বলুন। প্রকল্পের পরিচালক মো: মঞ্জুরুল হক বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন (এমএসসিএলকে) কাজ দেওয়া হয়েছে। এখানে নিয়মের কোন বত্যয় ঘটেনি। তার বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে বলেন,তদন্ত রিপোর্ট আমার পক্ষে হয়েছে তাই মন্ত্রণালয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি। দুদকের তদন্তের ব্যপারে বলেন, তারা যে সব দলিলপত্র,নথি ও তথ্য চেয়েছিল সেগুলো দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন দেশের একটি কুখ্যাত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একান্ত অনুগত লোক। তার বিরুদ্ধে দুদকে ও আদালতে দুর্র্নীতির মামলা চলমান রয়েছে। সর্বোপরি এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাংগার মত অমানবিক কাজটি হাসিমুখে করেছেন। মানবতা বিরোধী এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের শেকড় উপড়ে ফেলার মত জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দু:সাহস দেখিয়েছেন। এমন একটি কালপ্রিট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাফার ৮ টি গুদাম নির্মাণের কাজ দিয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও প্রকল্প পরিচালক মো: মঞ্জুরুল হক প্রমাণ করেছেন যে, তারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একান্ত লোক। বিএনপি বা শহীদ জিয়ার পরিবারের প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধা,মায়া-মমতা বা আনুগত্য নেই। তারা এখনো আওয়ামী ঘরাণার ঠিকাদারদের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন যাতে তারা আওয়ামী লীগকে তেল জল দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন। আবার দেশে লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেন সেটিই দেখার বিষয়।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজউক এর প্রধান প্রকৌশলী হতে চান মহা দুর্নীতিবাজ উজ্জ্বল মল্লিক   #পূর্বাচল প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। # দুদকে দুর্নীতির মামলা চলমান। # আওয়ামী লীগের দোসর। # হাসিনাপুত্র জয়ের টাকা পাচারকারি।

নেপথ্যে বিসিআইসি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালকের সেটেলমেন্ট: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ী ভাংগা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে বাফার ৫টি গুদাম নির্মাণের ৩০০ কোটি টাকার কাজ!।

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০১০ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি রাতারাতি ভাংগার জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নিজে প্রায় একডজন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ডেকেছিলেন। তন্মধ্যে অন্যরা আপত্তি জানালেও ‘মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন’ (এমএসসিএল) নিজের আগ্রহে স্ব-উদ্যোগে বাড়িটি ভেংগে মাত্র ১০ মাসের মধ্যে নতুন স্থাপনা তৈরীর কন্ট্রাক্ট সাইন করোছলেন।

সেই ফ্যাসিবাদের দোসর মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনকে বর্তমানে বিসিআইসি চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো: ফজলুর রহমান এবং বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মহাদুর্নীতিবাজ মো: মঞ্জুরুল হক বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের বিভিন্ন লটের ৫ জেলায় ৫ টি সার গুদাম নির্মাণের ঠিকাদারী কাজ দিয়েছেন। জেলাগুলো হলো-লালমনিরহাট,সিরাজগঞ্জ,জয়পুরহাট ও দিনাজপুর। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও কাজেরও সেটেলমেন্ট করে নেটিশ অব এ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন। যার মেমো নং ৩৬.০১.০০০.৯৬০.৩৭.০০৩.২৪/১৭০ তারিখ: ২২/০২/২০২৬। প্রতিটি গুদাম নির্মাণ বরাদ্দ ৬০ কোটি টাকার কিছু কমবেশি। তাহলে হিসাব করলে দাঁড়ায় ৩ শত কোট টাকার মত। বিশেষ চুক্তিতে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে রেটকোট ফাঁস করেছেন পিডি মো: মঞ্জুরুল হক। এই মঞ্জুরুল হকের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে ২০২৫ সালে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হলে শিল্প মন্ত্রণালয় থেেেক একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপূর্ব কুমার মন্ডল। এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, আজ থেকে প্রায় ৩/৪ মাস আগেই তদন্ত রিপোর্ট সচিবের দপ্তরে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়নি।

দুদকের পদক্ষেপ হিমঘরে:

২০২৫ সালে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগের সুত্র ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন এর প্রধান কার্যালয় একটি তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। দুদক থেকে ৩ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। যে টিমের প্রধান ছিলেন উপ-পরিচালক মো: আজিজুল হক। সদস্য ছিলেন সহকারী পরিচালক মো: নাছরুল্লাহ ও উপসহকারী পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান । যার দুদক প্রধান কার্যালয় স্মারক নয়-০০.০১.০০০০.৫০৫.০১.১৯২-২৩-৩৪১৮৯ তারিখ: ০৩/০৭/৩০২৫ইং। দুদকের উপ-পরিচালক মো: আজিজুল হক ৪ দফা ডকুমেন্ট বা দলিলপত্র চেয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যানকে পত্রও দিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেটিও বিশেষ তদবীরে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন ফার্মের যতো অপকান্ড:

বিসিআইসি চেয়ারম্যান ও পিডি সেটেলমেন্টের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনকে একাধিক লটে ৮ টি সার গুদাম নির্মাণের যে কার্যাদেশ দিয়েছেন তার নেপথ্যে রয়েছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন। এই মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বালিশকান্ডে বেশ আলোচিত ছিলো। মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর ওয়েবসাইটের সূত্রে জানা যায়, তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট সিটি কর্পোরেশনে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করেছে। তখন এই প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণাধীন একটি ভবনের একাংশ ভেঙে পড়ে।

এই মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন রাজশাহীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রুয়েটের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তলা সাইন্স বিল্ডিং ও ১০তলা বিশিষ্ট শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হল নির্মাণ কাজ। এসব কাজ অতি নিন্মমানের হওয়ায় তার একটি ভেংগে পড়েছিল। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বালিশকান্ডে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে দুদক একাধিক মামলা দায়ের করে। এক মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেনকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে আটক থাকার পর হাইকোটের একটি বেঞ্চ থেকে জামিন পান। কিন্তু দুদক জামিনের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপীল করে। হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের শুনানি হয় ২৯ অক্টোবর। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তার জামিনের আদেশ স্থগিত করে আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

এর আগে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভবনে অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির এক মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেনকে জামিন দেন হাইকোর্ট। গত ২১ অক্টোবর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আসিফের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

প্রসঙ্গত,২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভবনে অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পাবনায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় আসিফ হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে দু’টি মামলায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪২ হাজার ও ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা বালিশকান্ড নামে পরিচিতি পেয়েছে।

তদন্ত করতে গিয়ে নিজেই ঢুকে পড়লেন দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে:

সব থেকে মজার বিষয় হলো বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয় নিয়ে ২০২৫ সালে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপূর্ব কুমার মন্ডলকে করা হয় তদন্ত কমিটির প্রধান। তিনি তদন্ত করতে গিয়ে প্রকল্পের “মাখন” খাওয়ার লোভে নিজেই দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে ঢুকে পড়েন। যা একটি নজিরবিহিন ঘটনা। এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ইজিপি শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই যদি দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটির সদস্য বনে যান তাহলে সেই তদন্তের আর কোন অর্থ থাকে না। ওটা শ্রেফ লোক দেখানো তদন্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এটা একটা ব্যাড প্রাকটিস। এজন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা “তিরস্কার” শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। একই সাথে ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্টও অগ্রহনযোগ্য।

বিসিআইসি চেয়ারম্যানের অঢেল সম্পদ:

চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো: ফজলুর রহমান বিসিআইসিতে যোগদান করেন গত ১৮ মে ২০২৫ তারিখে। এরপর তিনি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হাতে হাত মিলিয়ে নিজের আখের গোছাতে সচেষ্ট হন। নিয়োগ,বদলী,পদন্নোতি,কেনাকাটা,টেন্ডার প্রভৃতি খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আঁতাত করে মাত্র ৮ মাসে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তিনি ৫ আগষ্টের পর তার দেশের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ী নির্মাণ করছেন। এ ছাড়া তার ভাইয়ের নামে শিকদার ডিজিটাল ডায়াগনেস্টিক সেন্টার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যন্ত্রপাতি সহ এই প্রতিষ্ঠানের মুল্য কয়েক কোটি টাকা। এ ছাড়া রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কিনেছেন একাধিক ফ্ল্যাট।

চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য:

উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিআইসির চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ভাল বলতে পারবে। আপনি তার সাথে কথা বলুন। প্রকল্পের পরিচালক মো: মঞ্জুরুল হক বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন (এমএসসিএলকে) কাজ দেওয়া হয়েছে। এখানে নিয়মের কোন বত্যয় ঘটেনি। তার বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে বলেন,তদন্ত রিপোর্ট আমার পক্ষে হয়েছে তাই মন্ত্রণালয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি। দুদকের তদন্তের ব্যপারে বলেন, তারা যে সব দলিলপত্র,নথি ও তথ্য চেয়েছিল সেগুলো দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন দেশের একটি কুখ্যাত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একান্ত অনুগত লোক। তার বিরুদ্ধে দুদকে ও আদালতে দুর্র্নীতির মামলা চলমান রয়েছে। সর্বোপরি এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাংগার মত অমানবিক কাজটি হাসিমুখে করেছেন। মানবতা বিরোধী এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের শেকড় উপড়ে ফেলার মত জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দু:সাহস দেখিয়েছেন। এমন একটি কালপ্রিট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাফার ৮ টি গুদাম নির্মাণের কাজ দিয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও প্রকল্প পরিচালক মো: মঞ্জুরুল হক প্রমাণ করেছেন যে, তারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একান্ত লোক। বিএনপি বা শহীদ জিয়ার পরিবারের প্রতি তাদের কোন শ্রদ্ধা,মায়া-মমতা বা আনুগত্য নেই। তারা এখনো আওয়ামী ঘরাণার ঠিকাদারদের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন যাতে তারা আওয়ামী লীগকে তেল জল দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন। আবার দেশে লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেন সেটিই দেখার বিষয়।