ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী হোলি উৎসব ২০২৬, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রায়, নতুন কলেবরে কদমবাড়ী দিঘীর পাড়।  মাদারীপুরের রাজৈরে স্বচ্ছ সাংবাদিকতা,পেশাগত দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারাক্ষণ বার্তা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর, প্রাণবন্ত, ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল। মহাসড়কের সংরক্ষিত জায়গা দখল: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাকা–রংপুর ফোর লেন।! ইলিশ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা, চরম ভোগান্তিতে ভোলার লক্ষাধিক জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। গোদাগাড়ীতে র‍্যাবের অভিযান ৮ কেজি গান পাউডার ও কাঁচের গুঁড়া উদ্ধার। লুকিয়ে থাকা খামেনির অবস্থান যেভাবে খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল।

মইনুল রোডে খালেদা জিয়ার সেই বাড়ি ভেঙে ছিল কারা?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭২ জন সংবাদটি পড়েছেন

২০১০ সালের গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর প্রথম পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বাড়িটি থেকে খালেদা জিয়ার প্রতিনিধিরা সব মালামাল সরিয়ে নেন। বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ মালামাল বুঝে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড়িটি ভেঙে ফেলার আগে সব কিছুই ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।গত ডিসেম্বরেই সেনাসদর ওই বাড়ি ভেঙে সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পায়। সূত্র জানায়, ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সেখানে মেজর থেকে লে. কর্নেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তারা পরিবারসহ বসবাসের সুযোগ পাবেন এবং এর মাধ্যমে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. নাজমুস সাদাত সেলিম বলেন, ‘ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ঘটনা ছাড়া সেখানে কী ধরনের এবং কাদের জন্য ভবন নির্মাণ হতে যা”েছ সে বিষয়ে তেমন কিছু আমার জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের মইনুল রোডের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়াকে লিজ দেন। সেনা সদরের ৬ নম্বর শহীদ মইনুল রোডে ২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর ¯’াপিত বাড়িটি বছরে এক টাকা খাজনা দেওয়ার শর্তে লিজ দেওয়া হয়। প্রতিবছর খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ফলের গাছসহ অন্য কোনো গাছ না কাটা, খনিজসম্পদ পাওয়া গেলে তা উত্তোলন না করা, বাড়ির পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না করা, অন্য কারো কাছে বিক্রি বা লিজ বা বন্ধক না দেওয়া ও সম্পত্তি বিভক্ত না করার শর্তে এই লিজ দেওয়া হয়। তবে তার আগে থেকেই খালেদা জিয়া তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

হাসিনা-সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের ৮ এপ্রিল মন্ত্রিসভা খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের এই বাড়িটির ইজারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া নিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত জানার পর আইনগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়তে সামরিক ভূসম্পত্তি প্রশাসক গত বছরের ২০ এপ্রিল নোটিশ দেন। এই নোটিশে বাড়ি বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গের পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে ১৫ দিনের মধ্যে জমি ও বাড়ির দখল সরকারের পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসারের কাছে প্রত্যর্পণ করতে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়। ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট গত ১৩ অক্টোবর ওই রিট খারিজ করে রায় দেন এবং খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত। 

মইনুল রোডে খালেদা জিয়ার সেই বাড়ি ভেঙে ছিল কারা?

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০১০ সালের গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর প্রথম পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বাড়িটি থেকে খালেদা জিয়ার প্রতিনিধিরা সব মালামাল সরিয়ে নেন। বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ মালামাল বুঝে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড়িটি ভেঙে ফেলার আগে সব কিছুই ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।গত ডিসেম্বরেই সেনাসদর ওই বাড়ি ভেঙে সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পায়। সূত্র জানায়, ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সেখানে মেজর থেকে লে. কর্নেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তারা পরিবারসহ বসবাসের সুযোগ পাবেন এবং এর মাধ্যমে সেনা কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. নাজমুস সাদাত সেলিম বলেন, ‘ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ঘটনা ছাড়া সেখানে কী ধরনের এবং কাদের জন্য ভবন নির্মাণ হতে যা”েছ সে বিষয়ে তেমন কিছু আমার জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের মইনুল রোডের ওই বাড়িটি খালেদা জিয়াকে লিজ দেন। সেনা সদরের ৬ নম্বর শহীদ মইনুল রোডে ২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর ¯’াপিত বাড়িটি বছরে এক টাকা খাজনা দেওয়ার শর্তে লিজ দেওয়া হয়। প্রতিবছর খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ফলের গাছসহ অন্য কোনো গাছ না কাটা, খনিজসম্পদ পাওয়া গেলে তা উত্তোলন না করা, বাড়ির পরিবর্তন বা পরিবর্ধন না করা, অন্য কারো কাছে বিক্রি বা লিজ বা বন্ধক না দেওয়া ও সম্পত্তি বিভক্ত না করার শর্তে এই লিজ দেওয়া হয়। তবে তার আগে থেকেই খালেদা জিয়া তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

হাসিনা-সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের ৮ এপ্রিল মন্ত্রিসভা খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের এই বাড়িটির ইজারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া নিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত জানার পর আইনগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়তে সামরিক ভূসম্পত্তি প্রশাসক গত বছরের ২০ এপ্রিল নোটিশ দেন। এই নোটিশে বাড়ি বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গের পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে ১৫ দিনের মধ্যে জমি ও বাড়ির দখল সরকারের পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসারের কাছে প্রত্যর্পণ করতে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়। ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট গত ১৩ অক্টোবর ওই রিট খারিজ করে রায় দেন এবং খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন।