নাম বিশ্বজিৎ ওরফে বিশ্ব মহুরি। বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার ইছাখাদা গ্রামে। মাগুরা জেলা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী সহকারী ( মহুরী) হিসেবে কর্মরত।
ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের আমলে তার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক অর্থ সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
কথিত আছে যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মাগুরার বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা অবৈধ অর্থ সম্পদ এই বিশ্বজিৎ মহুরীর কাছে গচ্ছিত রাখেন।
বিশেষ করে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু পঙ্কজ কুমার কুন্ডুর ক্যাশিয়ার কাম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন এই বিশ্বজিত মহুরী।
ততসময়ে পঙ্কজ কুমার কুন্ডুর যাবতীয় ব্যবসা বাণিজ্য ও কমিশনের টাকা বিশ্বজিৎ এর কাছে জমা হতো। এ ছাড়া নিয়োগ ও তদবির বাণিজ্য করতেন।
কথিত আছে আওয়ামী লীগ আমলের অবৈধ টাকা দিয়ে বিশ্বজিৎ তার গ্রামের বাড়িতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
মাগুরা শহরের জজ কোর্টের সামনে কলেজ পাড়ায় ৫ তলা একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন।
একাধিক বাস ক্রয় করে পরিবহন ব্যবসা করছেন। তার শ্বশুর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালিগন্জে ৫০/৬০ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। কিছুদিন আগে একটি সরকারী দপ্তর থেকে এক বিএনপি নেতার সহযোগীতায় ৫৫ লাখ টাকার ঠিকাদারি বিল তুলে নিয়েছেন।
কিছুদিন পুর্বে ইছাখাদা নতুন বাজারে ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি দোতলা একটি মার্কেট ক্রয় করেছেন। মাগুরা শহর ও ইছাখাদায় আরো কয়েক একর জমিও ক্রয় করেছেন।
গত বছর জুন মাসে শক্রজিৎপুরে ২৬ শতক জমি কিনেছেন যার মুল্য ২ কোটি ২১ লক্ষ টাকা।
মাগুরার অনেক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের টাকা তার নিকট রক্ষিত আছে বলে শোনা যাচ্ছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে বিশ্বজিৎ ও মাগুরা থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে প্রায় এক বছর পালিয়ে থেকে জেলা বিএনপির একজন নেতাকে মোটা অংকের টাকা নজরানা দিয়ে মাগুরায় ফিরে এসে এখন আবার জেলা জজ আদালতে মহুরীর কাজ করছেন।
প্রশ্ন হলোঃ জেলা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী সহকারী ( মহুরী) হয়ে তিনি এতে টাকা ও সম্পদ কিভাবে অর্জন করলেন?
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশ্বজিৎ এর মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপ কামনা করেছেন মাগুরাবাসী।
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি 



















