আজ( ১৮ জানুয়ারি,২৬) বুধবার মাগুরা সদর থানায় মো. বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়ভীতির অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেছেন সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ। আবেদনপত্রে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বড়খড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, এ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে এবং এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও তসরুপের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তে এসব বিষয় যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঔষধ ও কসমেটিকস পণ্য উৎপাদন, আমদানি, মজুত ও বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা Drugs Act, 1940 এবং Drugs (Control) Ordinance, 1982 অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। একই সঙ্গে ভেজাল পণ্য বা ঔষধ বিক্রয়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্কসহ অন্যান্য সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্তসাপেক্ষ।
ভূমি বিক্রয়ের পর ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ এনে বলা হয়, এটি তুমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩–এর ৯ ধারায় দণ্ডনীয় হতে পারে।
সবশেষে আবেদনকারী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ৫০৩ ও ৫০৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে মানববন্ধন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী যাচাই–বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত মো. বাবুল আখতারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী। স্থানীয়দের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে জনমনে আস্থা ফিরবে।
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি 


















