হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার ‘শান্তি নিবাস’ বৃদ্ধাশ্রমে নীরব এক অপেক্ষার জীবন কাটছে নুরজাহান বেগমের। ৬০ পেরোনো এই নারী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে।
জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার হারোকান্দি গ্রামে তার জন্ম। মাত্র নয় বছর বয়সে বাবাকে হারান নুরজাহান। কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান তার মা। এরপর বড় বোনের সংসারেই বড় হন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই পায়ের গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন নুরজাহান বেগম। পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকা ও ব্যথার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা কাজ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এই কারণেই তিনি বিয়ে করেননি।
সময়ের সঙ্গে বোনের সংসার বড় হতে থাকলে নিজেকে সেখানে বোঝা মনে হতে থাকে তার। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে আসা হয় টেপাখোলার শান্তি নিবাস বৃদ্ধাশ্রমে। বর্তমানে সেখানেই ছোট একটি কক্ষে দিন কাটছে তার।
মাঝেমধ্যে বোনের পরিবারের কেউ এসে দেখা করেন বা ফোনে খোঁজ নেন—এই সামান্য যোগাযোগই তার কাছে বড় সান্ত্বনা। বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে তিনি প্রায়ই রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন, যদি কোনো পরিচিত মুখ এসে দাঁড়ায়।
নুরজাহান বেগম বলেন, “এই বৃদ্ধাশ্রমই এখন আমার ঘর। মাঝে মাঝে মনে হয়—হয়তো কোনোদিন চেনা কেউ এসে আমাকে নিয়ে যাবে।”
এভাবেই স্মৃতি আর অপেক্ষাকে সঙ্গী করে জীবনের শেষ সময়গুলো পার করছেন নুরজাহান বেগম।
ফরিদপুর প্রতিনিধি 

















