ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুর ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের তাণ্ডব, নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে মব বা জনতা তৈরি করে নিয়োগ পরীক্ষার নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) বিকেল চারটার দিকে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদের নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী হঠাৎ ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করেন।

উক্ত দলে উপজেলা বিএনপির নেতা ইরফান আলী, যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক এবং মোখলেসুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা শুরুতেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অবৈধ ও ‘নিয়োগ-বাণিজ্য’ হচ্ছে বলে দাবি তুলে তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইউএনও রায়হানুল ইসলামের সাথে কথা বলছেন। জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি মহাসচিবের সাথে কথা বলে তবেই গাড়িতে উঠেছি। আপনি রাতের বেলা অফিসে ক্লায়েন্ট নিয়ে এসে বাণিজ্য করছেন।”

জবাবে ইউএনও শান্তভাবে বলেন, “অফিস আমাদের ২৪/৭ (চব্বিশ ঘণ্টা)। আমি কখন অফিস করব তা একান্তই আমার বিষয়।”

তর্কাতর্কির একপর্যায়ে জামাল উদ্দিন রাজনৈতিক হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের আপনি নিয়োগ দেবেন, আর আমরা কি ললিপপ চুষব? এটা তো হবে না।” জবাবে ইউএনও পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, নিয়োগে কোনো অবৈধতা থাকলে তারা যথাযথ বোর্ডে অভিযোগ না করে কেন এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

বাকবিতণ্ডার চূড়ান্ত পর্যায়ে বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনের নির্দেশে উপস্থিত কর্মীরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলী এবং কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের ওপর চড়াও হন। তারা জোরপূর্বক নিয়োগ পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নপত্র এবং রেজাল্ট শিটসহ যাবতীয় নথিপত্র ছিনিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ আবেগাপ্লুত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “তারা আমার কাছ থেকে খাতা-পত্র কেড়ে নিলে আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি ফেরত দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনেই সব নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।”

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ইউএনও গোপনে টাকা খেয়ে চারজনকে নিয়োগ দিচ্ছিলেন, তাই সাধারণ কর্মীরা এর প্রতিবাদ করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ছিনিয়ে নেওয়া কাগজপত্র পরে ইউএনও অফিসের ভেতরেই ফেলে আসা হয়েছিল।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক মব তৈরি করে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং নথিপত্র লুট করেছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আমরা এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুর ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের তাণ্ডব, নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে মব বা জনতা তৈরি করে নিয়োগ পরীক্ষার নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) বিকেল চারটার দিকে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদের নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী হঠাৎ ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করেন।

উক্ত দলে উপজেলা বিএনপির নেতা ইরফান আলী, যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক এবং মোখলেসুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা শুরুতেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অবৈধ ও ‘নিয়োগ-বাণিজ্য’ হচ্ছে বলে দাবি তুলে তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইউএনও রায়হানুল ইসলামের সাথে কথা বলছেন। জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি মহাসচিবের সাথে কথা বলে তবেই গাড়িতে উঠেছি। আপনি রাতের বেলা অফিসে ক্লায়েন্ট নিয়ে এসে বাণিজ্য করছেন।”

জবাবে ইউএনও শান্তভাবে বলেন, “অফিস আমাদের ২৪/৭ (চব্বিশ ঘণ্টা)। আমি কখন অফিস করব তা একান্তই আমার বিষয়।”

তর্কাতর্কির একপর্যায়ে জামাল উদ্দিন রাজনৈতিক হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের আপনি নিয়োগ দেবেন, আর আমরা কি ললিপপ চুষব? এটা তো হবে না।” জবাবে ইউএনও পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, নিয়োগে কোনো অবৈধতা থাকলে তারা যথাযথ বোর্ডে অভিযোগ না করে কেন এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

বাকবিতণ্ডার চূড়ান্ত পর্যায়ে বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনের নির্দেশে উপস্থিত কর্মীরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলী এবং কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের ওপর চড়াও হন। তারা জোরপূর্বক নিয়োগ পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নপত্র এবং রেজাল্ট শিটসহ যাবতীয় নথিপত্র ছিনিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ আবেগাপ্লুত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “তারা আমার কাছ থেকে খাতা-পত্র কেড়ে নিলে আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি ফেরত দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনেই সব নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।”

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ইউএনও গোপনে টাকা খেয়ে চারজনকে নিয়োগ দিচ্ছিলেন, তাই সাধারণ কর্মীরা এর প্রতিবাদ করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ছিনিয়ে নেওয়া কাগজপত্র পরে ইউএনও অফিসের ভেতরেই ফেলে আসা হয়েছিল।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক মব তৈরি করে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং নথিপত্র লুট করেছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আমরা এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”