ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দীন। শেখ সেলিমের একান্ত লোক এখন সারজিস আলমের ডোনার:  নৌপরিবহন অধিদপ্তরে শীপ সার্ভেয়ার মাহবুবুর রশীদ মুন্নার দুর্নীতির রাজত্ব চলছে। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত। প্রকৌশলীকে বদলী করার ক্ষমতা নাকি মন্ত্রী ও সচিবের নেই: মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এক প্রকৌশলীর ৬ বছরের দুর্নীতির রাজত্ব! শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র পৃথক দুই অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ আটক ১। ধামরাই গ্যাসের বিস্ফোরণে দম্পতি দগ্ধ, স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মুজিবের বাসায় গুলি: লুট হওয়া অস্ত্রসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। মালিক বিহীন ২২ বোতল ভারতীয় মদ আটক। লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আগামীর বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের আশু সংস্কার প্রয়োজন।

শেখ সেলিমের একান্ত লোক এখন সারজিস আলমের ডোনার:  নৌপরিবহন অধিদপ্তরে শীপ সার্ভেয়ার মাহবুবুর রশীদ মুন্নার দুর্নীতির রাজত্ব চলছে।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৩২ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলাদেশ মেরিন সেক্টরের দুর্নীতির রাজপুত্র বলা হয় নায়ক কাম শীপ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্নাকে। এই মুন্না ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ছিলেন শেখ সেলিমের একান্ত লোক।৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন জামায়াতের আশ্রয় লাভ করলেও পরবর্তীতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে গোটা ইন্টেরিম সরকার আমলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে আতংক সৃষ্টি করেন। কেবল আতংকই নয়, মহাপরিচালককে হাতের মুঠিতে রেখে সমানে অনিয়ম-দুর্নীতি করতে থাকেন। এক সময় তিনি অধিদপ্তরের চীপ ইঞ্জিনিয়ার পদে পদন্নোতি বাগিয়ে নিতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের পেছনে কোটি টাকার ওপরে খরচ করেন। পঞ্চগড়ে গিয়ে সারজিস আলমের জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। সারজিস ও তার দলীয় নেতা কর্মীদের হজ¦ করার খরচ দেন। নিজেও তাদের সাথে হজ¦ করেন। কিন্তু এতো কিছু করার পরও তিনি চীফ ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন নি। খামাখায় তার টাকাগুলো জলে গিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে সারজিস আলম হেরে যাওয়ায় ভীষণ মন খারাপ শীপ সার্ভেয়ার কাম ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্নার। এখন তিনি বিএনপির রোসানলে পড়তে যাচ্ছেন। অতীতে যে সব অনিয়ম ও দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়েছেন সেই পাহাড়ে ধ্বস নামতে শুরু করেছে।

মাহবুবুর রশিদ মুন্নার আমলনামা:তিনি একজন সমুদ্রগামী জাহাজের চীফ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার ফুল সিটাইম কেটেছে পতেংগা টু চিটাগং পোর্ট এ! ফ্রেশ ওয়াটার চীফ ইঞ্জিনিয়ার! হটাৎ একদিন তার মনে হলো জাহাজের চাকুরি আর ভালো লাগছে না। বিএসসির বেতনে তার পোষাচ্ছেও না, তাই তিনি ভাবলেন অফিসিয়াল কোন চাকুরি নেওয়া যাক! যেই কথা সেই কাজ! সে সময় আওয়ামীলীগের আমল ছিল! তিনি তার লীগের লবিং ইউজ করে, তৎকালীন নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খানকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে বাগিয়ে নিলেন নৌ অধিদপ্তরের একটি হটপোস্ট। যেখানে মানা হয়নি সরকারী চাকুরীর নিয়োগের কোন নিয়মাবলী! অনেক মেধাবী ক্যান্ডিডেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রথম শ্রেনীর চাকুরীটি বাগিয়ে নেন আওয়ামী কানেকশনে।

পদবীতে নৌ অধিদপ্তরের একজন নৌযান সার্ভেয়ার কাম ইঞ্জিনিয়ার।পোস্টিং তার নারায়নগঞ্জে। তিনি শুধু নামেই সার্ভেয়ার কাজে তিনি অফিসম্যান! অফিসে বসেই তিনি অভ্যন্তরীণ জাহাজের সার্ভে সনদ, ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যু করে দেন টাকার বিনিময়ে । জাহাজ প্রতি ২/৩ লাখ টাকা তার রেট। তার বিরুদ্ধে দুদকেও কয়েকটি অভিযোগ তদন্তাধিন রয়েছে। টাকার বিনিময়ে আনফিট নৌযানকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার দরুন অভ্যন্তরীণ নদীতে বেশ কিছু নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। যা একজন নৌযান সার্ভেয়ার হিসেবে মুন্নার উপর বর্তায়! সেরকম কিছু অভিযোগও দুদক এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে তদন্তাধিন রয়েছে।

সুত্রমতে,কলেজ জীবনে ছাত্রলীগ করা মাহবুবুর রশিদ মুন্না এখন আর নারায়নগঞ্জে চাকুরী করতে চান না। তার মন পড়ে থাকে ঢাকায়। তাই তিনি নিজেকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে বদলি করে নিয়ে আসতে চান। তাই বিভিন্ন জামায়াত নেতার সাথে তদবির করে ৬ কোটি টাকা অফার করেন। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অধিদপ্তরের “চীফ ইঞ্জিনিয়ার এবং শিপ সার্ভেয়ার” পদে কর্মরত চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীরকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চিটাগং মেরিন একাডেমিতে কমান্ডেন্ট হিসেবে বদলি করে দেন। চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীর একজন সৎ ন্যায়পরায়ণ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তাকে সরিয়ে দিলেও মুন্নার ভাগ্যে শিকে ছিড়েনি! সেই পদে নিয়োগ পান চীফ ইঞ্জিনিয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।

মাহবুবুর রশিদ মুন্না যতো অবৈধ সম্পদ: শীপ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্নার ঢাকার আবাস্থল আফতাব নগরে। সেখানে লীগের আমলে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন, সেটার নাম দিয়েছিলেন তিনি “চেতনা ৭১”! ৫ ই আগষ্টের পর সে নাম চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।আফতাব নগরে ঢোকার মুখেই ইষ্ট ওয়েষ্ট প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি নামক একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে। মুন্না মানব দরদি একজন মানুষ! লীগের আমলের কথা। যেহেতু তিনি আফতাব নগরের একজন স্থায়ী বাসিন্দা তাই তিনি ইষ্ট ওয়েষ্টে পড়ুয়া আর্থিকভাবে দুর্বল এবং সেমিস্টার ফি না দিতে পারা সুন্দরী ছাত্রীদের কর্মসংস্থান করতেন। প্লেস সেই চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ”চেতনা ৭১”! আওয়ামীলীগের নেতা, ছাত্রলীগের নেতা, বড় বড় অফিসারদের বেডে ঐ সুন্দরী গরীব মেয়েদের কর্মসংস্থান করে দিতেন। ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের বিনিময়ে মেয়েরা ১০/২০ হাজার টাকা চার্জ করতো। মিডলম্যান হিসেবে মুন্না কোন টাকা নিতেন না বরং নেতা এবং সরকারী কর্মকর্তাদের থেকে বিভিন্ন তদবীর করিয়ে নিতেন। আফতাব নগরে ৫ কাঠার প্লটে একটি দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন মুন্না। এই বাড়ির দাম কতো? সেটা অনুমান করলেই বোঝা যায়। এ ছাড়া তিনি ২ টা চাইনিজ রেষ্টরেন্টেরও মালিক। শোনা যায় তিনি শেয়ারে কয়েকটা শীপও ক্রয় করেছেন। এগুলোর দাম কয়েক কোটি টাকা। ২ টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তাতে খরচ করেছেন কয়েক কোটি টাকা। সারজিস আলমের পেছনে খরচ করেছেন কয়েক কোটি টাকা। সব মিলিয়ে তিনি যে, শত কোটি টাকার মালিক তা বলাই যায়। প্রশ্ন হলো: এতো টাকা ও সম্পদ তিনি পেলেন কোথায়?

একবার মুন্নার শখ হলো তিনি নায়ক হবেন। সিনেমা বানাবেন! যেই ভাবা সেই কাজ! তিনি শখ পূরণ করতে দেড় কোটি টাকা খরচ করে একটা অখাদ্য সিনেমা বানালেন, নাম “ধূসর কুয়াসা!” সে সিনেমায় তিনি নায়কের রোল করলেন! তখন লীগের আমল। শেখ সেলিমের শিপিং বিজনেস তখন তিনি দেখা শোনা করতেন। শেখ সেলিম যাবতীয় ডকুমেন্টেশন থেকে শুরু করে হিসাব নিকাশের জন্য সব চীফ ইঞ্জিনিয়ার মুন্নার উপর ভরসা করতেন। গুরু শেখ সেলিমের সুপারিসে নায়িকা হিসবে নিয়োগ দিলেন শেখ সেলিমের গার্লফ্রেন্ড নায়িকা নিপুণকে! সে অখাদ্য সিনেমা তো আর চলে না, দর্শক নাই! নায়ক মুন্না করলেন কি- ইনল্যান্ড ভেসেলের যে সকল মালিক শ্রমিক যারা বিভিন্ন সার্টিফিকেট এবং ডকুমেন্টেশনের জন্য তার কাছে ধরা তাদেরকে আদেশ দিলেন লোক ভাড়া করে সিনেমা হলে আনার জন্য! কিন্তু তাও সিনেমা ফ্লপ! তার ধুসর কুয়াসা সিনেমায় একটাই ভালো জিনিস ছিলো। সেটা হলো: আইটেম সং! গানের লিরিক্সটা এমন-“জালাইলে যে জ্বলে আগুন নিভানো ভিষম দায়, আগুন জালাইস না মোর গায়”!

৫ই আগষ্টের পর লীগের সব অপকর্মের সাথীরা ধরা খেলেও টাকা এবং ইষ্ট ওয়েস্টের সুন্দরীদের জোরে শীপ ইঞ্জিনিয়ার মুন্না থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জামায়তের কাছে পাত্তা না পেয়ে এখন ছাত্র নেতা সার্জিস আলমের সাথে লিঁয়াজো করে সার্ভাইব করতে চাচ্ছেন। সেজন্য বেশুমার টাকা ঢালছেন সার্জিসের পিছনে।একজন প্রতিষ্ঠিত দুনীর্তিবাজ সরকারী কর্মকর্তার স্পন্সরে ওমরাহ করে এসেছেন সার্জিস ও তার দলের কয়েকজন। ছাত্র নেতা সার্জিসের ফুল টিমকে নিয়ে উমরাহ করানোর খরচ কত পড়েছে? তাদের প্লেন ফেয়ার কত টাকা গিয়েছে? ফাইভ স্টারে এতোগুলো মানুষের থাকা খাওয়ায় কত টাকা ইনভেষ্ট করেছেন নায়ক কাম শীপ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্না? সেটা এখন জাতি জানতে চায়। এমন একজন মহাদুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কিভাবে এখনো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সরকারি চাকুরীতে বহাল রয়েছেন সেটাই এখন গোটা জাতির প্রশ্ন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।

শেখ সেলিমের একান্ত লোক এখন সারজিস আলমের ডোনার:  নৌপরিবহন অধিদপ্তরে শীপ সার্ভেয়ার মাহবুবুর রশীদ মুন্নার দুর্নীতির রাজত্ব চলছে।

আপডেট সময় : ১১:৩০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ মেরিন সেক্টরের দুর্নীতির রাজপুত্র বলা হয় নায়ক কাম শীপ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্নাকে। এই মুন্না ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ছিলেন শেখ সেলিমের একান্ত লোক।৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন জামায়াতের আশ্রয় লাভ করলেও পরবর্তীতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে গোটা ইন্টেরিম সরকার আমলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে আতংক সৃষ্টি করেন। কেবল আতংকই নয়, মহাপরিচালককে হাতের মুঠিতে রেখে সমানে অনিয়ম-দুর্নীতি করতে থাকেন। এক সময় তিনি অধিদপ্তরের চীপ ইঞ্জিনিয়ার পদে পদন্নোতি বাগিয়ে নিতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের পেছনে কোটি টাকার ওপরে খরচ করেন। পঞ্চগড়ে গিয়ে সারজিস আলমের জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। সারজিস ও তার দলীয় নেতা কর্মীদের হজ¦ করার খরচ দেন। নিজেও তাদের সাথে হজ¦ করেন। কিন্তু এতো কিছু করার পরও তিনি চীফ ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন নি। খামাখায় তার টাকাগুলো জলে গিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে সারজিস আলম হেরে যাওয়ায় ভীষণ মন খারাপ শীপ সার্ভেয়ার কাম ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্নার। এখন তিনি বিএনপির রোসানলে পড়তে যাচ্ছেন। অতীতে যে সব অনিয়ম ও দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়েছেন সেই পাহাড়ে ধ্বস নামতে শুরু করেছে।

মাহবুবুর রশিদ মুন্নার আমলনামা:তিনি একজন সমুদ্রগামী জাহাজের চীফ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার ফুল সিটাইম কেটেছে পতেংগা টু চিটাগং পোর্ট এ! ফ্রেশ ওয়াটার চীফ ইঞ্জিনিয়ার! হটাৎ একদিন তার মনে হলো জাহাজের চাকুরি আর ভালো লাগছে না। বিএসসির বেতনে তার পোষাচ্ছেও না, তাই তিনি ভাবলেন অফিসিয়াল কোন চাকুরি নেওয়া যাক! যেই কথা সেই কাজ! সে সময় আওয়ামীলীগের আমল ছিল! তিনি তার লীগের লবিং ইউজ করে, তৎকালীন নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খানকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে বাগিয়ে নিলেন নৌ অধিদপ্তরের একটি হটপোস্ট। যেখানে মানা হয়নি সরকারী চাকুরীর নিয়োগের কোন নিয়মাবলী! অনেক মেধাবী ক্যান্ডিডেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রথম শ্রেনীর চাকুরীটি বাগিয়ে নেন আওয়ামী কানেকশনে।

পদবীতে নৌ অধিদপ্তরের একজন নৌযান সার্ভেয়ার কাম ইঞ্জিনিয়ার।পোস্টিং তার নারায়নগঞ্জে। তিনি শুধু নামেই সার্ভেয়ার কাজে তিনি অফিসম্যান! অফিসে বসেই তিনি অভ্যন্তরীণ জাহাজের সার্ভে সনদ, ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যু করে দেন টাকার বিনিময়ে । জাহাজ প্রতি ২/৩ লাখ টাকা তার রেট। তার বিরুদ্ধে দুদকেও কয়েকটি অভিযোগ তদন্তাধিন রয়েছে। টাকার বিনিময়ে আনফিট নৌযানকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার দরুন অভ্যন্তরীণ নদীতে বেশ কিছু নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। যা একজন নৌযান সার্ভেয়ার হিসেবে মুন্নার উপর বর্তায়! সেরকম কিছু অভিযোগও দুদক এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে তদন্তাধিন রয়েছে।

সুত্রমতে,কলেজ জীবনে ছাত্রলীগ করা মাহবুবুর রশিদ মুন্না এখন আর নারায়নগঞ্জে চাকুরী করতে চান না। তার মন পড়ে থাকে ঢাকায়। তাই তিনি নিজেকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে বদলি করে নিয়ে আসতে চান। তাই বিভিন্ন জামায়াত নেতার সাথে তদবির করে ৬ কোটি টাকা অফার করেন। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অধিদপ্তরের “চীফ ইঞ্জিনিয়ার এবং শিপ সার্ভেয়ার” পদে কর্মরত চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীরকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চিটাগং মেরিন একাডেমিতে কমান্ডেন্ট হিসেবে বদলি করে দেন। চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীর একজন সৎ ন্যায়পরায়ণ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তাকে সরিয়ে দিলেও মুন্নার ভাগ্যে শিকে ছিড়েনি! সেই পদে নিয়োগ পান চীফ ইঞ্জিনিয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।

মাহবুবুর রশিদ মুন্না যতো অবৈধ সম্পদ: শীপ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্নার ঢাকার আবাস্থল আফতাব নগরে। সেখানে লীগের আমলে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন, সেটার নাম দিয়েছিলেন তিনি “চেতনা ৭১”! ৫ ই আগষ্টের পর সে নাম চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।আফতাব নগরে ঢোকার মুখেই ইষ্ট ওয়েষ্ট প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি নামক একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে। মুন্না মানব দরদি একজন মানুষ! লীগের আমলের কথা। যেহেতু তিনি আফতাব নগরের একজন স্থায়ী বাসিন্দা তাই তিনি ইষ্ট ওয়েষ্টে পড়ুয়া আর্থিকভাবে দুর্বল এবং সেমিস্টার ফি না দিতে পারা সুন্দরী ছাত্রীদের কর্মসংস্থান করতেন। প্লেস সেই চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ”চেতনা ৭১”! আওয়ামীলীগের নেতা, ছাত্রলীগের নেতা, বড় বড় অফিসারদের বেডে ঐ সুন্দরী গরীব মেয়েদের কর্মসংস্থান করে দিতেন। ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের বিনিময়ে মেয়েরা ১০/২০ হাজার টাকা চার্জ করতো। মিডলম্যান হিসেবে মুন্না কোন টাকা নিতেন না বরং নেতা এবং সরকারী কর্মকর্তাদের থেকে বিভিন্ন তদবীর করিয়ে নিতেন। আফতাব নগরে ৫ কাঠার প্লটে একটি দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন মুন্না। এই বাড়ির দাম কতো? সেটা অনুমান করলেই বোঝা যায়। এ ছাড়া তিনি ২ টা চাইনিজ রেষ্টরেন্টেরও মালিক। শোনা যায় তিনি শেয়ারে কয়েকটা শীপও ক্রয় করেছেন। এগুলোর দাম কয়েক কোটি টাকা। ২ টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তাতে খরচ করেছেন কয়েক কোটি টাকা। সারজিস আলমের পেছনে খরচ করেছেন কয়েক কোটি টাকা। সব মিলিয়ে তিনি যে, শত কোটি টাকার মালিক তা বলাই যায়। প্রশ্ন হলো: এতো টাকা ও সম্পদ তিনি পেলেন কোথায়?

একবার মুন্নার শখ হলো তিনি নায়ক হবেন। সিনেমা বানাবেন! যেই ভাবা সেই কাজ! তিনি শখ পূরণ করতে দেড় কোটি টাকা খরচ করে একটা অখাদ্য সিনেমা বানালেন, নাম “ধূসর কুয়াসা!” সে সিনেমায় তিনি নায়কের রোল করলেন! তখন লীগের আমল। শেখ সেলিমের শিপিং বিজনেস তখন তিনি দেখা শোনা করতেন। শেখ সেলিম যাবতীয় ডকুমেন্টেশন থেকে শুরু করে হিসাব নিকাশের জন্য সব চীফ ইঞ্জিনিয়ার মুন্নার উপর ভরসা করতেন। গুরু শেখ সেলিমের সুপারিসে নায়িকা হিসবে নিয়োগ দিলেন শেখ সেলিমের গার্লফ্রেন্ড নায়িকা নিপুণকে! সে অখাদ্য সিনেমা তো আর চলে না, দর্শক নাই! নায়ক মুন্না করলেন কি- ইনল্যান্ড ভেসেলের যে সকল মালিক শ্রমিক যারা বিভিন্ন সার্টিফিকেট এবং ডকুমেন্টেশনের জন্য তার কাছে ধরা তাদেরকে আদেশ দিলেন লোক ভাড়া করে সিনেমা হলে আনার জন্য! কিন্তু তাও সিনেমা ফ্লপ! তার ধুসর কুয়াসা সিনেমায় একটাই ভালো জিনিস ছিলো। সেটা হলো: আইটেম সং! গানের লিরিক্সটা এমন-“জালাইলে যে জ্বলে আগুন নিভানো ভিষম দায়, আগুন জালাইস না মোর গায়”!

৫ই আগষ্টের পর লীগের সব অপকর্মের সাথীরা ধরা খেলেও টাকা এবং ইষ্ট ওয়েস্টের সুন্দরীদের জোরে শীপ ইঞ্জিনিয়ার মুন্না থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জামায়তের কাছে পাত্তা না পেয়ে এখন ছাত্র নেতা সার্জিস আলমের সাথে লিঁয়াজো করে সার্ভাইব করতে চাচ্ছেন। সেজন্য বেশুমার টাকা ঢালছেন সার্জিসের পিছনে।একজন প্রতিষ্ঠিত দুনীর্তিবাজ সরকারী কর্মকর্তার স্পন্সরে ওমরাহ করে এসেছেন সার্জিস ও তার দলের কয়েকজন। ছাত্র নেতা সার্জিসের ফুল টিমকে নিয়ে উমরাহ করানোর খরচ কত পড়েছে? তাদের প্লেন ফেয়ার কত টাকা গিয়েছে? ফাইভ স্টারে এতোগুলো মানুষের থাকা খাওয়ায় কত টাকা ইনভেষ্ট করেছেন নায়ক কাম শীপ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রশিদ মুন্না? সেটা এখন জাতি জানতে চায়। এমন একজন মহাদুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কিভাবে এখনো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সরকারি চাকুরীতে বহাল রয়েছেন সেটাই এখন গোটা জাতির প্রশ্ন।