গত ০১/০৩/২৬ খ্রি. তারিখ বেলা অনুমান ০১.৩০ ঘটিকার সময় সীতাকুণ্ড পাহাড়ের এক রাস্তা নির্মাণ শ্রমিক ফোন করে জানায়, অনুমান ০৭ (সাত) বছরের একটি মেয়ে গলা কাটা অবস্থায় বনের ভিতর পাওয়া গেছে। উক্ত খবরের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ভিকটিম জান্নাতুল নাইমা ইরা (০৭) কে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতাল পাঠানো হয়। আজ ০৩/০৩/২০২৬ইং তারিখ ভোর অনুঃ-০৫:০০ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম ইরা মৃত্যুবরণ করে।
ভিকটিম শিশুটির বসত বাড়ী কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত রাস্তায় থাকা সি.সি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত বাবু শেখ (৪৫), পিতা- মৃত হাদেম শেখ, মাতা- মৃত মোছাঃ খাজের বেগম, সাং- মধ্যম পুলুপাড়া, পোস্ট- বাগদা, থানা- গোবিন্দগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধা কে আজ ১২:০০ টার দিকে কুমিরা কাজী পাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, ভিকটিমের বাবা মনির হোসেন এর সাথে তাহার পারিবারিক বিরোধ ছিল। তাহাদের সাথে প্রায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হত। বিরোধের হিসেবে তার মেয়েকে মেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
আসামী বাবু শেখ তার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ০১/০৩/২০২৬ইং তারিখ ঘটনার দিন সকাল অনুমান ০৯:৩০ ঘটিকার সময় মেয়েটিকে চকলেট কিনে দিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে আসে। তারা প্রথমে কুমিরা থেকে বাস যোগে সীতাকুণ্ড বাস স্ট্যান্ডে নামে। পরবর্তীতে পায়ে হেঁটে সীতাকুণ্ড পাহাড় এলাকায় নিয়ে সেলোয়ার খুলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।
মেয়েটি ঘটনা মানুষকে বলে দিবে বলিয়া চিৎকার করে। সেই সময় অভিযুক্ত বাবু শেখ তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে ভিকটিম এর আংশিক গলা কেটে মারা গেছে ভেবে ফেলে রেখে চলে আসে। পরে ভিকটিম আস্তে আস্তে উপরে উঠে নির্মাণাধীন রাস্তা দিয়ে আসতে থাকলে শ্রমিকগণ তাকে উদ্ধার করে বেলা অনুঃ- ০১:৩০ ঘটিকার সময় থানায় খবর দেয়। গ্রেফতারকৃত বাবু শেখের শনাক্ত মতে ঘটনাস্থল সীতাকুণ্ড পাহাড় থেকে ভিকটিমের রক্ত মাখা সেলোয়ার সহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী বাবু শেখ কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 















