পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক মিলন মেলা এবং বাংলাদেশের একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বৃহৎ নুনছড়ি “মাতাই পূখিরী” তীর্থ মেলা ১৪৩৩ এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬ সকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি এলাকার তীর্থস্থান “মাতাই পূখিরী”তে বর্নীল আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ তীর্থ মেলার উদ্বোধন হয়। এ তীর্থ মেলার উদ্বোধন করেন মহালছড়ি জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ পিএসসি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিতলা আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. আহসান, তীর্থ মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রাজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গেরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা শান্তির প্রতীক পায়রা ও বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে তীর্থ মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। পরে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গরিয়া নৃত্য প্রদর্শন এবং মনোজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
প্রধান অতিথি লে. কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ বলেন, “সবার উপরে বাংলাদেশ। আমরা একটি বহু জাতির সংস্কৃতির দেশে বসবাস করি, যেখানে সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান আমাদের শক্তি।” তিনি এ ধরণের আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্যভাব ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, তীর্থ মেলা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে গড়ে তুলতে সম্ভব। তাই এ ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে এবং তা সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ হবে।
মেলায় আগত অসংখ্য তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে করে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকতে পারে তার নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নুনছড়ি “মাতাই পূখিরী” তীর্থ মেলা পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির ত্রিপুরাদের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর এই মেলাকে ঘিরে পাহাড়ীদের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পাশাপাশি দেশের নানা অঞ্চল থেকে হাজারো দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে থাকে পবিত্র “মাতাই পূখিরী” তীর্থ মেলায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















