রকি যশোরের বাসিন্দা। পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২০১৯ সালের ৮ জুন বিয়ে করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই শ্বশুর বাড়ির লোকের খোলস উন্মোচন হতে শুরু করে। বিভিন্ন ইস্যুতে টাকা পয়সার দাবি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ কারিগারি শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিচালিত মাদারীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে কর্মরত সোহরাব হোসেন দিপু চাকরি দেওয়ার নাম করে রকির কাছ থেকে সুকৌশলে ২০২২ সালে জানুয়ারির দিকে সাড়ে আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সময় পার হয়ে যায় কিন্তু চাকরি কিন্তু হয় না।
চাকুরি না হওয়া শর্তে একপর্যায়ে টাকার ব্যাপারে কথা বললে তার ওপরে নেমে আসে নির্যাতন ও নানাবিধি ষড়যন্ত্র। ভুক্তভোগী রকি হাসান অবশেষে তাদের ফাঁদে পড়তেই থাকে। শ্বশুর বাড়ির পক্ষের পাতানো ফাঁদে টাকা আত্মসাতের অপকৌশল তাদের পারিবারিক নৃত্য অপতৎপরতা।
জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আমলে থেকে রকির শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের বদ অভ্যাস সামনে আসতে থাকে। মেয়ে বিয়ে দিয়ে এমন ধরনের ফাঁদ পেতে টাকা আদায় করে ও মানুষের বিপদে ফেলে আত্মতুষ্টির মত অপকর্ম দীর্ঘদিনের।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার অন্তরগত ধর্মদি গ্রামে মৃত ইউসুফ শরীফের মেয়ে সাদিয়া আফরিন মুন্নী তার আপন বড় বোনের জামাই সোহরাব হোসেন দিপু ও তার বড় বোন শিরিনা পারভীন অভিভাবক হয়ে ২০১৯ সালেল ৮ জুলাই উভয়ে এর সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। তখন রকির ছাত্র জীবন শেষ চাকরি দরকার। তখন ঝোপ বুঝে কোপ মেরে তার দুলাভাই সোহরাব হোসেন দিপু।
বাংলাদেশ কারিগারি শিক্ষা অধিদপ্তরে পরিচালিত মাদারীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে চাকরি করেন এই সোহরাব হোসেন দিপু। রকির চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করে এবং মানসিক শারীরিক নির্যাতনসহ নানান ষড়যন্ত্রে অব্যাহত থাকে এবং স্ত্রীর কর্তৃক একটি তালাক প্রদান করে। রকি উপায়হীন হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র নির্যাতনের ব্যাপারে ২০২৩ সালে যশোর জেলা মামলা দায়ের করে। ন্যায় বিচার চেয়ে মামলা করলে আরো চড়াও হয়ে উঠে রকির ওপরে তারা উল্টো মামলা মোকদ্দমা ও নির্যাতনের মাত্রা নতুনভাবে শুরু করে উল্লেখ্য তিন লক্ষ টাকার কাবিন থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাউন্সিল এর সাহায্য নিয়ে চব্বিশ লক্ষ ছিয়াশি হাজার টাকা একটি মিথ্যা মামলা দালিখ কলেন। (মামলা নং ৫২/২৩) যেখানে সোহরাব হোসেন দিপু গং একটি অসত্য প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করে যে, তিনি ফরিদপুর পলিটেকনিক স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানালে জেলা প্রশাসক থেকে একটি প্রদান করে কাউন্সিলর অফিসে যার স্মারক নাম্বার ০৫.১২.২৯০০.০০৬.০৪.০০১.২৩-৩৮ কিন্তু সেই সময় হাসিনার আমল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে কাউন্সিলর পালিয়ে যাওয়ার জন্য ন্যায় বিচার থেকে রকি বঞ্চিত হয়।
পরবর্তীতে সোহরাব হোসেন দিপু ও শিরিনা পারভিন তাদের নামে মামলা দাখিল করলে সরকারী চাকুরী করা সুবাদে উদ্ধতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে যে তারা শুক্রবারেও কমস্থলে উপস্থিত আছে। মামলা নং- ৫৭১/২৩ এবং ৯২৭/২৪ উল্লেখিত মামলায় এমন প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে। এই প্রত্যয়ন পত্রের বিষয়ে কতৃপক্ষের বিষয়ে জানালে সাথে সাথে তার উপরে নেমে আসে তার দুলাভাইয়ের ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে অকথ্য গালিগালাজ ও নির্যাতন শুরু করে এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও অধ্যক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করে। পরে রকি লিখিত আকারে অধ্যক্ষকের কাছেও বিষয়টি জানান।
একপর্যায় রকি কোন উপায় না পেয়ে সাদিয়ার দুলাভাই সোহরাব হোসেন দিপু এর নামে কারিগারি অধিদপ্তরে অভিযোগ জানায়, GRS (0172094426110) ট্রাকিং নাম্বার। কিন্তু বিধিবাম সোহরাব হোসেন দিপু বিগত সরকারের আমলে কর্মী থাকলেও দেশের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় অবর্ত হয়ে রকির বিরুদ্ধে পুনরায় ষড়যন্ত্র শুরু করে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হেনস্থা করে যাচ্ছে। তাদের দেওয়া মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে ফরিদপুর গেলে তার পোষা গুন্ডাদের দিয়ে বেশ কয়েকবার হামলা করে। তার জন্য ফরিদপুর সদর থানায় একটা জিডিও করেন রকি। (জিডি নং- ৮৬৩) এই বিষয়ে প্রশাসন নিরব এবং শিরিনা পারভিন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগে চাকুরী করায় সেখানকার স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার দ্বারা এবং তাদের সাথে করে নিয়ে যশোর এসেও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচলান করে যায়।
এই বিষয়ে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট ৪র্থ বিচারী/আদালত যশোর সি আর-১৪৭২/২৫ একটি মামলা চলমান আছে। এই মামলা রকি যেন প্রত্যাহার করে নেয় তার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে জি আর এস এর মাধ্যমে একাধিক অভিযোগ দাখিল করেও কোন ফল পাই নায়নি রকি।
দলীয় পরিচয়ে তাদের ষড়যন্ত্রের মাত্রা বাড়তে থাকায় হয়রানির শিকার হচ্ছে যশোরের সাধারণ মানুষ রকি। সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে টাকার জোরে শ্বশুর বাড়ির এমন ষড়যন্ত্র মূলক ফাঁদে পড়া রকি এখন সর্বহারা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে রকি বলেন, ‘আমার সঙ্গে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যে ধরণের অন্যায় নির্যাতন করে যাচ্ছে তা কোন মানুষের সঙ্গে মানুষ করতে পারে না। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েও তার কোন সুফল পাইনি। আমার ভায়রা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাপট ও অন্যায়ের বিচার আমি চাই। আমি ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি চাই।’
মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: 



















