ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত ছোবল : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পুরোনো সিন্ডিকেটের নতুন মুখ, নিম্নমানের পশুখাদ্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা। নিয়োগ-বদলী-কেনাকাটা সব তার হাতে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের ভুমিকায় ডিএডি শামস আরমান। একদিনে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ..ঘনঘন কম্পনে বাড়ছে শঙ্কা, প্রয়োজন প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ। ডিমলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণের উদ্বোধন। নাশকতার মামলায় যুবলীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার। ফ্যাসিষ্টের সহযোগীরা এখন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক। আইপি৬৮/আইপি৬৯ রেটিং ও সনি লাইটিয়া ক্যামেরাসহ বাংলাদেশের বাজারে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো। মাদকমুক্ত ফুলবাড়ী গড়তে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস ছালাম (সুজা)-এর পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা। জামালগঞ্জে কারিতাস বাংলাদেশের উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ।
ট্রেন, বাস ও জনবহুল এলাকায় সক্রিয় প্রতারক চক্র — সচেতন থাকার আহ্বান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

রহস্যময় ‘অজ্ঞান পার্টি’ আতঙ্ক: সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৭৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তথাকথিত “অজ্ঞান পার্টি” আতঙ্ক। ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও জনবহুল এলাকায় সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করে প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব চক্র কখনও খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে যাত্রীদের অচেতন করার চেষ্টা করে, আবার কখনও অভিনব কৌশলে সর্বস্ব লুটে নেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “অজ্ঞান করার ওষুধ”, “কলোরোফর্ম” কিংবা “বেহুঁশ করার স্প্রে” নিয়ে যেসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছে, তার বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। বরং এসব গুজব ও অপরাধমূলক তথ্য ছড়িয়ে তরুণদের বিপথে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কলোরোফর্ম বা এ ধরনের রাসায়নিক অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভুলভাবে ব্যবহার করলে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের জটিলতা, লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের কেমিক্যাল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখা হয় এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত গবেষণাগার বা শিল্পকারখানায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।

যেভাবে প্রতারণা করে চক্রগুলো

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীরা সাধারণত যাত্রী সেজে বাস বা ট্রেনে ওঠে। এরপর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে খাবার, ফল, জুস, পান কিংবা কোমল পানীয় অফার করে। অনেক ক্ষেত্রে সেই খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ জাতীয় পদার্থ মেশানো থাকে। যাত্রী অচেতন বা দুর্বল হয়ে পড়লে টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস লুটে নেয় চক্রটি।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগও করেন না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা

সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “এক সেকেন্ডে মানুষ অজ্ঞান”, “স্প্রে করলেই বেহুঁশ” ইত্যাদি শিরোনামে ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব কনটেন্ট ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। এতে তরুণদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও বাস্তবে এগুলো ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধভিত্তিক কনটেন্টের অতিরিক্ত প্রচার সমাজে ভয় ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—

অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবেন না

দীর্ঘ ভ্রমণে একা থাকলে সতর্ক থাকুন

সন্দেহজনক আচরণ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান

শিশু ও নারীদের একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করবেন না

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান

দেশের বিভিন্ন জেলায় অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় অভিযান চালিয়ে একাধিক প্রতারককে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও প্রতারণায় ব্যবহৃত সামগ্রী।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন,

“সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ দমন সম্ভব নয়।”

জনসচেতনতাই প্রধান শক্তি

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির এই যুগে তথ্য যেমন দ্রুত ছড়ায়, তেমনি অপরাধীরাও নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তাই শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে অপরাধ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক সম্পর্কে ভুল তথ্য থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়েই প্রতারণা ও অজ্ঞান পার্টির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

ট্রেন, বাস ও জনবহুল এলাকায় সক্রিয় প্রতারক চক্র — সচেতন থাকার আহ্বান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

রহস্যময় ‘অজ্ঞান পার্টি’ আতঙ্ক: সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি।

আপডেট সময় : ১০:০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তথাকথিত “অজ্ঞান পার্টি” আতঙ্ক। ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও জনবহুল এলাকায় সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করে প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব চক্র কখনও খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে যাত্রীদের অচেতন করার চেষ্টা করে, আবার কখনও অভিনব কৌশলে সর্বস্ব লুটে নেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “অজ্ঞান করার ওষুধ”, “কলোরোফর্ম” কিংবা “বেহুঁশ করার স্প্রে” নিয়ে যেসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছে, তার বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। বরং এসব গুজব ও অপরাধমূলক তথ্য ছড়িয়ে তরুণদের বিপথে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কলোরোফর্ম বা এ ধরনের রাসায়নিক অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভুলভাবে ব্যবহার করলে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের জটিলতা, লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের কেমিক্যাল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখা হয় এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত গবেষণাগার বা শিল্পকারখানায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।

যেভাবে প্রতারণা করে চক্রগুলো

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীরা সাধারণত যাত্রী সেজে বাস বা ট্রেনে ওঠে। এরপর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে খাবার, ফল, জুস, পান কিংবা কোমল পানীয় অফার করে। অনেক ক্ষেত্রে সেই খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ জাতীয় পদার্থ মেশানো থাকে। যাত্রী অচেতন বা দুর্বল হয়ে পড়লে টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস লুটে নেয় চক্রটি।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করার বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগও করেন না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা

সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “এক সেকেন্ডে মানুষ অজ্ঞান”, “স্প্রে করলেই বেহুঁশ” ইত্যাদি শিরোনামে ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব কনটেন্ট ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। এতে তরুণদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও বাস্তবে এগুলো ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধভিত্তিক কনটেন্টের অতিরিক্ত প্রচার সমাজে ভয় ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—

অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবেন না

দীর্ঘ ভ্রমণে একা থাকলে সতর্ক থাকুন

সন্দেহজনক আচরণ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান

শিশু ও নারীদের একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করবেন না

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান

দেশের বিভিন্ন জেলায় অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় অভিযান চালিয়ে একাধিক প্রতারককে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও প্রতারণায় ব্যবহৃত সামগ্রী।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন,

“সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ দমন সম্ভব নয়।”

জনসচেতনতাই প্রধান শক্তি

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির এই যুগে তথ্য যেমন দ্রুত ছড়ায়, তেমনি অপরাধীরাও নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তাই শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে অপরাধ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক সম্পর্কে ভুল তথ্য থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়েই প্রতারণা ও অজ্ঞান পার্টির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।