ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা…..

কিশোরগঞ্জে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ১৮৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধনু নদীতে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনাস (১৪) নামে এক কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে,২৬) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার এনসহিলা গ্রাম সংলগ্ন ধনু নদীর তীরে কিশোরটির মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আনাস উপজেলার কুর্শি গ্রামের বড়হাটি এলাকার মানিক মিয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছয় বোনের মধ্যে আনাসই ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে আহাজারি আর শোকের মাতম।

নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গরুকে গোসল করাতে ধনু নদীতে যায় আনাস। একপর্যায়ে নদীর পানিতে নামার পর সে স্রোতের মধ্যে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায় কিশোরটি। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই দিন ধরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় আনাসের মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, ধনু নদীতে বর্ষামৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে স্রোতও বেশি থাকে। তাই এসময় এরকম দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে এসময় শিশু-কিশোরদের নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিল উজ জামান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহটি উদ্ধার পর্যন্ত আমি পরিবারটির পাশে ছিলাম। এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নদী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে এসময় বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সাঁতার না জানা শিশু-কিশোরদের নদীতে একা না পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা।

কিশোরগঞ্জে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার।

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধনু নদীতে গরু গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনাস (১৪) নামে এক কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে,২৬) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার এনসহিলা গ্রাম সংলগ্ন ধনু নদীর তীরে কিশোরটির মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আনাস উপজেলার কুর্শি গ্রামের বড়হাটি এলাকার মানিক মিয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছয় বোনের মধ্যে আনাসই ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে আহাজারি আর শোকের মাতম।

নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গরুকে গোসল করাতে ধনু নদীতে যায় আনাস। একপর্যায়ে নদীর পানিতে নামার পর সে স্রোতের মধ্যে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায় কিশোরটি। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই দিন ধরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় আনাসের মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, ধনু নদীতে বর্ষামৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে স্রোতও বেশি থাকে। তাই এসময় এরকম দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে এসময় শিশু-কিশোরদের নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিল উজ জামান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহটি উদ্ধার পর্যন্ত আমি পরিবারটির পাশে ছিলাম। এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নদী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে এসময় বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সাঁতার না জানা শিশু-কিশোরদের নদীতে একা না পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।