গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর
বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!

# ৩২ ও ৩৩ ব্যাচের কর্মকর্তাদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়ন
# জ্যেষ্ঠদের ঠাঁই জেলা পর্যায়ে
# লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন
# অভিযোগের তীর অতিরিক্ত সচিব সরোয়ার আলমের ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহানসহ সংশ্লিষ্টদের দিকে
# তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ
রোস্তম মল্লিক
……………
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাম্প্রতিক বদলি ও পদায়ন ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব, সরকারি চাকরির বিধিবিধানের অবমূল্যায়ন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে পদায়নের কথা বলা হলেও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে আগে থেকেই পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে একাধিক বাক্সে পছন্দের কর্মকর্তাদের নাম রেখে লটারির নামে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ ঘটনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সরোয়ার আলম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান এবং পদায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, পদায়নের তালিকায় কর্মকর্তাদের ব্যাচ, জ্যেষ্ঠতা, পূর্ববর্তী কর্মস্থল এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রশ্ন উঠেছে লটারি আদৌ নিরপেক্ষ ছিল, নাকি এর আড়ালে আগে থেকে নির্ধারিত পদায়ন কার্যকর করা হয়েছে? অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
লটারির নামে প্রহসন, আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন?
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়নের ক্ষেত্রে ঢাকার চার থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্য একাধিক বাক্সে কয়েকটি করে পছন্দের নাম অন্তর্ভুক্ত করে লটারির মাধ্যমে পদায়নের একটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১ ও বিভাগ-২, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ ও বিভাগ-৪, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বিভাগ এবং রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল। এসব বিভাগের কয়েকটিতে অপেক্ষাকৃত নবীন কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরে পাঠানোর বিষয়টি লটারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে লটারিতে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাচ ও জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি পদায়নের যোগ্যতা, বিভাগভিত্তিক শূন্যপদ, পছন্দক্রম, লটারির মূল তালিকা, ব্যবহৃত বাক্সের বিবরণ এবং কার্যবিবরণী যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অগোচরে লটারির নামে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত সচিব সরোয়ার আলম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহানের সংশ্লিষ্টতায় পদায়ন প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়।
৩২ ও ৩৩ ব্যাচের কর্মকর্তাদের ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন :
জ্যেষ্ঠদের জেলা পর্যায়ে পদায়নের তালিকা এবং অভিযোগকারীদের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ৩২ ও ৩৩ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে, ২৪, ২৭, ৩০ ও ৩১ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা ঢাকার বাইরে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এ মাসুম বিল্লাহ (৩৩তম ব্যাচ), ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ কামরুল হাসান (৩২তম ব্যাচ), গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন-১ শাখায় জ্যোতিময় ভট্টাচার্য (৩৩তম ব্যাচ), প্রকল্প বিভাগ-৫-এ মনিরুজ্জামান জিতু (৩২তম ব্যাচ), ঢাকা মেট্রো জোনে স্টাফ অফিসার হিসেবে মাহমুদুল হাসান লিমন (৩৩তম ব্যাচ) এবং ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে রেজা তাইমুর মালিকের (৩২তম ব্যাচ) পদায়নের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বে ইমরান (৩৩তম ব্যাচ) এবং সার্ভে-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে কাওসারের (৩২তম ব্যাচ) নাম অভিযোগকারীদের দেওয়া তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ২৪তম ব্যাচের স্বর্ণেন্দু শেখর মল্লিককে মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগে, ২৭তম ব্যাচের আতিকুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগে এবং ২৭তম ব্যাচের আব্দুস সাত্তারকে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগে পদায়নের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭তম ব্যাচের মোহসিনকে ফেনী এবং জোয়ারদার তাবেদুন নবীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার বিবেচনায় এসব পদায়ন কতটা যৌক্তিক ছিল? ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রে কোন মানদন্ড অনুসরণ করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হলে বিতর্কের অবসান হতে পারে। তবে সরকারি চাকরিতে পদায়নের ক্ষেত্রে শুধু ব্যাচ বা জ্যেষ্ঠতাই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রশাসনিক প্রয়োজন, পদায়নযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, শূন্যপদ এবং প্রযোজ্য বিধি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।
ই/এম শাখায়ও একই প্রশ্ন,সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্তদের ঢাকায় পদায়ন :
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩২তম ব্যাচের জুবায়েরকে ঢাকা ই/এম বিভাগ-২, রুহুল আমিনকে ঢাকা ই/এম বিভাগ-১০ এবং সামিরাকে ঢাকা ই/এম বিভাগ-১২-তে পদায়ন করা হয়েছে। তাঁদের তিনজনই সদ্য নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৮তম ও ৩০তম ব্যাচের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ই/এম কর্মকর্তা ঢাকায় পদায়ন পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কর্
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলতেছে। যা কিনা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ঢাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পরিবারের সন্তান প্রধান বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজা তাইমুর মালিক
সারাক্ষণ ডেস্ক 


















