ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে হাতিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে শয্যা হবে এক হাজার: কৃষিমন্ত্রী খুলনায় ১০০ পরিবারের মাঝে নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মশারি বিতরণ সুন্দরবনে আত্মসমর্পণ করল আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যু রাণীশংকৈলে বাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঢাকায় গ্রেফতার খুলনা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর টিপু ফতুল্লা পাইলট স্কুলে এক মাসেই উন্নয়নের হাওয়া, সভাপতি রিয়াদ চৌধুরীকে রুহুল আমিন সিকদারের শুভেচ্ছা খুলনায় কাশেমনগরে জনি নামে এক ব্যক্তিকে গুলি, সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে চাঞ্চল্য ২০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে!

চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

​চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে

​চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কখনো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিংবা ডিবি কর্মকর্তা, আবার কখনো প্রভাবশালী মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতার ভাগ্নে—বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসা কুখ্যাত বহুরূপী প্রতারক তোরাপ উদ্দিন ওরফে ‘দাদাভাই’ অবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়েছেন।

​আজ ১০ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল (টিম চকরিয়া) সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

​প্রতারণার ধরন ও কৌশল

​চট্টগ্রাম শহর ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় তোরাপ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত। তিনি বিকাশ ও অন্যান্য এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নানামুখী ভুয়া পরিচয় ও কলাকৌশল অবলম্বন করতেন। বিভিন্ন সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তিনি প্রতিনিয়ত স্থান ও নিজের নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করতেন।

​আইনি বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশের প্রচলিত আইন)

​তোরাপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যেসব ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব:

​দণ্ডবিধি ধারা ৪১৯ (ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা): সরকারি কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা করার অপরাধে এই ধারায় সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

​দণ্ডবিধি ধারা ৪২০ (প্রতারণা ও সম্পত্তি হস্তান্তরে অসদুপায় অবলম্বন): বিকাশ প্রতারণা ও মিথ্যা প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অপরাধে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

​দণ্ডবিধি ধারা ১৭০ (সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধরা): নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার হিসেবে ভুয়া পরিচয় দেওয়ার অপরাধে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

​দণ্ডবিধি ধারা ৫০৬ (অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন): ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ব্ল্যাকমেইল করার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য।

​সাইবার নিরাপত্তা আইন (ডিজিটাল রূপান্তর ও বিকাশ সংক্রান্ত প্রতারণা): ডিজিটাল মাধ্যম বা বিকাশ ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে ডিজিটাল আইনি ধারায় মামলা পরিচালনাযোগ্য।

​চকরিয়া থানা পুলিশের বক্তব্য

​চকরিয়া থানা পুলিশ সূত্র জানায়, “গ্রেফতারকৃত তোরাপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরোয়ানা ছিল। তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে একাধিক ছদ্মনামে বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিম চকরিয়া অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

​পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো ভুয়া কর্মকর্তা বা বিকাশ প্রতারকের খপ্পরে না পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে

চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে

আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

​চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে

​চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কখনো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিংবা ডিবি কর্মকর্তা, আবার কখনো প্রভাবশালী মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতার ভাগ্নে—বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসা কুখ্যাত বহুরূপী প্রতারক তোরাপ উদ্দিন ওরফে ‘দাদাভাই’ অবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়েছেন।

​আজ ১০ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল (টিম চকরিয়া) সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

​প্রতারণার ধরন ও কৌশল

​চট্টগ্রাম শহর ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় তোরাপ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত। তিনি বিকাশ ও অন্যান্য এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নানামুখী ভুয়া পরিচয় ও কলাকৌশল অবলম্বন করতেন। বিভিন্ন সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তিনি প্রতিনিয়ত স্থান ও নিজের নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করতেন।

​আইনি বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশের প্রচলিত আইন)

​তোরাপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যেসব ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব:

​দণ্ডবিধি ধারা ৪১৯ (ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা): সরকারি কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা করার অপরাধে এই ধারায় সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

​দণ্ডবিধি ধারা ৪২০ (প্রতারণা ও সম্পত্তি হস্তান্তরে অসদুপায় অবলম্বন): বিকাশ প্রতারণা ও মিথ্যা প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অপরাধে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

​দণ্ডবিধি ধারা ১৭০ (সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধরা): নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার হিসেবে ভুয়া পরিচয় দেওয়ার অপরাধে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

​দণ্ডবিধি ধারা ৫০৬ (অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন): ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ব্ল্যাকমেইল করার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য।

​সাইবার নিরাপত্তা আইন (ডিজিটাল রূপান্তর ও বিকাশ সংক্রান্ত প্রতারণা): ডিজিটাল মাধ্যম বা বিকাশ ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে ডিজিটাল আইনি ধারায় মামলা পরিচালনাযোগ্য।

​চকরিয়া থানা পুলিশের বক্তব্য

​চকরিয়া থানা পুলিশ সূত্র জানায়, “গ্রেফতারকৃত তোরাপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরোয়ানা ছিল। তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে একাধিক ছদ্মনামে বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিম চকরিয়া অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

​পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো ভুয়া কর্মকর্তা বা বিকাশ প্রতারকের খপ্পরে না পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।