ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ১৬ দিনেও ব্যবস্থা নেই আর কত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে, কোথায় আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সম্প্রীতির বন্ধন: মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রমে নতুন কমিটি, নতুন প্রত্যাশা। ফতুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, সহযোগিতার আহ্বান রুহুল আমিন শিকদারের সাবেক বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট প্রতিমন্ত্রী গণপূর্তের শরিফ আহমেদের আস্থাভাজন রাশেদ আহমেদ এখন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আজিমপুর ডিভিশনে নবীনগরে পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু ডিএমডি ও তাঁর মাকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় জিডি কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

ভাঙ্গুড়ায় প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকাবাইচ উৎসবে লাখো মানুষের ঢল

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

ভাঙ্গুড়ায় প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকাবাইচ উৎসবে লাখো মানুষের ঢল

 

প্রতিনিধি মো: আরিফুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া (পাবনা)

 

গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য, নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ও লোকজ সংস্কৃতির অনন্য অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। সেই হারাতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গুমানি নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পানশী নৌকাবাইচ উৎসব–২০২৬, সিজন-১’। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলার নৌবাড়িয়া এলাকায় আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে নদীর দুই তীরে নেমেছিল মানুষের ঢল। ঢাকঢোল, বৈঠার ছন্দ, প্রতিযোগীদের প্রাণপণ লড়াই আর দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে নৌকাবাইচ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নৌকাবাইচপ্রেমী, স্থানীয় বাসিন্দা, তাদের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন ও দূর দুরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা। নদীর বুকে সারিবদ্ধ পানশী নৌকার প্রতিযোগিতা আর বৈঠার তালে তালে এগিয়ে চলার দৃশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

আয়োজিত এ উৎসব উদ্বোধন করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর মুজাহিদ স্বপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুল মতিন রাজু। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. আখিরুজ্জামান মাসুম।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ, ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকিউল আজম, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম (কমিশনার), সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম বুরুজ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান এবং সাবেক আহ্বায়ক রাজিউল হাসান বাবু।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বরাত, আবু হেনা মুস্তফা কামাল রেজা ও আলতাব হোসেন খান; উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিনুর রহমান শাহীন; উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ুন কবির; উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন আহমেদ মুন ও সদস্যসচিব মো. লিখন সরকার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসাইন ও সদস্যসচিব নিহাজ অভি ডাবলু, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আহমেদ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন এবং উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘিরে বাড়তি উৎসাহ

আয়োজকদের ঘোষিত পুরস্কার তালিকা অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী নৌকার জন্য এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীর জন্য ৬০ হাজার টাকা, তৃতীয় স্থানের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ স্থানের জন্য ২০ হাজার টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী পানশী নৌকার জন্য আকর্ষণীয় উপহার বক্সের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। পুরস্কারের আকর্ষণ প্রতিযোগীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

আয়োজকদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে নৌকাবাইচের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতা শেষে রাত ৮টার দিকে পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই হাজার টাকা। নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২টা পর্যন্ত।

ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মিলনমেলা

নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাংলার নদীমাতৃক জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাংলার নদী-নালা ও জলাশয়ে নৌকাবাইচ ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান বিনোদন। সময়ের পরিবর্তনে এ ঐতিহ্য অনেক জায়গায় হারিয়ে যেতে বসলেও ভাঙ্গুড়ার গুমানি নদীতে এমন আয়োজন নতুন করে সেই সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত নৌকাবাইচ উৎসব আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক চর্চা আরও জোরদার হবে।

সব মিলিয়ে ভাঙ্গুড়ার নৌবাড়িয়া এলাকায় গুমানি নদীর বুকে আয়োজিত ‘পানশী নৌকাবাইচ উৎসব–২০২৬, সিজন-১’ স্থানীয় মানুষের কাছে আনন্দ, উৎসাহ ও ঐতিহ্যের এক স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল। নদীর ঢেউয়ে বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বেঁচে থাকে মানুষের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

ভাঙ্গুড়ায় প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকাবাইচ উৎসবে লাখো মানুষের ঢল

আপডেট সময় : ১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভাঙ্গুড়ায় প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকাবাইচ উৎসবে লাখো মানুষের ঢল

 

প্রতিনিধি মো: আরিফুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া (পাবনা)

 

গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য, নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ও লোকজ সংস্কৃতির অনন্য অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। সেই হারাতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গুমানি নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পানশী নৌকাবাইচ উৎসব–২০২৬, সিজন-১’। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলার নৌবাড়িয়া এলাকায় আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে নদীর দুই তীরে নেমেছিল মানুষের ঢল। ঢাকঢোল, বৈঠার ছন্দ, প্রতিযোগীদের প্রাণপণ লড়াই আর দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে নৌকাবাইচ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নৌকাবাইচপ্রেমী, স্থানীয় বাসিন্দা, তাদের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন ও দূর দুরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা। নদীর বুকে সারিবদ্ধ পানশী নৌকার প্রতিযোগিতা আর বৈঠার তালে তালে এগিয়ে চলার দৃশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

আয়োজিত এ উৎসব উদ্বোধন করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুর মুজাহিদ স্বপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুল মতিন রাজু। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. আখিরুজ্জামান মাসুম।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ, ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকিউল আজম, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম (কমিশনার), সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম বুরুজ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান এবং সাবেক আহ্বায়ক রাজিউল হাসান বাবু।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বরাত, আবু হেনা মুস্তফা কামাল রেজা ও আলতাব হোসেন খান; উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিনুর রহমান শাহীন; উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ুন কবির; উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন আহমেদ মুন ও সদস্যসচিব মো. লিখন সরকার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসাইন ও সদস্যসচিব নিহাজ অভি ডাবলু, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আহমেদ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন এবং উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘিরে বাড়তি উৎসাহ

আয়োজকদের ঘোষিত পুরস্কার তালিকা অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী নৌকার জন্য এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীর জন্য ৬০ হাজার টাকা, তৃতীয় স্থানের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ স্থানের জন্য ২০ হাজার টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী পানশী নৌকার জন্য আকর্ষণীয় উপহার বক্সের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। পুরস্কারের আকর্ষণ প্রতিযোগীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

আয়োজকদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে নৌকাবাইচের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতা শেষে রাত ৮টার দিকে পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই হাজার টাকা। নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২টা পর্যন্ত।

ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মিলনমেলা

নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাংলার নদীমাতৃক জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাংলার নদী-নালা ও জলাশয়ে নৌকাবাইচ ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান বিনোদন। সময়ের পরিবর্তনে এ ঐতিহ্য অনেক জায়গায় হারিয়ে যেতে বসলেও ভাঙ্গুড়ার গুমানি নদীতে এমন আয়োজন নতুন করে সেই সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত নৌকাবাইচ উৎসব আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক চর্চা আরও জোরদার হবে।

সব মিলিয়ে ভাঙ্গুড়ার নৌবাড়িয়া এলাকায় গুমানি নদীর বুকে আয়োজিত ‘পানশী নৌকাবাইচ উৎসব–২০২৬, সিজন-১’ স্থানীয় মানুষের কাছে আনন্দ, উৎসাহ ও ঐতিহ্যের এক স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল। নদীর ঢেউয়ে বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বেঁচে থাকে মানুষের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।