ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে হাতিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে শয্যা হবে এক হাজার: কৃষিমন্ত্রী খুলনায় ১০০ পরিবারের মাঝে নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মশারি বিতরণ সুন্দরবনে আত্মসমর্পণ করল আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যু রাণীশংকৈলে বাড়ি থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঢাকায় গ্রেফতার খুলনা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর টিপু ফতুল্লা পাইলট স্কুলে এক মাসেই উন্নয়নের হাওয়া, সভাপতি রিয়াদ চৌধুরীকে রুহুল আমিন সিকদারের শুভেচ্ছা খুলনায় কাশেমনগরে জনি নামে এক ব্যক্তিকে গুলি, সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে চাঞ্চল্য ২০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে!

২০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে!

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩১ জন সংবাদটি পড়েছেন

২০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ:

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে!

 

বিশেষ প্রতিবেদক

 

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক,(বিনিয়োগ) শাহরিয়ার আল হাসান ফ্যাসিবাদের একজন অন্যতম দোসর । আওয়ামী নেতা আশরাফুল আলম খোকনের সাথে রাজনীতি করা ও ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাত ধরে হাই-টেক পার্কের চাকরীতে যোগদান করেন তিনি। আশরাফুল আলম খোকন কাপাসিয়ার সন্তান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা উপকমিটির সদস্য হন। আশরাফুল আলম খোকনের প্রভাবে কাপাসিয়ার সন্তান শাহরিয়ার আল হাসান হাই-টেক পার্কে চাকরী পান, পরবর্তীতে তিনি অসীম প্রভাব বিস্তার করেন। গাজীপুরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমির ছোট ভাই পরিচয়ে পলকের কাছে সখ্যতা পান। তিনি শুরু থেকেই ১১ আইটি প্রকল্পের একজন ডিপিডি হয়েছিলেন পলকের ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে। পলক চক্রের একজন অন্যতম সদস্য ছিল এই শাহরিয়ার আল হাসান। পলক, নরোত্তম, মিলন, কল্যাণ, শাহরিয়ার মিলে ১১ আইটি প্রকল্পকে ডিপিএম করে। প্রথমে প্রকল্পটি ডিপিপি অনুযায়ী ডিপিএম ছিল না। পরবর্তীতে এই চক্র সেটা অবৈধভাবে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি ব্যাতিরেকে ডিপিএম করে, যেখানে মোট প্রায় ১৫০-২০০ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। এলক্ষ্যে পরবর্তীতে এই প্রকল্পের ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। রাষ্ট্রের টাকা তছরুপ করা হয় এই প্রকল্প থেকে। এই প্রকল্প হতে শাহরিয়ার আল হাসান প্রায় ১০ কোটি টাকা ভাগ পান। যা তে সে সন্তুষ্ট না হওয়ায়, সেই চক্র ভেঙে যায় প্রকল্প পরিচালক ও আরেকজন ডিপিডি কল্যান কুমার সরকার প্রকল্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। শাহরিয়ার আল হাসান আদাবরে একটি আলিশান ফ্লাট গড়ে তুলেছেন ও মোহাম্মদপুরের বসিলায় ২টি জায়গা ক্রয় করেছেন। কাওরান বাজারে দীর্ঘদিন সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের সামনে তার সহকারী জসিমকে দিয়ে কাঁচাবাজারের ভাড়া আদায় করেছেন। যা তিনি একাই ভোগ করেছেন। তখন থেকে তিনি নিয়মিত বিনিয়োগকারীদেরকে হয়রানি করে থাকেন এবং সেবার বিনিময়ে ঘুষ দাবী করেন । বিনিয়োগ শাখায় থাকার কারণে তিনি জমি অধিগ্রহনে আওয়ামী এমপিদের সাথে যোগ সাজসে অযোগ্য স্থান নির্বাচন করে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমান অর্থ কমিশন গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে নারায়ণ গঞ্জে শামীম ওসমানের সাথে যোগসাজসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল জমি ক্রয় করেন। শামীম ওসমানের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। তিনি হাই-টেক পার্কের জমি অধিগ্রহনের নামে বেনামে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন। ফলে আইটি সেন্টার গুলো আজ ব্যর্থ হয়ে গেছে। আজকে পার্কের যে ভুল জমি নির্বাচন করা হয়েছে তা এই শাহরিয়ারের দূর্নীতির কারণে। এর দায়ভার এই আওয়ামী দোসর কোন ভাবেই এড়াতে পারে না। নারায়নগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের সাথে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। তার সাথে এখনো ছবি রয়েছে মোবাইল নাম্বার রয়েছে।

শাহরিয়ার আল হাসান সবসময় নিজ কক্ষে শেখ মুজিব, হাসিনা, জয়ের ছবি টানিয়ে রাখতেন। অথচ রাখার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। একজন সহকারী পরিচালকের সাথে কি ধরনের ঘনিষ্ঠতা থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রী তার বিয়েতে যেতে পারে। আশরাফুল আলম খোকনের পরিচয়ে পলকের সাথে গড়ে উঠে তার গভীর সখ্যতা। আওয়ামী লীগ আমলে তাকে ডিপিডি বানাতে পারে। একবার চিন্তা করুন। এ সংক্রান্ত ছবি গুলো তারই ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে।

যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে সে দলের লোক দিয়ে কল করিয়ে সেই দেলের লোক বনে যাওয়া হলো এই শাহরিয়ার আল হাসানের কাজ। তিনি একজন আওয়ামীলীগের অন্যতম দোসর। এখন তিনি বিএনপি সরকারকে কোন সহযোগিতা না করে ব্যর্থ করে দিচ্ছেন এবং আওয়ামীগের বিভিন্ন নেতাদের কাছে তথ্য পাচার করছেন।

বর্তমানে তিনি একাই হাই-টেক পার্ককে ব্যর্থতায় পরিণত করার অপচেষ্টা করছেন। অথচ তিনি এখন এমডির একান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিতে পরিণত হয়েছেন। গত জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে, ২০২৪ এর সময়ে তিনি ফ্যাসীবাদের পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরবর্তীতে সেটা ডিলিট করে দেন। অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ মেট্রাপলিটন আদালত, ঢাকায় মামলা দায়ের করা হয় যেখানে প্রধান আসামী করা হয় শেখ হাসিনাকে এবং ১৬ নং আসামী হয় শাহরিয়ার আল হাসান। গাজীপুরের কাপাসিয়া আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সময় রীতিমত দাপট দেখিয়েছেন এই শাহরিয়ার। চাকরীর পুরাটা সময় আওয়ামীলীগের সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এখনো নিয়মিত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক শাহরিয়ার আল হাসান জুলাই-২০২৪ এর গণঅভ্যত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ১৬ নং আসামি। যেখানে শেখ হাসিনা ১ নং ও জুনায়েদ আহমেদ পলকও একই মামলার আসামি। মামলাটি এখন তেঁজগাও থানায় তদন্তাধিন রয়েছে।

 

সে বর্তমানে প্রকল্পে তার দুর্নীতির অন্যতম সহকারীকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসছে। অফিসের এমডির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও কোন জনসেবা প্রদান করছেন না। তিনি এই মন্ত্রণালয়কে ব্যর্থতায় পর্যবশিত করতে চান। তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগিরা সর্বশেষ ডিজিটাল ডিভাইস এক্সপো-২০২৬ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা হইতয়ে নিয়েছেন মর্মে জানা যায়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির লোকজন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগ দিলেও সাবেক সচিব তা আমলে নেননি।

তার কারণে সর্বশেষ এক্সপোটি সফল হয়নি। তিনি জমি বরাদ্দ দিয়ে পাল্মপে ফিনটেক, ঢাকাকোলা, এডভ্যান্স উইথবোর্ড, মেটা স্টার, পালকি মটরস, জিটেক সলিউশন লি: সহ নানা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে জমি বরাদ্দ প্রদান করেছেন। চুক্তি ভেরিফেকেশনের নামে, জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নামে, তিনি জমি বরাদ্দ, চুক্তি, জমি বুঝিয়ে দেওয়া সহ সকল জায়গায় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে থাকেন। বিনিয়োগকারীরা অতিমাত্রায় বিরক্ত হলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন ভিন্ন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। তিনি বর্তমানে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও যশোর পার্ক এর বিনিয়োগকারীরা অর্থ প্রদান না করায় চুক্তি স্বাক্ষর করছেন না। ফলে দেশ রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি কোন মন্তব্য না করে সরাসরি তার সাথে অফিসে দেখা করতে বলেন।

 

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে অনিতিবিলম্বে এই ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানকে অপসারণ ও তার দুর্নীতিগুলো তদন্তের দাবী তুলেছেন সচেতন দেশবাসী।

Tag :
About Author Information

Ahad Staff

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে বহুরূপী প্রতারক ‘দাদাভাই’ চকরিয়ায় গ্রেফতার: ধরা পড়ল আইনের ফাঁদে

২০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে!

আপডেট সময় : ০৪:০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

২০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ:

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে!

 

বিশেষ প্রতিবেদক

 

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক,(বিনিয়োগ) শাহরিয়ার আল হাসান ফ্যাসিবাদের একজন অন্যতম দোসর । আওয়ামী নেতা আশরাফুল আলম খোকনের সাথে রাজনীতি করা ও ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাত ধরে হাই-টেক পার্কের চাকরীতে যোগদান করেন তিনি। আশরাফুল আলম খোকন কাপাসিয়ার সন্তান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা উপকমিটির সদস্য হন। আশরাফুল আলম খোকনের প্রভাবে কাপাসিয়ার সন্তান শাহরিয়ার আল হাসান হাই-টেক পার্কে চাকরী পান, পরবর্তীতে তিনি অসীম প্রভাব বিস্তার করেন। গাজীপুরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমির ছোট ভাই পরিচয়ে পলকের কাছে সখ্যতা পান। তিনি শুরু থেকেই ১১ আইটি প্রকল্পের একজন ডিপিডি হয়েছিলেন পলকের ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে। পলক চক্রের একজন অন্যতম সদস্য ছিল এই শাহরিয়ার আল হাসান। পলক, নরোত্তম, মিলন, কল্যাণ, শাহরিয়ার মিলে ১১ আইটি প্রকল্পকে ডিপিএম করে। প্রথমে প্রকল্পটি ডিপিপি অনুযায়ী ডিপিএম ছিল না। পরবর্তীতে এই চক্র সেটা অবৈধভাবে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি ব্যাতিরেকে ডিপিএম করে, যেখানে মোট প্রায় ১৫০-২০০ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। এলক্ষ্যে পরবর্তীতে এই প্রকল্পের ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। রাষ্ট্রের টাকা তছরুপ করা হয় এই প্রকল্প থেকে। এই প্রকল্প হতে শাহরিয়ার আল হাসান প্রায় ১০ কোটি টাকা ভাগ পান। যা তে সে সন্তুষ্ট না হওয়ায়, সেই চক্র ভেঙে যায় প্রকল্প পরিচালক ও আরেকজন ডিপিডি কল্যান কুমার সরকার প্রকল্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। শাহরিয়ার আল হাসান আদাবরে একটি আলিশান ফ্লাট গড়ে তুলেছেন ও মোহাম্মদপুরের বসিলায় ২টি জায়গা ক্রয় করেছেন। কাওরান বাজারে দীর্ঘদিন সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের সামনে তার সহকারী জসিমকে দিয়ে কাঁচাবাজারের ভাড়া আদায় করেছেন। যা তিনি একাই ভোগ করেছেন। তখন থেকে তিনি নিয়মিত বিনিয়োগকারীদেরকে হয়রানি করে থাকেন এবং সেবার বিনিময়ে ঘুষ দাবী করেন । বিনিয়োগ শাখায় থাকার কারণে তিনি জমি অধিগ্রহনে আওয়ামী এমপিদের সাথে যোগ সাজসে অযোগ্য স্থান নির্বাচন করে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমান অর্থ কমিশন গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে নারায়ণ গঞ্জে শামীম ওসমানের সাথে যোগসাজসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল জমি ক্রয় করেন। শামীম ওসমানের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। তিনি হাই-টেক পার্কের জমি অধিগ্রহনের নামে বেনামে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন। ফলে আইটি সেন্টার গুলো আজ ব্যর্থ হয়ে গেছে। আজকে পার্কের যে ভুল জমি নির্বাচন করা হয়েছে তা এই শাহরিয়ারের দূর্নীতির কারণে। এর দায়ভার এই আওয়ামী দোসর কোন ভাবেই এড়াতে পারে না। নারায়নগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের সাথে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। তার সাথে এখনো ছবি রয়েছে মোবাইল নাম্বার রয়েছে।

শাহরিয়ার আল হাসান সবসময় নিজ কক্ষে শেখ মুজিব, হাসিনা, জয়ের ছবি টানিয়ে রাখতেন। অথচ রাখার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। একজন সহকারী পরিচালকের সাথে কি ধরনের ঘনিষ্ঠতা থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রী তার বিয়েতে যেতে পারে। আশরাফুল আলম খোকনের পরিচয়ে পলকের সাথে গড়ে উঠে তার গভীর সখ্যতা। আওয়ামী লীগ আমলে তাকে ডিপিডি বানাতে পারে। একবার চিন্তা করুন। এ সংক্রান্ত ছবি গুলো তারই ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে।

যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে সে দলের লোক দিয়ে কল করিয়ে সেই দেলের লোক বনে যাওয়া হলো এই শাহরিয়ার আল হাসানের কাজ। তিনি একজন আওয়ামীলীগের অন্যতম দোসর। এখন তিনি বিএনপি সরকারকে কোন সহযোগিতা না করে ব্যর্থ করে দিচ্ছেন এবং আওয়ামীগের বিভিন্ন নেতাদের কাছে তথ্য পাচার করছেন।

বর্তমানে তিনি একাই হাই-টেক পার্ককে ব্যর্থতায় পরিণত করার অপচেষ্টা করছেন। অথচ তিনি এখন এমডির একান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিতে পরিণত হয়েছেন। গত জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে, ২০২৪ এর সময়ে তিনি ফ্যাসীবাদের পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরবর্তীতে সেটা ডিলিট করে দেন। অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ মেট্রাপলিটন আদালত, ঢাকায় মামলা দায়ের করা হয় যেখানে প্রধান আসামী করা হয় শেখ হাসিনাকে এবং ১৬ নং আসামী হয় শাহরিয়ার আল হাসান। গাজীপুরের কাপাসিয়া আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সময় রীতিমত দাপট দেখিয়েছেন এই শাহরিয়ার। চাকরীর পুরাটা সময় আওয়ামীলীগের সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এখনো নিয়মিত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক শাহরিয়ার আল হাসান জুলাই-২০২৪ এর গণঅভ্যত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ১৬ নং আসামি। যেখানে শেখ হাসিনা ১ নং ও জুনায়েদ আহমেদ পলকও একই মামলার আসামি। মামলাটি এখন তেঁজগাও থানায় তদন্তাধিন রয়েছে।

 

সে বর্তমানে প্রকল্পে তার দুর্নীতির অন্যতম সহকারীকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসছে। অফিসের এমডির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও কোন জনসেবা প্রদান করছেন না। তিনি এই মন্ত্রণালয়কে ব্যর্থতায় পর্যবশিত করতে চান। তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগিরা সর্বশেষ ডিজিটাল ডিভাইস এক্সপো-২০২৬ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা হইতয়ে নিয়েছেন মর্মে জানা যায়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির লোকজন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগ দিলেও সাবেক সচিব তা আমলে নেননি।

তার কারণে সর্বশেষ এক্সপোটি সফল হয়নি। তিনি জমি বরাদ্দ দিয়ে পাল্মপে ফিনটেক, ঢাকাকোলা, এডভ্যান্স উইথবোর্ড, মেটা স্টার, পালকি মটরস, জিটেক সলিউশন লি: সহ নানা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে জমি বরাদ্দ প্রদান করেছেন। চুক্তি ভেরিফেকেশনের নামে, জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নামে, তিনি জমি বরাদ্দ, চুক্তি, জমি বুঝিয়ে দেওয়া সহ সকল জায়গায় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে থাকেন। বিনিয়োগকারীরা অতিমাত্রায় বিরক্ত হলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন ভিন্ন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। তিনি বর্তমানে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও যশোর পার্ক এর বিনিয়োগকারীরা অর্থ প্রদান না করায় চুক্তি স্বাক্ষর করছেন না। ফলে দেশ রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি কোন মন্তব্য না করে সরাসরি তার সাথে অফিসে দেখা করতে বলেন।

 

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে অনিতিবিলম্বে এই ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানকে অপসারণ ও তার দুর্নীতিগুলো তদন্তের দাবী তুলেছেন সচেতন দেশবাসী।