ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ। বিএসএফের গুলিতে রক্তাক্ত হলো সীমান্ত। রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যেতে হয় নৌকায়। গাজীপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। সাতকানিয়ায় জোরপূর্বক কৃষিজমি কর্তন, থানায় অভিযোগ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর। ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” বাণিজ্যে শত কোটি টাকার প্রতারণা : কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেল সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর জাল-জালিয়াতি!  গীতার আলোয় আলোকিত মাদারীপুর গড়তে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর -২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব জাহান্দার আলী মিয়া। টেকেরহাটে নববর্ষে ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ইউসিবি ব্যাংকের

ডিপজলের বিরুদ্ধে তরুণীর মামলা

  • সারাক্ষণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ৪২৯ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলা সিনেমার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণী।

মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে মো. রাশিদা আক্তার নামে এক পোশাক কর্মী মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আলমের আদালতে এ মামলা করেন।মামলায় ডিপজলের সহযোগী মো. ফয়সালকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী রাশিদা আক্তার অভিনেতা ডিপজলের ‘একজন ভক্ত’। গত কুরবানির ঈদের আগে ২ জুন তিনি গাবতলী হাটে গিয়েছিলেন গরু দেখতে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন হাটের মধ্যে অফিসে অভিনেতা ডিপজল আছেন।তখন রাশিদা আক্তার সেই অফিসে গিয়ে ডিপজলকে সালাম দিয়ে বলেন যে, তিনি অভিনেতার একজন ভক্ত। তার সঙ্গে দেখা করতে চান। তখন ডিপজল তার পিএস ফয়সালকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই মহিলা ভেতরে কীভাবে ঢুকল? বের কর এখান থেকে’।

তখন রাশিদা আক্তার ডিপজলকে বলেন, ‘ভাই আমি আপনার সঙ্গে একটু কথা বলেই চলে যাব, আমাকে বের করে দিতে বলছেন কেন?’ রাশিদার এ কথায় ডিপজল রেগে বলেন, ‘এই তোরা এই মহিলাকে পিটিয়ে এখান থেকে বের কর’। তারপর ডিপজলের হুকুমে ও প্ররোচণায় ফয়সাল এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি রাশিদার ঘাড় ও হাত ধরে এবং পিঠে হাত দিয়ে জোর জবরদস্তি করে অফিসের ভেতর থেকে টেনে বের করেন। তখন তিনি জামা কাপড় পেচিয়ে মাটিতে পড়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, রাশিদা উঠে দাঁড়িয়ে ফয়সালকে বলেন, ‘আমি তো ডিপজল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে চলেই যেতাম, আপনারা আমার শরীরে হাত দিলেন কেন, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেন? তখন ফয়সাল তাকে বলেন, ‘এখান থেকে না গেলে তোর হাত পা ভেঙে পাশের তুরাগ নদীতে ফেলে দেব।’ রাশিদা এরপর প্রতিবাদ করে ফয়সালকে বলেন, ‘ভাঙেন হাত পা, দেখি আপনাদের কত সাহস’।

রাশিদা এই কথা বলার পর ফয়সাল আশপাশে থাকা অজ্ঞাতনামাদের উদ্দেশে দড়ি আনার কথা বলেন। ফয়সালের কথায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গরু বাঁধার রশি এনে তার হাতে দেন৷ এরপরে তিনি অন্য ব্যক্তিদের বলে, ‘এই তোরা এই মহিলাকে ধর।’

এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন ব্যক্তি তাকে চেপে ধরেন। এসময় ফয়সাল হাত বেঁধে ফেলে এবং অন্যান্য ৮/১০ অজ্ঞাতনামা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুসি লাথি মারতে থাকে। তখন ভিকটিম কান্না করতে করতে করতে বলতে থাকেন, ‘আমাকে ছাড়, আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে বিচার দেব।’ তখন ফয়সাল বলেন, ‘ভেতরে গেলে ডিপজল ভাই তোকে খুন করে ফেলবে।’

এ সময় ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘ওকে এইভাবে মেরে মনের জিদ কমবে না।’ এই কথা বলেই তিনি অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তিকে বলেন, ‘ভেতরে একটা ছোট গ্যালন আছে, ওটা নিয়ে আয়।’ অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি অফিসের ভেতর থেকে গ্যালন নিয়ে এসে ফয়সালের হাতে দেন। এসময় ফয়সাল গ্যালনের মুখ খুলে বাদীর শরীরে ঢেলে দেন। রাশিদা যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে বাসে করে তার বাসা যাত্রাবাড়ীতে আসেন।

এজাহারে বলা হয়, স্বজনরা দেখে জিজ্ঞাসা করেন এ অবস্থা কীভাবে হয়েছে। বাদী কাউকে কিছু না বলে ঘুমিয়ে যান। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা দেখেন। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করতে এসেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাস্টিট হাসিনা সরকারের দোসর আবু সাঈদ মোল্লা এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব হলেন কিভাবে? কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ।

ডিপজলের বিরুদ্ধে তরুণীর মামলা

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

বাংলা সিনেমার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণী।

মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে মো. রাশিদা আক্তার নামে এক পোশাক কর্মী মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আলমের আদালতে এ মামলা করেন।মামলায় ডিপজলের সহযোগী মো. ফয়সালকেও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী রাশিদা আক্তার অভিনেতা ডিপজলের ‘একজন ভক্ত’। গত কুরবানির ঈদের আগে ২ জুন তিনি গাবতলী হাটে গিয়েছিলেন গরু দেখতে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন হাটের মধ্যে অফিসে অভিনেতা ডিপজল আছেন।তখন রাশিদা আক্তার সেই অফিসে গিয়ে ডিপজলকে সালাম দিয়ে বলেন যে, তিনি অভিনেতার একজন ভক্ত। তার সঙ্গে দেখা করতে চান। তখন ডিপজল তার পিএস ফয়সালকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই মহিলা ভেতরে কীভাবে ঢুকল? বের কর এখান থেকে’।

তখন রাশিদা আক্তার ডিপজলকে বলেন, ‘ভাই আমি আপনার সঙ্গে একটু কথা বলেই চলে যাব, আমাকে বের করে দিতে বলছেন কেন?’ রাশিদার এ কথায় ডিপজল রেগে বলেন, ‘এই তোরা এই মহিলাকে পিটিয়ে এখান থেকে বের কর’। তারপর ডিপজলের হুকুমে ও প্ররোচণায় ফয়সাল এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি রাশিদার ঘাড় ও হাত ধরে এবং পিঠে হাত দিয়ে জোর জবরদস্তি করে অফিসের ভেতর থেকে টেনে বের করেন। তখন তিনি জামা কাপড় পেচিয়ে মাটিতে পড়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, রাশিদা উঠে দাঁড়িয়ে ফয়সালকে বলেন, ‘আমি তো ডিপজল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে চলেই যেতাম, আপনারা আমার শরীরে হাত দিলেন কেন, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেন? তখন ফয়সাল তাকে বলেন, ‘এখান থেকে না গেলে তোর হাত পা ভেঙে পাশের তুরাগ নদীতে ফেলে দেব।’ রাশিদা এরপর প্রতিবাদ করে ফয়সালকে বলেন, ‘ভাঙেন হাত পা, দেখি আপনাদের কত সাহস’।

রাশিদা এই কথা বলার পর ফয়সাল আশপাশে থাকা অজ্ঞাতনামাদের উদ্দেশে দড়ি আনার কথা বলেন। ফয়সালের কথায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গরু বাঁধার রশি এনে তার হাতে দেন৷ এরপরে তিনি অন্য ব্যক্তিদের বলে, ‘এই তোরা এই মহিলাকে ধর।’

এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন ব্যক্তি তাকে চেপে ধরেন। এসময় ফয়সাল হাত বেঁধে ফেলে এবং অন্যান্য ৮/১০ অজ্ঞাতনামা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুসি লাথি মারতে থাকে। তখন ভিকটিম কান্না করতে করতে করতে বলতে থাকেন, ‘আমাকে ছাড়, আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে বিচার দেব।’ তখন ফয়সাল বলেন, ‘ভেতরে গেলে ডিপজল ভাই তোকে খুন করে ফেলবে।’

এ সময় ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘ওকে এইভাবে মেরে মনের জিদ কমবে না।’ এই কথা বলেই তিনি অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তিকে বলেন, ‘ভেতরে একটা ছোট গ্যালন আছে, ওটা নিয়ে আয়।’ অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি অফিসের ভেতর থেকে গ্যালন নিয়ে এসে ফয়সালের হাতে দেন। এসময় ফয়সাল গ্যালনের মুখ খুলে বাদীর শরীরে ঢেলে দেন। রাশিদা যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে বাসে করে তার বাসা যাত্রাবাড়ীতে আসেন।

এজাহারে বলা হয়, স্বজনরা দেখে জিজ্ঞাসা করেন এ অবস্থা কীভাবে হয়েছে। বাদী কাউকে কিছু না বলে ঘুমিয়ে যান। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা দেখেন। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করতে এসেছেন।