ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চাকরি থেকে অব্যাহতির পরও মোহনা টিভির অফিস দখলে রেখেছেন এম এ মালেক! শান্তি নিবাসে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার অপেক্ষার দিনাতিপাত। ৬০ বছর বয়সী নার্গিস বেগম বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান। ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুর ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের তাণ্ডব, নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ। ফেসবুকে ইরানি হামলার ছবি-ভিডিও প্রচার, বাহরাইনে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৬। মাগুরায় পটল চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক মহন মজুমদার। দ্বিতীয় দফায় মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন।শঙ্কার অবসান। রূপগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ।  নড়াইলের লোহাগড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজন নিহত ও সেহরিতে খাবারের সময় গলায় ভাত আটকে কৃষকের মৃত্যু। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রধান শিক্ষক স্বর্গীয় প্রেমচাঁদ বাকচীর স্মরণ সভা ও স্বজাতি ভোজনে হাজারো গূণী ও বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি।

৬ বছর বন্ধ স্কুল, তবুও সাধারণ সম্পাদক দাবী ! সেনবাগে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন নিয়ে তোলপাড়।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৩৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

নোয়াখালীর সেনবাগে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন (BKA) এর সাংগঠনিক কাঠামো ও গঠনতন্ত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে সেনবাগ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির পর থেকে ২০২০ সাল হতে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মগুয়া এলাকায় অবস্থিত “আল আমিন একাডেমী” নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অদ্যাবধি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন (BKA) এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বিলুপ্ত হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে অভিযোগ উঠেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো: জাকের হোসেন এর সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পরও তিনি নিজেকে সেনবাগ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং সংগঠনের নামে নানা অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুলেছেন—২০২০ সাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও সেনবাগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কিভাবে তাকে বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখছে। একই সঙ্গে তারা জানতে চেয়েছেন, কেন একটি বিলুপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও তালিকাভুক্ত রয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি রহস্যজনক এবং এর পেছনে কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মিজানুর রহমান বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কোনো কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বিলুপ্ত হলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন বৃহত্তর নোয়াখালী আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের বলেন, সেনবাগ উপজেলা শাখায় দীর্ঘদিন ধরে মো: জাকের হোসেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও যদি তিনি পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেন, তাহলে তা শিক্ষকসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এটি নিঃসন্দেহে ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিরই প্রমাণ।

তিনি সেনবাগ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যার সদস্যপদ বাতিল হয়েছে তার সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ, সাংগঠনিক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের লেনদেন করেন তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে; এতে এসোসিয়েশন কোনো দায় নেবে না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ছয় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে সরকারি তালিকায় রয়েছে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কীভাবে সংগঠনের পদ ব্যবহার করছেন—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

স্থানীয় মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কি করে এখনো সংগঠনের প্রভাবশালী পদ ব্যবহার করছেন? বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত হলে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি থেকে অব্যাহতির পরও মোহনা টিভির অফিস দখলে রেখেছেন এম এ মালেক!

৬ বছর বন্ধ স্কুল, তবুও সাধারণ সম্পাদক দাবী ! সেনবাগে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন নিয়ে তোলপাড়।

আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

নোয়াখালীর সেনবাগে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন (BKA) এর সাংগঠনিক কাঠামো ও গঠনতন্ত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে সেনবাগ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির পর থেকে ২০২০ সাল হতে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মগুয়া এলাকায় অবস্থিত “আল আমিন একাডেমী” নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অদ্যাবধি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন (BKA) এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বিলুপ্ত হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে অভিযোগ উঠেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো: জাকের হোসেন এর সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পরও তিনি নিজেকে সেনবাগ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং সংগঠনের নামে নানা অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুলেছেন—২০২০ সাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও সেনবাগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কিভাবে তাকে বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখছে। একই সঙ্গে তারা জানতে চেয়েছেন, কেন একটি বিলুপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও তালিকাভুক্ত রয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি রহস্যজনক এবং এর পেছনে কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মিজানুর রহমান বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কোনো কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বিলুপ্ত হলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন বৃহত্তর নোয়াখালী আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের বলেন, সেনবাগ উপজেলা শাখায় দীর্ঘদিন ধরে মো: জাকের হোসেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও যদি তিনি পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেন, তাহলে তা শিক্ষকসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এটি নিঃসন্দেহে ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিরই প্রমাণ।

তিনি সেনবাগ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যার সদস্যপদ বাতিল হয়েছে তার সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ, সাংগঠনিক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের লেনদেন করেন তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে; এতে এসোসিয়েশন কোনো দায় নেবে না।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ছয় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে সরকারি তালিকায় রয়েছে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কীভাবে সংগঠনের পদ ব্যবহার করছেন—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

স্থানীয় মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কি করে এখনো সংগঠনের প্রভাবশালী পদ ব্যবহার করছেন? বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত হলে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।