ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর

চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড, সপরিবারে পাঁচ জনকে হত্যা। সন্দেহের তীর ফুরকানের দিকে।

পাঁচজনকেই শেষ করেছি, এখন যাচ্ছি’—ফুরকানের সাজানো ছকেই কি নিভল ৫ প্রাণ!ভোর সাড়ে ৬টা। চারদিকে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে যখন নতুন দিনের শুরু, ঠিক তখনই একটি ফোনকল স্তব্ধ করে দিল একটি পরিবারকে। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো—‘আমি পাঁচজনকেই শেষ করে দিয়েছি, এখন পালিয়ে যাচ্ছি’। পেশায় চালক ফুরকান মিয়ার এই একটি ফোনকলই এখন গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের সবচেয়ে বড় বিভীষিকা।

শনিবার সকালে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় যখন প্রতিবেশীরা প্রবেশ করেন, তাদের সামনে পড়ে যায় এক বীভৎস দৃশ্য। ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে আছে তিন নিষ্পাপ শিশু—১৫ বছরের মীম, ৮ বছরের মারিয়া আর মাত্র ২ বছরের ছোট্ট ফারিয়া। সবারই গলা কাটা। পাশের বিছানায় নিথর পড়ে আছে শ্যালক রসুল মিয়া। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যটি ছিল জানালার গ্রিলে, যেখানে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল মা শারমিনের নিথর দেহ।

স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

অনুসন্ধানে পুলিশ ঘরের ভেতর থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের গল্প বলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাইনিং টেবিলে পড়ে ছিল রান্না করা পায়েশ, কোকাকোলার বোতল এবং দেশীয় মদের খালি বোতল। ধারণা করা হচ্ছে, নেশার ঘোরে বা পরিকল্পিতভাবে পরিবারের সবাইকে অচেতন করেই এই পৈশাচিক উল্লাস চালিয়েছেন ফুরকান।

মরদেহের পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ। সেই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পেরেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফুরকান আগে থেকেই তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পরকীয়ার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের কপিগুলো মরদেহের পাশে রেখে যাওয়া কোনো ‘প্রতিশোধের’ বার্তা কি না, তাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তবে ফুরকান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড, সপরিবারে পাঁচ জনকে হত্যা। সন্দেহের তীর ফুরকানের দিকে।

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

পাঁচজনকেই শেষ করেছি, এখন যাচ্ছি’—ফুরকানের সাজানো ছকেই কি নিভল ৫ প্রাণ!ভোর সাড়ে ৬টা। চারদিকে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে যখন নতুন দিনের শুরু, ঠিক তখনই একটি ফোনকল স্তব্ধ করে দিল একটি পরিবারকে। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো—‘আমি পাঁচজনকেই শেষ করে দিয়েছি, এখন পালিয়ে যাচ্ছি’। পেশায় চালক ফুরকান মিয়ার এই একটি ফোনকলই এখন গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের সবচেয়ে বড় বিভীষিকা।

শনিবার সকালে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় যখন প্রতিবেশীরা প্রবেশ করেন, তাদের সামনে পড়ে যায় এক বীভৎস দৃশ্য। ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে আছে তিন নিষ্পাপ শিশু—১৫ বছরের মীম, ৮ বছরের মারিয়া আর মাত্র ২ বছরের ছোট্ট ফারিয়া। সবারই গলা কাটা। পাশের বিছানায় নিথর পড়ে আছে শ্যালক রসুল মিয়া। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যটি ছিল জানালার গ্রিলে, যেখানে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল মা শারমিনের নিথর দেহ।

স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

অনুসন্ধানে পুলিশ ঘরের ভেতর থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের গল্প বলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাইনিং টেবিলে পড়ে ছিল রান্না করা পায়েশ, কোকাকোলার বোতল এবং দেশীয় মদের খালি বোতল। ধারণা করা হচ্ছে, নেশার ঘোরে বা পরিকল্পিতভাবে পরিবারের সবাইকে অচেতন করেই এই পৈশাচিক উল্লাস চালিয়েছেন ফুরকান।

মরদেহের পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ। সেই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পেরেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফুরকান আগে থেকেই তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পরকীয়ার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের কপিগুলো মরদেহের পাশে রেখে যাওয়া কোনো ‘প্রতিশোধের’ বার্তা কি না, তাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তবে ফুরকান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।