একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনোই একটি জাতির শিক্ষাব্যবস্থার সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। কিন্তু সেই ফলাফলে যখন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে যায়, হাজার হাজার পরিবারের প্রত্যাশা বিষাদে পরিণত হয় এবং লাখো তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে, তখন সেটিকে নিছক পরীক্ষার ফল বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। সাম্প্রতিক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আমাদের সামনে তেমনই এক কঠিন বাস্তবতা হাজির করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীরা ব্যর্থ, নাকি ব্যর্থ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা?
প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এই পরিসংখ্যান কেবল কিছু সংখ্যার সমষ্টি নয়; এর প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, একটি পরিবারের স্বপ্ন, মা-বাবার ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা।
একবার ভাবুন, যে মা-বাবা সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে নিজেদের প্রয়োজন বিসর্জন দিয়েছেন, যে শিক্ষার্থী দিনের পর দিন বইয়ের পাতায় ভবিষ্যৎ খুঁজেছে, যে পরিবার একটি ভালো ফলাফলের আশায় বুক বেঁধেছিল—ফল প্রকাশের পর তাদের মানসিক অবস্থাটা কেমন হতে পারে? একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার অর্থ শুধু একটি সনদ না পাওয়া নয়; অনেকের কাছে তা আত্মবিশ্বাস হারানো, সামাজিক চাপ, হতাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার নাম। তাই এই ফলাফল বিশ্লেষণের সময় পরিসংখ্যানের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর কথাও আমাদের মনে রাখতে হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যর্থতার দায় কার? শিক্ষার্থীর? শিক্ষকের? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের? অভিভাবকের? নাকি শিক্ষা প্রশাসন ও রাষ্ট্রের? প্রকৃতপক্ষে দায় একক কোনো পক্ষের নয়। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে তার সম্মিলিত প্রতিফলন ঘটে পরীক্ষার ফলাফলে। তাই শিক্ষার্থীদের অযোগ্য আখ্যা দিয়ে কিংবা শিক্ষকদের একতরফা দায়ী করে মূল সমস্যাকে আড়াল করা যাবে না।
অবশ্য শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দায়িত্বও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, অনুশীলন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক কর্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, পড়াশোনায় অমনোযোগ এবং মুখস্থনির্ভরতার প্রবণতা অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী কেন পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে, কেন তার মধ্যে শেখার আনন্দ তৈরি হচ্ছে না, কেন সে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ছে—সেসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে। শিক্ষার্থীর দায়িত্বের কথা বলার পাশাপাশি তাকে শেখার উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার দায়িত্বও আমাদের স্বীকার করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি শিক্ষক। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু পড়িয়ে দেওয়ার মানুষ নন; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তা, মনন, বিবেক ও সৃজনশীলতা বিকাশের পথপ্রদর্শক। তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও পাঠদানের মান একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোথাও শিক্ষকতার প্রতি পেশাগত দায়িত্ববোধের ঘাটতি থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আবার শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, মর্যাদা, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষাবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করে মানসম্মত শিক্ষা প্রত্যাশা করাও বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষককে দায়বদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষককে সক্ষম করে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিশেষ করে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ইংরেজি এখন কেবল একটি পরীক্ষার বিষয় নয়; উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অথচ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক দক্ষতার পরিবর্তে মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির প্রবণতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ব্যাকরণ ও প্রশ্নোত্তর মুখস্থ করলেও বাস্তব জীবনে ভাষাটি ব্যবহার করার আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারছে না।
একইভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় নম্বর অর্জন নয়; শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলা। কিন্তু পর্যাপ্ত কম্পিউটার, আধুনিক ল্যাবরেটরি, ইন্টারনেট সুবিধা এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? যে শিক্ষার্থী কখনো কম্পিউটারে যথাযথভাবে কাজ করার সুযোগ পায়নি, তার কাছে ব্যবহারিক দক্ষতা প্রত্যাশা করা কতটা যুক্তিসংগত? পাঠ্যক্রমে আধুনিকতার কথা বলা আর শ্রেণিকক্ষে সেই আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এক বিষয় নয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হলো, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব। এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয় ঠিকই, কিন্তু তার পূর্ববর্তী শিক্ষাস্তরের দুর্বলতাগুলো কতটা চিহ্নিত করা হয়? ইংরেজি, গণিত কিংবা অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে ঘাটতি নিয়ে একজন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকের তুলনামূলক জটিল পাঠ্যসূচিতে প্রবেশ করলে তার জন্য ভালো ফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। কলেজে ভর্তির পর শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক দক্ষতা যাচাই, দুর্বলতা নির্ণয় এবং বিশেষ সহায়ক পাঠদানের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীরও পাস না করার বিষয়টি বিশেষ উদ্বেগের দাবি রাখে। একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অযোগ্যতার ফল হতে পারে না; এর পেছনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি ও তদারকির মতো নানা কারণ থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির বিষয়ে পৃথক ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন। কোথায় ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, কোথায় শিক্ষকসংকট, কোথায় অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আর কোথায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি—তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। অবহেলা প্রমাণিত হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে; আর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলে রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব নিতে হবে।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়েও স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। ফল খারাপ হলেই মূল্যায়নে ত্রুটি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি মূল্যায়ন পদ্ধতির কোনো দুর্বলতা থাকতে পারে না—এমন ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়। পরীক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, অভিন্ন মূল্যায়ন নির্দেশিকা, নম্বর প্রদানের স্বচ্ছতা এবং উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী মূল্যায়নসংক্রান্ত যৌক্তিক অভিযোগ উত্থাপন করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এখানে অভিভাবকদের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সন্তানকে ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু ফলাফলের ভিত্তিতে সন্তানের মেধা ও যোগ্যতার চূড়ান্ত বিচার করা উচিত নয়। একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে সন্তানকে অপমান করা, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা কিংবা তার ওপর অযৌক্তিক মানসিক চাপ সৃষ্টি করা তাকে আরও হতাশার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বরং তার পাশে দাঁড়ানো, ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করা এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগানোই অভিভাবকের প্রকৃত দায়িত্ব।
রাষ্ট্র ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর ফলাফল প্রকাশের পর পাসের হার, জিপিএ-৫ কিংবা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে আলোচনা হয়। কিছুদিন পর সেই আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষার প্রকৃত সংকট থেকে যায় আগের জায়গায়। ফলাফল প্রকাশের পর দায় নির্ধারণের চেয়ে সারা বছর শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক দুর্বলতা দূর করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা অধিক জরুরি। শিক্ষা পরিকল্পনা যেন কেবল নীতিনির্ধারণী কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে; তার সুফল যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষেও পৌঁছায়।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন—শিক্ষার সাফল্য শুধু পাসের হার দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। শতভাগ পাসের কৃত্রিম সাফল্য যেমন কাম্য নয়, তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য রেখে কঠোর মূল্যায়নের দোহাই দেওয়াও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। আমরা এমন শিক্ষা চাই, যেখানে শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাবে না; সে চিন্তা করতে শিখবে, প্রশ্ন করতে শিখবে, যুক্তি দিয়ে সত্য অনুসন্ধান করবে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবে এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হবে। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল সনদ বিতরণ নয়, প্রকৃত মানুষ তৈরি করা।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও রাষ্ট্রকে মানবিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনের সব সম্ভাবনার অবসান নয়। তাদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, বিশেষ প্রস্তুতিমূলক ক্লাস, প্রয়োজনীয় একাডেমিক পরামর্শ এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী যেন সাময়িক ব্যর্থতার কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
আমরা ভুলে যেতে পারি না, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, প্রশাসক, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। তাদের শিক্ষাজীবনের সংকট মানে আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্ভাবনার সংকট। তাই তাদের ব্যর্থতার দায় তাদের একার কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
এইচএসসির ফলাফল আমাদের সামনে একটি আয়নার মতো দাঁড়িয়েছে। সেই আয়নায় শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা, শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ, অভিভাবকদের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় নীতির কার্যকারিতাও প্রতিফলিত হচ্ছে। এখন প্রয়োজন আত্মপক্ষ সমর্থন নয়, আত্মসমালোচনা; দোষারোপ নয়, দায়িত্ব গ্রহণ; সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার।
একজন শিক্ষার্থী ব্যর্থ হলে তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। একজন শিক্ষক দায়িত্বে অবহেলা করলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রশাসনিক দায়িত্ব। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়লে তার সমস্যা দূর করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। আর সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ কোনো পক্ষেরই নেই।
সুতরাং আজ সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি শুধু এই নয়—শিক্ষার্থীরা কেন পাস করতে পারেনি? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা কি তাদের যথাযথভাবে শেখার সুযোগ দিতে পেরেছি? যে শিক্ষাব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে পারে না, যে শিক্ষা তাকে বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়, সেই ব্যবস্থার সংস্কার অনিবার্য।
শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বাঁচাতে হবে, শিক্ষকদের মর্যাদা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে হবে এবং শিক্ষা প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কারণ একটি পরীক্ষার ফলাফল হয়তো সাময়িকভাবে কিছু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে শিক্ষার্থীকে ব্যর্থতার দায়ে একা দাঁড় করানো হবে না; বরং তার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও রাষ্ট্র সবাই নিজের দায়িত্ব স্বীকার করবে। কারণ শিক্ষার্থীরা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নয়—তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর অর্থ নিজেদের ভবিষ্যতের প্রতিই দায়িত্বহীনতা।
লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী।
এডভোকেট গৌরাঙ্গ বসু - শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী। 

















