ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দ ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক তদন্ত।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ১৭১ জন সংবাদটি পড়েছেন

ব্যাংক জালিয়াতি ও প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো বিদেশে পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক অর্থপাচার তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পর দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত এই আদেশ জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে,২৬) সাইপ্রাসভিত্তিক গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যকার পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ মে সাইপ্রাসের অর্থপাচারবিরোধী ইউনিট ‘মোকাস’ আদালতে আবেদন করলে পারেক্লিসিয়া এলাকায় অবস্থিত এস আলম পরিবারের একটি দুইতলা বাড়ি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থপাচার।

এদিকে, সাইপ্রাসে সম্পত্তি জব্দের আদেশের একদিন পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেয়েছে এস আলম গ্রুপ। ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো ঋণ নিয়ে ১৩৪টি বাস না কিনে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাইফুল আলমসহ ১০ আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এস আলম নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে, যার বড় অংশ পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এসব অর্থ বিভিন্ন দেশের করপোরেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।

সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই চক্রটি সুপরিকল্পিত উপায়ে দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরো বা ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রিয়েল এস্টেট ও সম্পত্তি খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির আওতায় দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন সাইফুল আলম। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দ ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক তদন্ত।

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ব্যাংক জালিয়াতি ও প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো বিদেশে পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক অর্থপাচার তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পর দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত এই আদেশ জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে,২৬) সাইপ্রাসভিত্তিক গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যকার পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ মে সাইপ্রাসের অর্থপাচারবিরোধী ইউনিট ‘মোকাস’ আদালতে আবেদন করলে পারেক্লিসিয়া এলাকায় অবস্থিত এস আলম পরিবারের একটি দুইতলা বাড়ি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থপাচার।

এদিকে, সাইপ্রাসে সম্পত্তি জব্দের আদেশের একদিন পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেয়েছে এস আলম গ্রুপ। ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো ঋণ নিয়ে ১৩৪টি বাস না কিনে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাইফুল আলমসহ ১০ আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এস আলম নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে, যার বড় অংশ পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এসব অর্থ বিভিন্ন দেশের করপোরেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।

সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই চক্রটি সুপরিকল্পিত উপায়ে দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরো বা ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রিয়েল এস্টেট ও সম্পত্তি খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির আওতায় দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন সাইফুল আলম। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।