ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
২ কেজি গাঁজা ও ৩৬ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার। ঝিনাইদহে ইয়াবাসহ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার!  আশুলিয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে চাঁদাবাজি: ৩ হাজার টাকা না দিলে ‘জেলের ভাত’ খাওয়ানোর হুমকি! পানের বরজে মিলল ১২ কেজির বিশাল গাঁজা গাছ। বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন (৬১) এর হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার ও নগদ টাকাসহ আলামত উদ্ধার। দিনাজপুরের ঐতিহ্যের টানে কান্তজিউ মন্দিরে অপর্ণা রায় দাস, উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন এমপি মনজুরুল ইসলাম। কাহারোল ফুটবল লীগ ২০২৬ (সিজন-২) খেলোয়াড় ড্রাফটের শুভ উদ্বোধন রামপালে ওয়ার্ল্ড ভিশনের পানির ট্যাংক বিতরণ, উদ্বোধন করলেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। পৃথক অভিযানে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সাফল্য। ইউরিয়া সার ও দেশীয় মদ জব্দ, গ্রেফতার ৩। হামে শিশু মৃত্যু। গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ।

আশুলিয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে চাঁদাবাজি: ৩ হাজার টাকা না দিলে ‘জেলের ভাত’ খাওয়ানোর হুমকি!

  • সাভার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩০ জন সংবাদটি পড়েছেন

ঢাকার সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গভীর রাতে পুলিশি তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চেকপোস্টে গতিরোধ করে সাধারণ তরুণদের আটকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকা দাবি করার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। টাকা না দিলে সাজানো মামলায় ‘চালান’ ও ‘জেলের ভাত’ খাওয়ানোর মতো গুরুতর হুমকির প্রমাণ মিলেছে ক্যামেরায়।

যা ঘটেছিল সেই রাতে:

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার রাতে আশুলিয়া এলাকার একটি নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে সাধারণ কয়েকজন তরুণের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। ভুক্তভোগী তরুণদের অভিযোগ, চেকপোস্টে দায়িত্বরত তানভীর নামের এক পুলিশ সদস্য কোনো কারণ ছাড়াই তাদের আটকে রাখেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি ৩ হাজার টাকা দাবি করে বসেন।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তরুণদের থানায় নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ভুক্তভোগী এক তরুণ ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে ক্যামেরার সামনে বলেন, “আমাদের কাছে তিন হাজার টাকা চাইছে। না দিলে চালান করে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে।”

আরেক ভুক্তভোগী তরুণ জানান, তাদের খুব শীঘ্রই মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে। সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ক্যারিয়ার ধ্বংসের ভয় দেখিয়ে এবং মিথ্যা অভিযোগে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছিল।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি অভিযুক্ত পুলিশ ও কর্মকর্তার দায়সারা জবাব:

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত কনস্টেবল তানভীরকে হাতেনাতে ধরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমে টাকা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন। তার দাবি, রাতের বেলা ওই এলাকায় ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থাকায় তিনি কেবল তরুণদের সতর্ক ও তল্লাশি করছিলেন। তবে ভুক্তভোগী তরুণরা সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে সরাসরি ওই পুলিশ সদস্যের সামনেই তাদের অভিযোগে অনড় থাকেন এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওই রাতে উক্ত চেকপোস্টের ইনচার্জ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন আশুলিয়া থানার বিতর্কিত উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুবাহান। স্থানীয়দের মতে, এই কর্মকর্তার নাকের ডগায় ফোর্সের সদস্যরা এমন কাণ্ড ঘটালেও তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এসআই সুবাহান জানান, তার সামনে টাকা চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে তার উপস্থিতিতেই অধস্তন কর্মকর্তা কীভাবে এই দুঃসাহস দেখালেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

অনুসন্ধানে উঠে এলো এসআই সুবাহানের আরও ‘কীর্তি’

কেবল তরুণদের হয়রানিই নয়, ওই এলাকায় নিয়মিত চাঁদাবাজির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে এসআই সুবাহানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই ওই অঞ্চলের অটো-রিকশাচালকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা না দিলে রিকশা আটকে রাখা বা ডাম্পিংয়ের ভয় দেখানো হয়। এই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও প্রমাণ ও গোপন রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশাসনের অবস্থান

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে বিভিন্ন মোড়ে বা গলির মুখে চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ পথচারী, চাকরিজীবী ও নিরীহ মানুষকে এভাবে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশ সদস্য তানভীর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সুবাহানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

২ কেজি গাঁজা ও ৩৬ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার।

আশুলিয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে চাঁদাবাজি: ৩ হাজার টাকা না দিলে ‘জেলের ভাত’ খাওয়ানোর হুমকি!

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গভীর রাতে পুলিশি তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চেকপোস্টে গতিরোধ করে সাধারণ তরুণদের আটকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকা দাবি করার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। টাকা না দিলে সাজানো মামলায় ‘চালান’ ও ‘জেলের ভাত’ খাওয়ানোর মতো গুরুতর হুমকির প্রমাণ মিলেছে ক্যামেরায়।

যা ঘটেছিল সেই রাতে:

সারাক্ষণ বার্তার অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার রাতে আশুলিয়া এলাকার একটি নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে সাধারণ কয়েকজন তরুণের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। ভুক্তভোগী তরুণদের অভিযোগ, চেকপোস্টে দায়িত্বরত তানভীর নামের এক পুলিশ সদস্য কোনো কারণ ছাড়াই তাদের আটকে রাখেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি ৩ হাজার টাকা দাবি করে বসেন।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তরুণদের থানায় নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ভুক্তভোগী এক তরুণ ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে ক্যামেরার সামনে বলেন, “আমাদের কাছে তিন হাজার টাকা চাইছে। না দিলে চালান করে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে।”

আরেক ভুক্তভোগী তরুণ জানান, তাদের খুব শীঘ্রই মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে। সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ক্যারিয়ার ধ্বংসের ভয় দেখিয়ে এবং মিথ্যা অভিযোগে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছিল।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি অভিযুক্ত পুলিশ ও কর্মকর্তার দায়সারা জবাব:

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত কনস্টেবল তানভীরকে হাতেনাতে ধরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমে টাকা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন। তার দাবি, রাতের বেলা ওই এলাকায় ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থাকায় তিনি কেবল তরুণদের সতর্ক ও তল্লাশি করছিলেন। তবে ভুক্তভোগী তরুণরা সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে সরাসরি ওই পুলিশ সদস্যের সামনেই তাদের অভিযোগে অনড় থাকেন এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওই রাতে উক্ত চেকপোস্টের ইনচার্জ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন আশুলিয়া থানার বিতর্কিত উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুবাহান। স্থানীয়দের মতে, এই কর্মকর্তার নাকের ডগায় ফোর্সের সদস্যরা এমন কাণ্ড ঘটালেও তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এসআই সুবাহান জানান, তার সামনে টাকা চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে তার উপস্থিতিতেই অধস্তন কর্মকর্তা কীভাবে এই দুঃসাহস দেখালেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

অনুসন্ধানে উঠে এলো এসআই সুবাহানের আরও ‘কীর্তি’

কেবল তরুণদের হয়রানিই নয়, ওই এলাকায় নিয়মিত চাঁদাবাজির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে এসআই সুবাহানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই ওই অঞ্চলের অটো-রিকশাচালকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা না দিলে রিকশা আটকে রাখা বা ডাম্পিংয়ের ভয় দেখানো হয়। এই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও প্রমাণ ও গোপন রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশাসনের অবস্থান

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে বিভিন্ন মোড়ে বা গলির মুখে চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ পথচারী, চাকরিজীবী ও নিরীহ মানুষকে এভাবে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশ সদস্য তানভীর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সুবাহানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।