ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর

রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, তার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ উপহার দিল আর্জেন্টিনা। প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে মাত্র সাত মিনিটের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় জয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই,২৬) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় অবস্থিত মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। বলের দখল, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং ধারাবাহিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হচ্ছিল আর্জেন্টিনা। বরং ম্যাচের ধারার বিপরীতে এক গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

 

সময় যত গড়াতে থাকে, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হতাশাও তত বাড়তে থাকে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এসে মনে হচ্ছিল, ফাইনালের স্বপ্ন বুঝি শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো-শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।

 

ম্যাচের ৮৩তম মিনিট থেকে শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। আক্রমণের পর আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে নীল-সাদারা। নিখুঁত পাসিং, দুর্দান্ত সমন্বয় এবং গোল করার অদম্য মানসিকতায় মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের চিত্রই পাল্টে দেয় তারা। মুহূর্তেই পরাজয়ের শঙ্কা বদলে যায় বিজয়ের উল্লাসে।

 

বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলা সহ সকল জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে ফুটবল প্রেমীরা আনন্দময় অবস্থায় খেলা উপভোগ করেন ও বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে যায়।

 

শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে শুরু হয় উৎসব। নীল-সাদা জার্সিধারী সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। খেলোয়াড়রাও একে অপরকে জড়িয়ে উদযাপন করেন স্মরণীয় এই জয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “আমরা জানতাম সময় খুবই কম ছিল। কিন্তু এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা কখনো হাল ছাড়ে না। ফুটবল শেষ মিনিট পর্যন্ত বেঁচে থাকে, আর আমার খেলোয়াড়রা সেটিই বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসই আমাদের এই জয় এনে দিয়েছে।”

 

এই জয় শুধু ফাইনালে ওঠার সাফল্য নয়; এটি আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত শক্তিরও প্রতিচ্ছবি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

এখন ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি ফাইনালের দিকে। দুর্দান্ত এই প্রত্যাবর্তনের পর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে মেসিদের সামনে। যদি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে আরেকটি শিরোপা ঘরে তোলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

আপডেট সময় : ০৪:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, তার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ উপহার দিল আর্জেন্টিনা। প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে মাত্র সাত মিনিটের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় জয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই,২৬) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় অবস্থিত মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। বলের দখল, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং ধারাবাহিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হচ্ছিল আর্জেন্টিনা। বরং ম্যাচের ধারার বিপরীতে এক গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

 

সময় যত গড়াতে থাকে, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হতাশাও তত বাড়তে থাকে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এসে মনে হচ্ছিল, ফাইনালের স্বপ্ন বুঝি শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো-শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।

 

ম্যাচের ৮৩তম মিনিট থেকে শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। আক্রমণের পর আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে নীল-সাদারা। নিখুঁত পাসিং, দুর্দান্ত সমন্বয় এবং গোল করার অদম্য মানসিকতায় মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের চিত্রই পাল্টে দেয় তারা। মুহূর্তেই পরাজয়ের শঙ্কা বদলে যায় বিজয়ের উল্লাসে।

 

বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলা সহ সকল জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে ফুটবল প্রেমীরা আনন্দময় অবস্থায় খেলা উপভোগ করেন ও বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে যায়।

 

শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে শুরু হয় উৎসব। নীল-সাদা জার্সিধারী সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। খেলোয়াড়রাও একে অপরকে জড়িয়ে উদযাপন করেন স্মরণীয় এই জয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “আমরা জানতাম সময় খুবই কম ছিল। কিন্তু এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারা কখনো হাল ছাড়ে না। ফুটবল শেষ মিনিট পর্যন্ত বেঁচে থাকে, আর আমার খেলোয়াড়রা সেটিই বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসই আমাদের এই জয় এনে দিয়েছে।”

 

এই জয় শুধু ফাইনালে ওঠার সাফল্য নয়; এটি আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত শক্তিরও প্রতিচ্ছবি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

এখন ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি ফাইনালের দিকে। দুর্দান্ত এই প্রত্যাবর্তনের পর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে মেসিদের সামনে। যদি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে আরেকটি শিরোপা ঘরে তোলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।