ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

স্ত্রী—সন্তান ও স্বজনদের নামে শত শত বিঘা জমি, শহরে বহুতল ভবন—মার্কেটসহ বিপুল সম্পদ দুদকে তদন্ত চলমান।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:২০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৩৮ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

মাসিক বেতনে সরকারি চাকরি করলেও সম্পদের বহরে যেন শিল্পপতিকেও ছাড়িয়ে গেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আব্দুল মালেক—এমন অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরায়। অবসরের পর তাঁর সম্পদের বহর ঘিরে সাতক্ষীরাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। চাকরি জীবনে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে স্ত্রী,ছেলে,মেয়ে ও স্বজনদের নামে—বেনামে শত শত বিঘা কৃষিজমি, শহরে বহুতল ভবন, মার্কেট, মুল্যবান প্লটসহ প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক খুলনা) লিখিত অভিযোগ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। সদর উপজেলার মটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আরিফ সরদারের ছেলে আব্দুল মালেক। ১৯৯২ সালে বয়সের শেষ সময়ে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এলডি—কাম—টাইপিস্ট পদে চাকরি পায় মালেক। যশোর অফিসে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয় চাকরি জীবন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর কয়েকজন নিকটাত্মীয় জানায়, ১৯৯২ সালে যশোরে চাকরিতে যোগদানের কয়েক বছর পর অবৈধ্য লেনদেনের কারনে তাকে মাদারিপুর বদলি করা হয়। সেখানেও একই ঘটনার পূনঃরাবৃত্তি ঘটলে তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়। বিভিন্ন জেলায় বদলি হলেও সম্পদের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকে। সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলা কচুয়া, কাদাকাটি ও তালা উপজেলার মুড়াগাছা বিল এলাকায় স্ত্রী শরিফুর নেছা খুকু, ছেলে মুজাহিদুল ও শ্যালক সালাউদ্দীনের নামে প্রায় দেড় থেকে দুইশ বিঘা কৃষিজমিসহ বুধহাটা বাজার মার্কেটে দোকান কেনা হয়েছে। এছাড়া মেয়ের বিয়েতে রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্লাট ও একটি দামি গাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে।

 

তারা জানান, সাতক্ষীরা শহরের কামানগর এলাকায় তাঁর একটি পাঁচতলা ভবন ও মার্কেট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এছাড়া রাজার বাগান, যশোর এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্লট ও জমি রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, খড়িয়াডাঙ্গা, গোপালডাঙ্গা, সুখদেবপুর ও নেহালপুর এলাকায় নামে—বেনামে আরও ৭০ থেকে ৮০ বিঘা জমি এবং ব্রহ্মরাজপুর বাজারে একটি দ্বিতল ভবন ও মার্কেট রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা।

 

আরো জানান, ২০২৩ সালে অবসরের পর খুলনা দুদকের একটি দল তাঁর সম্পদের অনুসন্ধানে আসে। তখন মালেক শহর ও শ^শুর বাড়ি এলাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে গ্রামের পুরাতন বাড়ি দেখিয়ে দেয়। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি জামে মসজিদের নামে দান করা ১০ বিঘা জমি দীর্ঘদিন নিজের দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে গ্রামবাসীর চাপে ওই জমির বিপরীতে মসজিদকে অর্থ প্রদান শুরু করেন বলে দাবি করেন তারা।

 

তবে আব্দুল মালেক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পৈতৃক সূত্রে ৩২ বিঘা এবং তাঁর স্ত্রী ২৮ বিঘা জমি পেয়েছেন। এর বাইরে অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। স্ত্রী শরিফুর নেছা খুকু, ছেলে মুজাহিদুল ও শ্যালক সালাউদ্দীনের নামে কৃষিজমি বুধহাটা বাজার মার্কেটে দোকান মেয়ের রাজধানীতে একটি ফ্লাট ও একটি দামি গাড়ি প্রসঙ্গ এড়িয়ে তিনি আরো জানান, দুদকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা দুদকের একটি দল সরেজমিন তদন্ত করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

স্ত্রী—সন্তান ও স্বজনদের নামে শত শত বিঘা জমি, শহরে বহুতল ভবন—মার্কেটসহ বিপুল সম্পদ দুদকে তদন্ত চলমান।

আপডেট সময় : ১১:২০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

 

মাসিক বেতনে সরকারি চাকরি করলেও সম্পদের বহরে যেন শিল্পপতিকেও ছাড়িয়ে গেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আব্দুল মালেক—এমন অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরায়। অবসরের পর তাঁর সম্পদের বহর ঘিরে সাতক্ষীরাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। চাকরি জীবনে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে স্ত্রী,ছেলে,মেয়ে ও স্বজনদের নামে—বেনামে শত শত বিঘা কৃষিজমি, শহরে বহুতল ভবন, মার্কেট, মুল্যবান প্লটসহ প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক খুলনা) লিখিত অভিযোগ হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। সদর উপজেলার মটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আরিফ সরদারের ছেলে আব্দুল মালেক। ১৯৯২ সালে বয়সের শেষ সময়ে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এলডি—কাম—টাইপিস্ট পদে চাকরি পায় মালেক। যশোর অফিসে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয় চাকরি জীবন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর কয়েকজন নিকটাত্মীয় জানায়, ১৯৯২ সালে যশোরে চাকরিতে যোগদানের কয়েক বছর পর অবৈধ্য লেনদেনের কারনে তাকে মাদারিপুর বদলি করা হয়। সেখানেও একই ঘটনার পূনঃরাবৃত্তি ঘটলে তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়। বিভিন্ন জেলায় বদলি হলেও সম্পদের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকে। সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলা কচুয়া, কাদাকাটি ও তালা উপজেলার মুড়াগাছা বিল এলাকায় স্ত্রী শরিফুর নেছা খুকু, ছেলে মুজাহিদুল ও শ্যালক সালাউদ্দীনের নামে প্রায় দেড় থেকে দুইশ বিঘা কৃষিজমিসহ বুধহাটা বাজার মার্কেটে দোকান কেনা হয়েছে। এছাড়া মেয়ের বিয়েতে রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্লাট ও একটি দামি গাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে।

 

তারা জানান, সাতক্ষীরা শহরের কামানগর এলাকায় তাঁর একটি পাঁচতলা ভবন ও মার্কেট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এছাড়া রাজার বাগান, যশোর এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্লট ও জমি রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, খড়িয়াডাঙ্গা, গোপালডাঙ্গা, সুখদেবপুর ও নেহালপুর এলাকায় নামে—বেনামে আরও ৭০ থেকে ৮০ বিঘা জমি এবং ব্রহ্মরাজপুর বাজারে একটি দ্বিতল ভবন ও মার্কেট রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা।

 

আরো জানান, ২০২৩ সালে অবসরের পর খুলনা দুদকের একটি দল তাঁর সম্পদের অনুসন্ধানে আসে। তখন মালেক শহর ও শ^শুর বাড়ি এলাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে গ্রামের পুরাতন বাড়ি দেখিয়ে দেয়। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি জামে মসজিদের নামে দান করা ১০ বিঘা জমি দীর্ঘদিন নিজের দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে গ্রামবাসীর চাপে ওই জমির বিপরীতে মসজিদকে অর্থ প্রদান শুরু করেন বলে দাবি করেন তারা।

 

তবে আব্দুল মালেক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পৈতৃক সূত্রে ৩২ বিঘা এবং তাঁর স্ত্রী ২৮ বিঘা জমি পেয়েছেন। এর বাইরে অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। স্ত্রী শরিফুর নেছা খুকু, ছেলে মুজাহিদুল ও শ্যালক সালাউদ্দীনের নামে কৃষিজমি বুধহাটা বাজার মার্কেটে দোকান মেয়ের রাজধানীতে একটি ফ্লাট ও একটি দামি গাড়ি প্রসঙ্গ এড়িয়ে তিনি আরো জানান, দুদকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা দুদকের একটি দল সরেজমিন তদন্ত করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।