ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা প্রতি বছর বিলম্বে পাঠ্যবই ছাপার নেপথ্যে  ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য ! নিরপরাধ আ. লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা হারুনের। মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ঘোর বিরোধী দাপুটে তিন বুদ্ধিজীবী। ইয়াবাসহ সুমন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেফতার। সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। খুলনা গণপূর্তে দুর্নীতির অদৃশ্য সাম্রাজ্য : উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুরের সাত বছরের অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট ! তিনিই স্বঘোষিত সম্রাট! শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রণোদনা বিতরণ। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ১৫টি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সবার শীর্ষে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। মহামানব গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটির আগামীদিনের কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা।

সরকারি চাকুরেদের ঘুষ প্রবণতা বাড়ছে

  • সারাক্ষণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • ১১৩ জন সংবাদটি পড়েছেন
5

কানাডায় বাড়ি ক্রয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করার অভিযোগও রয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজি, বিনিয়োগকারীদের হাজার কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ভুয়া ঋণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে।

এ ছাড়া গত ১১ মাসে দুদকে মোট ১২ হাজার ৮২৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে শুধু গত বছরের নভেম্বরে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৪০৬টি। দুদক চেয়ারম্যানের দপ্তর ও অন্যান্য দপ্তর থেকে পাওয়া প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি অভিযোগ নিয়েও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেবার নামে ঘুষ নেওয়া নাগরিকদের সঙ্গে বঞ্চনা বা এক ধরনের প্রতারো। সেবার বিনিময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া বা বিভিন্নভাবে খুশি করার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। এটাকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রের তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও সেটার বাস্তবায়ন দেখা যায়। ফলে ঘুষ নেওয়ার মতো নিয়মতান্ত্রিক অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না, বরং বেড়েই চলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়া বা সেবাদাতাকে খুশি করার মতো পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এ ধারণাটা এখন প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ, সেবাগ্রহীতারা এ ধারণা বিশ্বাস করেন যে, অর্থ খরচ না করলে বা সংশ্লিষ্টদের খুশি না করলে সেবা পাওয়া যাবে না অথবা সেবা পেতে বিলম্ব হবে। এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ, যারা ঘুষ নেন তারা এমন কৌশল অবলম্বন করেন, যাতে অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। মাঝেমধ্যে দু-একজন ধরা পড়েন।’

তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন দেশে সরকারি সেবা পাওয়া নাগরিকের অধিকার। অথচ সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে আবার অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে, এভাবে সেবার নামে অর্থ আদায় নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের এক ধরনের বঞ্চনা বা প্রতারণা এবং রাষ্ট্র এটা দীর্ঘদিন ধরে মেনে নিচ্ছে। এ ধরনের নিয়মতান্ত্রিক অনিয়ম বন্ধে সরকারের আরও কঠোর হওয়া দরকার, শুধু মুখে মুখে ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বললে হবে না, এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন—এ তিনটি বিষয় লাগবেই; কিন্তু এ তিন সূচকের কোনোটাই বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে নেই। ফলে সেবা দেওয়ার নামে ঘুষের অপসংস্কৃতি একটি দৈনন্দিন চর্চায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এ অপসংস্কৃতি থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়।’

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচারের দোসরেরা ভোট বানচালের চেষ্টা করবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

সরকারি চাকুরেদের ঘুষ প্রবণতা বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৯:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
5

কানাডায় বাড়ি ক্রয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করার অভিযোগও রয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজি, বিনিয়োগকারীদের হাজার কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ভুয়া ঋণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে।

এ ছাড়া গত ১১ মাসে দুদকে মোট ১২ হাজার ৮২৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে শুধু গত বছরের নভেম্বরে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৪০৬টি। দুদক চেয়ারম্যানের দপ্তর ও অন্যান্য দপ্তর থেকে পাওয়া প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি অভিযোগ নিয়েও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেবার নামে ঘুষ নেওয়া নাগরিকদের সঙ্গে বঞ্চনা বা এক ধরনের প্রতারো। সেবার বিনিময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া বা বিভিন্নভাবে খুশি করার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। এটাকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রের তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও সেটার বাস্তবায়ন দেখা যায়। ফলে ঘুষ নেওয়ার মতো নিয়মতান্ত্রিক অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না, বরং বেড়েই চলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়া বা সেবাদাতাকে খুশি করার মতো পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এ ধারণাটা এখন প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ, সেবাগ্রহীতারা এ ধারণা বিশ্বাস করেন যে, অর্থ খরচ না করলে বা সংশ্লিষ্টদের খুশি না করলে সেবা পাওয়া যাবে না অথবা সেবা পেতে বিলম্ব হবে। এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ, যারা ঘুষ নেন তারা এমন কৌশল অবলম্বন করেন, যাতে অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। মাঝেমধ্যে দু-একজন ধরা পড়েন।’

তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন দেশে সরকারি সেবা পাওয়া নাগরিকের অধিকার। অথচ সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে আবার অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে, এভাবে সেবার নামে অর্থ আদায় নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের এক ধরনের বঞ্চনা বা প্রতারণা এবং রাষ্ট্র এটা দীর্ঘদিন ধরে মেনে নিচ্ছে। এ ধরনের নিয়মতান্ত্রিক অনিয়ম বন্ধে সরকারের আরও কঠোর হওয়া দরকার, শুধু মুখে মুখে ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বললে হবে না, এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন—এ তিনটি বিষয় লাগবেই; কিন্তু এ তিন সূচকের কোনোটাই বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে নেই। ফলে সেবা দেওয়ার নামে ঘুষের অপসংস্কৃতি একটি দৈনন্দিন চর্চায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এ অপসংস্কৃতি থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়।’