ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে নতুন সাজে ঠাকুরগাঁও, রাঙিয়ে তোলা হয়েছে শহর। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব: দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন ও সমকালীন পৃথিবীতে কৃষ্ণের প্রাসঙ্গিকতা। ভাঙ্গার আলগীর ঝালডাঙ্গা বিলে শতাধিক নৌকার মহারণ, সেরা রাজৈরের ‘বৈতরণী’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের বার্তা: অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধের জাগরণ- অপর্ণা রায় দাস। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউট সোর্সিং এর কাজ শতভাগ আওয়ামী প্রতিষ্ঠানের দখলে! এনআরবিসি ব্যাংকে চিহ্নিত লুটেরা চক্রের অপতৎপরতা! শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বরিশাল শাখার ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেন আবুল কালাম আজাদ নজরুল বর্ষ ও আমাদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন: বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা ও উত্তরাধিকার। যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা , সংকটের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অভিযাত্রা।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের অভিযান,সেবা প্রদানে নানা অনিয়ম, পর্যাপ্ত ঔষধ মজুদ থাকলেও দেওয়া হয়না সেবা গ্রহীতাদের।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৬০ জন সংবাদটি পড়েছেন

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোগীদের জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, ওষুধ বিতরণে গাফিলতি, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত কর্মকর্তাসহ একাধিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে অভিযানে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে দুদকের ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ অভিযান চালানো হয়। এনফোর্সমেন্ট দলের সদস্যরা প্রথমে ছদ্মবেশে হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পরিচয় প্রকাশ করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ বিতরণব্যবস্থা ও সার্বিক সেবার মান নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তারা।

অভিযানকালে বেশ কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। যেমন: রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবার নিম্নমানের এবং ডায়েট চার্ট অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়নি।

হাসপাতালের স্টোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকা সত্ত্বেও তা রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয় না।

বহিঃবিভাগের ওষুধ বিতরণ রেজিস্টার দুই মাস ধরে হালনাগাদ করা হয়নি।

রোগ নির্ণয়ের একাধিক যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় রয়েছে, আর সচল যন্ত্রপাতি থেকেও সেবা নিতে গিয়ে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ওষুধ স্টকের রেকর্ডপত্রে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে। নার্স ইনচার্জ সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. আব্দুল জব্বার নিয়মিত কর্মস্থলে অবস্থান না করে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রতিদিন সরকারি গাড়িতে যাতায়াত করেন।

অভিযানের পর দুদকের কর্মকর্তা মো. আজমির শরিফ মারজী বলেন, রোগী, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা দেখতে পেয়েছি, বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম রয়েছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ওষুধ বিতরণ থেকে শুরু করে খাবার সরবরাহ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সেবা প্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ হাতে পেয়েছি। সংগ্রহ করা রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সেবার মান উন্নয়নে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ দিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল জব্বার বলেন, দুদক অভিযান চালিয়েছে, তারা কিছু অনিয়মের কথা আমাদের জানিয়েছে। লিখিতভাবে তাদের জবাব দেওয়া হবে।”

তবে নিয়মিত কর্মস্থলে অবস্থান না করে প্রতিদিন শহর থেকে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে অফিস করা সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি ফোন কেটে দেন এবং জবাব এড়িয়ে যান।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়মে ভুগছি। ওষুধ চাইলেও বলা হয়, নেই। অথচ পরে দেখা যায় স্টোরে তা মজুদ আছে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানির শিকার হন।

দুদকের এ অভিযান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সুশাসনের দা‎বি আরও জোরালো হয়েছে।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শিক্ষাব্যবস্থা, চার বাংলাদেশ: রাষ্ট্রের নীরব আত্মবিভাজন।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের অভিযান,সেবা প্রদানে নানা অনিয়ম, পর্যাপ্ত ঔষধ মজুদ থাকলেও দেওয়া হয়না সেবা গ্রহীতাদের।

আপডেট সময় : ০১:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোগীদের জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, ওষুধ বিতরণে গাফিলতি, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত কর্মকর্তাসহ একাধিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে অভিযানে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে দুদকের ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ অভিযান চালানো হয়। এনফোর্সমেন্ট দলের সদস্যরা প্রথমে ছদ্মবেশে হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পরিচয় প্রকাশ করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ বিতরণব্যবস্থা ও সার্বিক সেবার মান নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তারা।

অভিযানকালে বেশ কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। যেমন: রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবার নিম্নমানের এবং ডায়েট চার্ট অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়নি।

হাসপাতালের স্টোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকা সত্ত্বেও তা রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয় না।

বহিঃবিভাগের ওষুধ বিতরণ রেজিস্টার দুই মাস ধরে হালনাগাদ করা হয়নি।

রোগ নির্ণয়ের একাধিক যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় রয়েছে, আর সচল যন্ত্রপাতি থেকেও সেবা নিতে গিয়ে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ওষুধ স্টকের রেকর্ডপত্রে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে। নার্স ইনচার্জ সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. আব্দুল জব্বার নিয়মিত কর্মস্থলে অবস্থান না করে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রতিদিন সরকারি গাড়িতে যাতায়াত করেন।

অভিযানের পর দুদকের কর্মকর্তা মো. আজমির শরিফ মারজী বলেন, রোগী, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা দেখতে পেয়েছি, বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম রয়েছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ওষুধ বিতরণ থেকে শুরু করে খাবার সরবরাহ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সেবা প্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ হাতে পেয়েছি। সংগ্রহ করা রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সেবার মান উন্নয়নে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ দিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল জব্বার বলেন, দুদক অভিযান চালিয়েছে, তারা কিছু অনিয়মের কথা আমাদের জানিয়েছে। লিখিতভাবে তাদের জবাব দেওয়া হবে।”

তবে নিয়মিত কর্মস্থলে অবস্থান না করে প্রতিদিন শহর থেকে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে অফিস করা সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি ফোন কেটে দেন এবং জবাব এড়িয়ে যান।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়মে ভুগছি। ওষুধ চাইলেও বলা হয়, নেই। অথচ পরে দেখা যায় স্টোরে তা মজুদ আছে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানির শিকার হন।

দুদকের এ অভিযান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সুশাসনের দা‎বি আরও জোরালো হয়েছে।