ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
ধামরাইয়ে জোরপূর্বক জমি দখলে রাখার অভিযোগ, বারংবার বিচারেও মিলছে না সমাধান। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন। ধামরাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার পুনর্বহাল নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন। বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী হোলি উৎসব ২০২৬, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রায়, নতুন কলেবরে কদমবাড়ী দিঘীর পাড়।  মাদারীপুরের রাজৈরে স্বচ্ছ সাংবাদিকতা,পেশাগত দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারাক্ষণ বার্তা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর, প্রাণবন্ত, ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল।

বিদেশে পাচারকৃত অর্থে গড়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান। এনবিআরের বিস্ময় !

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৮৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অর্থ পাচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে।

সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব রবিবার (১৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পাঁচ দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং সিআইসি মহাপরিচালক প্রধান উপদেষ্টাকে এ তথ্য অবহিত করেন।

এ ছাড়া নয়টি দেশে কিছু বাংলাদেশির অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করা ৩৫২টি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।

দেশগুলো হলো: অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মাল্টা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।

 

আহসান হাবিব জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য পাওয়ার পর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে সিআইসির গোয়েন্দারা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এখন পর্যন্ত ৩৪৬টি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি তাদের অনুসন্ধানের আংশিক চিত্র বলে জানান আহসান হাবিব।

সিআইসি এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের অনুকূলে ফেরানো এবং অর্থ পাচারে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে– এমনটা উল্লেখ করে সিআইসি মহাপরিচালক সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় ছয়টির বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আমাদের হাতে এখনো অনেক তথ্য আছে, যা উন্মোচনে আরও সময় লাগবে।’

আহসান হাবিব জানান, অর্থ পাচারে জড়িতরা শেখ হাসিনার শাসনামলে সেন্ট্রাল ব্যাংক ডাটাবেজ (সিবিএস) নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের লোক বসিয়ে অনেক তথ্য মুছে ফেলেছিল। তবে আশার বিষয় হলো সিআইসি এখন মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধারে দক্ষতা অর্জন করেছে।

পরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইসি, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে অর্থ পাচারে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

 

সিআইসিকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনুসন্ধান যতটা সম্ভব গভীরে যেতে হবে এবং যত বেশি দেশে সম্ভব বিস্তৃত করতে হবে। দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপে সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

 

দেশের অর্থনীতি লুটপাটকে ভয়াবহ রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে চাইলে এই লুটেরাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

 

তিনি বলেন, দেশের সম্পদ যেভাবে কিছু লোক লুট করেছে তা জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে বলেও তিনি যোগ করেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে জোরপূর্বক জমি দখলে রাখার অভিযোগ, বারংবার বিচারেও মিলছে না সমাধান।

বিদেশে পাচারকৃত অর্থে গড়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান। এনবিআরের বিস্ময় !

আপডেট সময় : ১০:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অর্থ পাচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে।

সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব রবিবার (১৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পাঁচ দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং সিআইসি মহাপরিচালক প্রধান উপদেষ্টাকে এ তথ্য অবহিত করেন।

এ ছাড়া নয়টি দেশে কিছু বাংলাদেশির অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করা ৩৫২টি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।

দেশগুলো হলো: অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মাল্টা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।

 

আহসান হাবিব জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য পাওয়ার পর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে সিআইসির গোয়েন্দারা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এখন পর্যন্ত ৩৪৬টি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি তাদের অনুসন্ধানের আংশিক চিত্র বলে জানান আহসান হাবিব।

সিআইসি এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের অনুকূলে ফেরানো এবং অর্থ পাচারে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে– এমনটা উল্লেখ করে সিআইসি মহাপরিচালক সারাক্ষণ বার্তাকে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় ছয়টির বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আমাদের হাতে এখনো অনেক তথ্য আছে, যা উন্মোচনে আরও সময় লাগবে।’

আহসান হাবিব জানান, অর্থ পাচারে জড়িতরা শেখ হাসিনার শাসনামলে সেন্ট্রাল ব্যাংক ডাটাবেজ (সিবিএস) নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের লোক বসিয়ে অনেক তথ্য মুছে ফেলেছিল। তবে আশার বিষয় হলো সিআইসি এখন মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধারে দক্ষতা অর্জন করেছে।

পরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইসি, সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে অর্থ পাচারে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

 

সিআইসিকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনুসন্ধান যতটা সম্ভব গভীরে যেতে হবে এবং যত বেশি দেশে সম্ভব বিস্তৃত করতে হবে। দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপে সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

 

দেশের অর্থনীতি লুটপাটকে ভয়াবহ রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে চাইলে এই লুটেরাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

 

তিনি বলেন, দেশের সম্পদ যেভাবে কিছু লোক লুট করেছে তা জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে বলেও তিনি যোগ করেন।