ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর

বিআইডব্লিউটিএ’র ঘুষকান্ডের ভিডিও ফাঁস: রহিম-ওবায়দুল বরখাস্ত, শাজাহান বহাল তবিয়তে।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩২২ জন সংবাদটি পড়েছেন

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম (মেরিন) এর রুমে প্রকাশ্যে ঘুষের ভিডিও ভাইরালের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত রহিম-শাজাহান সিন্ডিকেট। ঘুষের ভিডিও নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের মধ্যে কাজের স্থবিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বিষয় টি নিজে তদারকি করছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম গত ১০ সেপ্টেম্বর৷ বিআইডব্লিউটিএতে অভিযান পরিচালনা করেন।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র বলছে, জ্বালানি তেল সরবরাহের ঠিকাদারি কাজ দিতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত হলেও এই ঘুষ লেনদেনের নাটের গুরু বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান আছেন এখনও বহাল তবিয়তে। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে বরখাস্ত নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের ২ কর্মকর্তা পরিচালক মো. শাজাহানের ক্যাশিয়ার।

সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিমের রুমে ঘুষ লেনদের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিনই বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন জাহাজে সরবরাহকারী ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রহিম। ঘটনা জানাজানি হলেও রহস্যজনক কারণে ধামাচাপা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এ ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করলে ২ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ এবং পরিচালন বিভাগের জ্বালানি তেলের ঠিকাদারি কাজ দেয়ার বিনিময়ে উৎকোচ লেনদেন-সংক্রান্ত একটি ঘটনা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে ওই বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিম এবং উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুল করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত নাটের গুরু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সত্য উদঘাটনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, বিআইডব্লিউটিএ তেল সরবরাহের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় মেরিন বিভাগের এক কর্মকর্তার রুমে ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অনুসন্ধান করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে।

বিআইডব্লিউটিএর একটি সূত্র জানিয়েছে, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিম এবং উপ-রিচালক ওবায়দুল করিম (নারায়ণগঞ্জ) মূলত ওই বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহনের ঘনিষ্ঠ। শাজাহানের ক্যাশিয়ার হিসেবে ওই বিভাগের ঘুষ নেন আব্দুর রহিম ও ওবায়দুল করিম। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ঘুষের বিনিময়ে কাজ দেয়ার বিষয়টি পরিচালক শাজাহানের হয়ে মধ্যস্থতা করেন বরখাস্তকৃত ২ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম এবং ওবায়দুল করিম। আব্দুর রহিম নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগে কর্মরত। জাহাজের তেল বিতরণ, বন্দর রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে রয়েছে রহিম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগে গত ১০ বছর ধরে একই চেয়ারে পদায়ন রয়েছেন পরিচালক মো. শাজাহান। ওই বিভাগে তার এলাকার লোকজনকে পোস্টিং করিয়ে একচেটিয়া দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়া তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানের সুপারিশে মো. শাজাহান নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক পদে পদায়ন হন। এরপর থেকে তিনি এ চেয়ারের বহাল তবিয়তে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ।

আরো অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যানের আত্মীয় পরিচয়দানকারী বিনা নামে এক ব্যক্তি এই ঠিকাদারি কাজের তদবির করেছেন। অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম ও পরিচালক শাজাহান উক্ত বিভাগে একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন বলে সারাক্ষণ বার্তাকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদারগণ।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর-ককটেল বিস্ফোরণ

বিআইডব্লিউটিএ’র ঘুষকান্ডের ভিডিও ফাঁস: রহিম-ওবায়দুল বরখাস্ত, শাজাহান বহাল তবিয়তে।

আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম (মেরিন) এর রুমে প্রকাশ্যে ঘুষের ভিডিও ভাইরালের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অভিযুক্ত রহিম-শাজাহান সিন্ডিকেট। ঘুষের ভিডিও নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের মধ্যে কাজের স্থবিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বিষয় টি নিজে তদারকি করছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম গত ১০ সেপ্টেম্বর৷ বিআইডব্লিউটিএতে অভিযান পরিচালনা করেন।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র বলছে, জ্বালানি তেল সরবরাহের ঠিকাদারি কাজ দিতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত হলেও এই ঘুষ লেনদেনের নাটের গুরু বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান আছেন এখনও বহাল তবিয়তে। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে বরখাস্ত নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের ২ কর্মকর্তা পরিচালক মো. শাজাহানের ক্যাশিয়ার।

সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিমের রুমে ঘুষ লেনদের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিনই বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন জাহাজে সরবরাহকারী ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রহিম। ঘটনা জানাজানি হলেও রহস্যজনক কারণে ধামাচাপা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। এ ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করলে ২ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ এবং পরিচালন বিভাগের জ্বালানি তেলের ঠিকাদারি কাজ দেয়ার বিনিময়ে উৎকোচ লেনদেন-সংক্রান্ত একটি ঘটনা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে ওই বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিম এবং উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুল করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত নাটের গুরু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সত্য উদঘাটনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, বিআইডব্লিউটিএ তেল সরবরাহের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় মেরিন বিভাগের এক কর্মকর্তার রুমে ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অনুসন্ধান করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে।

বিআইডব্লিউটিএর একটি সূত্র জানিয়েছে, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মো. আব্দুর রহিম এবং উপ-রিচালক ওবায়দুল করিম (নারায়ণগঞ্জ) মূলত ওই বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহনের ঘনিষ্ঠ। শাজাহানের ক্যাশিয়ার হিসেবে ওই বিভাগের ঘুষ নেন আব্দুর রহিম ও ওবায়দুল করিম। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ঘুষের বিনিময়ে কাজ দেয়ার বিষয়টি পরিচালক শাজাহানের হয়ে মধ্যস্থতা করেন বরখাস্তকৃত ২ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম এবং ওবায়দুল করিম। আব্দুর রহিম নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগে কর্মরত। জাহাজের তেল বিতরণ, বন্দর রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে রয়েছে রহিম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগে গত ১০ বছর ধরে একই চেয়ারে পদায়ন রয়েছেন পরিচালক মো. শাজাহান। ওই বিভাগে তার এলাকার লোকজনকে পোস্টিং করিয়ে একচেটিয়া দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়া তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানের সুপারিশে মো. শাজাহান নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক পদে পদায়ন হন। এরপর থেকে তিনি এ চেয়ারের বহাল তবিয়তে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ।

আরো অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যানের আত্মীয় পরিচয়দানকারী বিনা নামে এক ব্যক্তি এই ঠিকাদারি কাজের তদবির করেছেন। অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম ও পরিচালক শাজাহান উক্ত বিভাগে একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন বলে সারাক্ষণ বার্তাকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদারগণ।