ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
সুন্দরগঞ্জে ৩.৫০ গ্রাম হেরোইনসহ ভাই-বোন গ্রেফতার। প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় প্রকৌশলী সমাজ। আমতলীতে পরোয়ানাভুক্ত ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী বেল্লাল সর্দার গ্রেফতার। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বেইজ স্কুলের ‘ও’ লেভেলের মেধাবী ছাত্র ইয়াছিন (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন; ০৯ মাস পর গ্রেফতার ৩। এক জনের আদালতে স্বীকারোক্তি। ইংল্যান্ডে হবিগঞ্জের তরুণ বার্ডফুড এ কাউন্সিলর নির্বাচিত। আমতলীতে অবৈধ জমি দখলের দায়ে নারীর ১৫ দিনের কারাদণ্ড, উচ্ছেদ করে মালিককে দখল ফিরিয়ে দিলেন আদালত। এক হাত নাই তো তাতে কি হয়েছে? প্লে গ্রুপের ছাত্র মোঃ মোস্তাকিম এখন সেনবাগের বিস্ময়। বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি হারুন অর রশিদ ও সম্পাদক মশিউর রহমান নির্বাচিত। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা: সড়কের পাশে বসবে না পশুর হাট। এখন এদেশে মনে হয় কোনো আওয়ামীলীগ নেই- সাকিব।

দুদকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা এস আলমের বিরুদ্ধে।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তার স্ত্রী, পাঁচ ভাইসহ প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৬৭ জনের বিরুদ্ধে ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় মামলা হিসেবে অভিহিত করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি, নীতিমালা ও পরিপত্র উপেক্ষা করে আসামিরা যোগসাজশ করে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম স্টিলস লিমিটেড ও এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেন। এর বিপরীতে রাখা হয় অপ্রতুল জামানত।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ঋণসীমা ২,৪০০ কোটি টাকা থেকে ৩,৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করে, যা ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশ অতিক্রম করে।

এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগের একক গ্রাহক ঋণসীমা নীতিমালার লঙ্ঘন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সিআইবি রিপোর্টে ঋণগ্রহীতা কোম্পানির দায় অতিরিক্ত থাকলেও এবং আইসিআরআরএস (অভ্যন্তরীণ ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা) স্কোর ৫০ শতাংশের নিচে থাকার পরও ঋণ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার লঙ্ঘন। ব্যবসায়িক আয় সন্তোষজনক না থাকা এবং জামানতের অনুপাত মাত্র ৪০–৭০ শতাংশ হওয়ার পরও ঋণ নবায়ন ও বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে ব্যাংক ও আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়ে।

দুদক জানায়, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রশাসন, আইটি বিভাগ ও পরিচালনা পর্ষদে আত্মীয় ও অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। সাবেক ডিএমডি তাহের আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আইসিটিডব্লিউ শাখার টর্চ সফটওয়্যার ‘ম্যানিপুলেশনের’ করে ঋণসীমা বৃদ্ধি ও মেয়াদ পরিবর্তন করা হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে দুদক জানায়, ১৩৪টি ঋণের মাধ্যমে মোট ৯২৮৩ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা আহসান এন্টারপ্রাইজ, ইমপ্রেস কর্পোরেশন, অ্যাপারচার ট্রেডিং, ইউনিক ট্রেডার্সসহ নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, যা পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান—সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন, এস এস পাওয়ার, এস আলম স্টিলস, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদি কোম্পানির হিসাবে জমা হয়।

ঋণের গতিবিধি পর্যালোচনা করে দুদক দেখেছে, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার এস আলম ট্রেডিং কোম্পানির হিসাব থেকে ৩৭ কোটি টাকা রূপালী ব্যাংকের ওআর নিজাম রোড শাখার গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে ২৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ (২৩.৫৮ মিলিয়ন ডলার) ব্যাংক অব চায়নার সিঙ্গাপুর শাখায় এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অফশোর অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়।

দুদক বলছে, এ প্রক্রিয়ায় আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের সফটওয়্যারে কারসাজি করে আসামিরা অনুমোদনহীন ঋণ প্রদান করেন এবং মোট ৯ ২৮৩.৯৩ কোটি টাকা (বর্তমানে সুদ-আসলে পরিমাণ ১০৪৭৯.৬২ কোটি) আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে ৩.৫০ গ্রাম হেরোইনসহ ভাই-বোন গ্রেফতার।

দুদকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা এস আলমের বিরুদ্ধে।

আপডেট সময় : ১২:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তার স্ত্রী, পাঁচ ভাইসহ প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৬৭ জনের বিরুদ্ধে ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় মামলা হিসেবে অভিহিত করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি, নীতিমালা ও পরিপত্র উপেক্ষা করে আসামিরা যোগসাজশ করে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম স্টিলস লিমিটেড ও এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেন। এর বিপরীতে রাখা হয় অপ্রতুল জামানত।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ঋণসীমা ২,৪০০ কোটি টাকা থেকে ৩,৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করে, যা ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশ অতিক্রম করে।

এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগের একক গ্রাহক ঋণসীমা নীতিমালার লঙ্ঘন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সিআইবি রিপোর্টে ঋণগ্রহীতা কোম্পানির দায় অতিরিক্ত থাকলেও এবং আইসিআরআরএস (অভ্যন্তরীণ ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা) স্কোর ৫০ শতাংশের নিচে থাকার পরও ঋণ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার লঙ্ঘন। ব্যবসায়িক আয় সন্তোষজনক না থাকা এবং জামানতের অনুপাত মাত্র ৪০–৭০ শতাংশ হওয়ার পরও ঋণ নবায়ন ও বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে ব্যাংক ও আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়ে।

দুদক জানায়, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রশাসন, আইটি বিভাগ ও পরিচালনা পর্ষদে আত্মীয় ও অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। সাবেক ডিএমডি তাহের আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আইসিটিডব্লিউ শাখার টর্চ সফটওয়্যার ‘ম্যানিপুলেশনের’ করে ঋণসীমা বৃদ্ধি ও মেয়াদ পরিবর্তন করা হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ৫,৯০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে দুদক জানায়, ১৩৪টি ঋণের মাধ্যমে মোট ৯২৮৩ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা আহসান এন্টারপ্রাইজ, ইমপ্রেস কর্পোরেশন, অ্যাপারচার ট্রেডিং, ইউনিক ট্রেডার্সসহ নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, যা পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান—সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন, এস এস পাওয়ার, এস আলম স্টিলস, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদি কোম্পানির হিসাবে জমা হয়।

ঋণের গতিবিধি পর্যালোচনা করে দুদক দেখেছে, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার এস আলম ট্রেডিং কোম্পানির হিসাব থেকে ৩৭ কোটি টাকা রূপালী ব্যাংকের ওআর নিজাম রোড শাখার গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে ২৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ (২৩.৫৮ মিলিয়ন ডলার) ব্যাংক অব চায়নার সিঙ্গাপুর শাখায় এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অফশোর অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়।

দুদক বলছে, এ প্রক্রিয়ায় আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের সফটওয়্যারে কারসাজি করে আসামিরা অনুমোদনহীন ঋণ প্রদান করেন এবং মোট ৯ ২৮৩.৯৩ কোটি টাকা (বর্তমানে সুদ-আসলে পরিমাণ ১০৪৭৯.৬২ কোটি) আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন।