ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯ মোহনা টিভির অনলাইন শাখায় পুনর্বিন্যাস: আটজনকে অব্যাহতি; বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকির অভিযোগ আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয় (মন্ত্রণালয়) স্থানান্তরের গল্প: ঢাকার বাস্তবতা….. কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ প্রয়াত নন-পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে কেএমপি, দুর্গাপূজার উপহার দিলেন পুলিশ কমিশনার গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১১৬ প্রকৌশলীর  ‎বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ!  ‎ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে হুইপ বকুল পঞ্চগড়ে সদরে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলার নিয়োগের আদেশ বাতিল করে : ছোলায়মান আলীকে সার ডিলার নিয়োগের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত থ্রি-হুইলারযান শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আবুল হাসান খান

পূর্ণ যৌবনা কুমার নদী এখন জৌলুস হারিয়ে মৃত প্রায় নদীতে রূপ নিয়েছে।

এক সময়ের প্রমত্তা, খরস্রোতা,পূর্ণ যৌবনের জৌলুস, দাম্ভিকতা কোনটাই অবশিষ্ট নেই, সব কিছুই আজ হারিয়ে ফেলেছে রাজৈরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদী। কালের পরিক্রমায় কুমার নদী আজ মৃত প্রায়।

 

একদিন এই নদীর নাম-ডাক ছিল যৌবনের উচ্ছাস, উদ্দিপনা ছিল, হুংকার আর গর্জনে হৃদপিন্ডে কাপনের সৃষ্টি হত পার্শ্ববর্তী দু-চার এলাকার লোকজনের। অথচ সেই নদী আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে প্রতিনিয়ত। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও মানুষের লাগামহীন অত্যাচারে কুমার নদী হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে।

ষাটের দশকে এই কুমার নদীর বুক চিরে বয়ে যেত বড়, বড় ষ্টীমার, লঞ্চ,চরমুগুরিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত। বড়, বড় ঘাসী নৌকা পাল তুলে ছুটে যেত ভাটিয়ালী গানের সুরের তালে,তালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের দুর- দুরন্তে যাতায়াতের এক মাত্র অবলম্বন ছিল এই কুমার নদী। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই নদী আজ মুখ থুবরে পড়ে আছে জীবন্ত লাশ হয়ে।

এই নদীর হিংস্র স্রোতে ডুবে গেছে অজস্র ছোট বড় নৌকা, কেড়ে নিয়েছে শত সহস্র মায়ের নারী ছেড়া ধন, অনেক ধনীকে বানিয়েছে ফকির, আবার ফকিরকে বানিয়েছে ধনী।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদী দুই পাড়ের বাসিন্দারা থাকতো আতংকে এই বুঝি তাদের শেষ সম্বল ভিটা বাড়ি টুকু কেড়ে নিয়ে যাবে নদী গর্ভে।

সেই নদী দিয়ে আজ লঞ্চ,স্টিমার চলা তো দুরের কথা মানুষের ব্যবহার করার মত পানিও থাকে না। এই নদী নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে পত্র পত্রিকায় কিন্ত কোন কিছুতেই প্রশাসনের টনক নড়ছে না। নদীর রাজৈরের অংশ কচুরিপানায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ময়লা আবর্জনা ফেলার একমাত্র ডাস্টবিনই মনে হচ্ছে এই নদী। রাজৈর পৌরসভার ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে আজকের কুমার নদী।

 

নদীটি আগের মত সচল থাকলে নদীর দুই পাড়ের কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় অনেক সাশ্রয়ী হত। নদীর পানি ব্যবহারে জমিতে বেড়ে যেত বহুগুণ উর্বরতা শক্তি, ফসল আসতো দ্বিগুন। তাই নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রানের দাবী নদী সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের চোখের কালো চশমা খুলে অতি দ্রুত কুমার নদীটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। নয়তো একদিন এ নদীর অস্তিত্ব খুঁজতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দ্বারস্থ হতে হবে। এলাকাবাসীর আশা অচিরেই হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভেঙ্গে কুমার নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

পূর্ণ যৌবনা কুমার নদী এখন জৌলুস হারিয়ে মৃত প্রায় নদীতে রূপ নিয়েছে।

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

এক সময়ের প্রমত্তা, খরস্রোতা,পূর্ণ যৌবনের জৌলুস, দাম্ভিকতা কোনটাই অবশিষ্ট নেই, সব কিছুই আজ হারিয়ে ফেলেছে রাজৈরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদী। কালের পরিক্রমায় কুমার নদী আজ মৃত প্রায়।

 

একদিন এই নদীর নাম-ডাক ছিল যৌবনের উচ্ছাস, উদ্দিপনা ছিল, হুংকার আর গর্জনে হৃদপিন্ডে কাপনের সৃষ্টি হত পার্শ্ববর্তী দু-চার এলাকার লোকজনের। অথচ সেই নদী আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে প্রতিনিয়ত। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও মানুষের লাগামহীন অত্যাচারে কুমার নদী হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে।

ষাটের দশকে এই কুমার নদীর বুক চিরে বয়ে যেত বড়, বড় ষ্টীমার, লঞ্চ,চরমুগুরিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত। বড়, বড় ঘাসী নৌকা পাল তুলে ছুটে যেত ভাটিয়ালী গানের সুরের তালে,তালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অত্র অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের দুর- দুরন্তে যাতায়াতের এক মাত্র অবলম্বন ছিল এই কুমার নদী। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই নদী আজ মুখ থুবরে পড়ে আছে জীবন্ত লাশ হয়ে।

এই নদীর হিংস্র স্রোতে ডুবে গেছে অজস্র ছোট বড় নৌকা, কেড়ে নিয়েছে শত সহস্র মায়ের নারী ছেড়া ধন, অনেক ধনীকে বানিয়েছে ফকির, আবার ফকিরকে বানিয়েছে ধনী।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদী দুই পাড়ের বাসিন্দারা থাকতো আতংকে এই বুঝি তাদের শেষ সম্বল ভিটা বাড়ি টুকু কেড়ে নিয়ে যাবে নদী গর্ভে।

সেই নদী দিয়ে আজ লঞ্চ,স্টিমার চলা তো দুরের কথা মানুষের ব্যবহার করার মত পানিও থাকে না। এই নদী নিয়ে অনেক লেখা লেখি হয়েছে পত্র পত্রিকায় কিন্ত কোন কিছুতেই প্রশাসনের টনক নড়ছে না। নদীর রাজৈরের অংশ কচুরিপানায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ময়লা আবর্জনা ফেলার একমাত্র ডাস্টবিনই মনে হচ্ছে এই নদী। রাজৈর পৌরসভার ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে আজকের কুমার নদী।

 

নদীটি আগের মত সচল থাকলে নদীর দুই পাড়ের কৃষকদের সেচ ব্যবস্থায় অনেক সাশ্রয়ী হত। নদীর পানি ব্যবহারে জমিতে বেড়ে যেত বহুগুণ উর্বরতা শক্তি, ফসল আসতো দ্বিগুন। তাই নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রানের দাবী নদী সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের চোখের কালো চশমা খুলে অতি দ্রুত কুমার নদীটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। নয়তো একদিন এ নদীর অস্তিত্ব খুঁজতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দ্বারস্থ হতে হবে। এলাকাবাসীর আশা অচিরেই হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভেঙ্গে কুমার নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন।