ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় জিডি।সম্মানহানি রোধে আইনানুগ পদক্ষেপ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিলেট সিটি অনলাইন প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল। ধামরাইয়ে জোরপূর্বক জমি দখলে রাখার অভিযোগ, বারংবার বিচারেও মিলছে না সমাধান। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন। ধামরাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার পুনর্বহাল নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন। বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হাবিবা বেগম।

  • রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

সব প্রার্থী যখন নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সদ্য প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে প্রচারের প্রস্তুতি শুরু করেছেন রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম ওরফে শেখ হাবিবা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী হকার্স মার্কেটে একটি ছাপাখানায় লিফলেট ছাপাতে দেখা যায় তাঁকে। লিফলেট হাতে পেয়েই প্রেস এলাকা থেকেই বিলি শুরু করেন তিনি।

এর আগে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে জাতির উদ্দেশে সাংবাদিকদের সামনে একটি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন হাবিবা বেগম। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালতের আদেশে তাঁর সংসদ সদস্য প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়।

হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেন। তিনি ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। রাজশাহী জেলায় তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

হাবিবা বেগম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর নামে ছয়টি মামলা দায়ের হয় এবং তাঁকে সাতবার কারাগারে যেতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অতীতে পুলিশের হাতে কামড় দেওয়ার ঘটনায় তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।

হাবিবার বাড়ি রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম মাসুদ রানা ওরফে হেলাল। রাজনৈতিক জীবনে তিনি উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

প্রার্থিতা বাতিল ও পুনর্বহালের বিষয়ে হাবিবা বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে আমার প্রার্থিতা বাতিল করেন। আপিল করেও ফেরত পাইনি। এরপর সাংবাদিকদের সামনে আমি বক্তব্য দিই, কারণ আপিলের সময় আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী জানেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রদ্ধেয় হাদি ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে গুলি খেয়ে মারা গেছেন।

হাবিবা দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। তবে স্বাক্ষরদাতাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি নামের তালিকা প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি যদি সবার জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন, তাহলে আমি তালিকা প্রকাশ করব। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বুধবার সকালে বলেন, মঙ্গলবার রাতেই হাইকোর্টের আদেশ পেয়েছি এবং রাতেই হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে হাবিবা বলেন, অর্থের অভাব থাকলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। “আমার স্বামীর একটি জমি আছে, সেটি এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছি। আরেক জায়গায় ছয় কাঠা জমি আছে, সেটিও বন্ধক রাখার জন্য আমার স্বামী গেছেন। এভাবেই আমি নির্বাচন করব। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। নির্বাচনী খরচ জনগণই বহন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় জিডি।সম্মানহানি রোধে আইনানুগ পদক্ষেপ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের।

হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হাবিবা বেগম।

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

সব প্রার্থী যখন নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সদ্য প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে প্রচারের প্রস্তুতি শুরু করেছেন রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম ওরফে শেখ হাবিবা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী হকার্স মার্কেটে একটি ছাপাখানায় লিফলেট ছাপাতে দেখা যায় তাঁকে। লিফলেট হাতে পেয়েই প্রেস এলাকা থেকেই বিলি শুরু করেন তিনি।

এর আগে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে জাতির উদ্দেশে সাংবাদিকদের সামনে একটি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন হাবিবা বেগম। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালতের আদেশে তাঁর সংসদ সদস্য প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়।

হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেন। তিনি ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। রাজশাহী জেলায় তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

হাবিবা বেগম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর নামে ছয়টি মামলা দায়ের হয় এবং তাঁকে সাতবার কারাগারে যেতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অতীতে পুলিশের হাতে কামড় দেওয়ার ঘটনায় তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।

হাবিবার বাড়ি রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম মাসুদ রানা ওরফে হেলাল। রাজনৈতিক জীবনে তিনি উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

প্রার্থিতা বাতিল ও পুনর্বহালের বিষয়ে হাবিবা বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে আমার প্রার্থিতা বাতিল করেন। আপিল করেও ফেরত পাইনি। এরপর সাংবাদিকদের সামনে আমি বক্তব্য দিই, কারণ আপিলের সময় আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশবাসী জানেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রদ্ধেয় হাদি ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে গুলি খেয়ে মারা গেছেন।

হাবিবা দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন। তবে স্বাক্ষরদাতাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি নামের তালিকা প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি যদি সবার জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন, তাহলে আমি তালিকা প্রকাশ করব। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বুধবার সকালে বলেন, মঙ্গলবার রাতেই হাইকোর্টের আদেশ পেয়েছি এবং রাতেই হাবিবা বেগমকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে হাবিবা বলেন, অর্থের অভাব থাকলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। “আমার স্বামীর একটি জমি আছে, সেটি এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছি। আরেক জায়গায় ছয় কাঠা জমি আছে, সেটিও বন্ধক রাখার জন্য আমার স্বামী গেছেন। এভাবেই আমি নির্বাচন করব। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। নির্বাচনী খরচ জনগণই বহন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।