ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় জিডি।সম্মানহানি রোধে আইনানুগ পদক্ষেপ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিলেট সিটি অনলাইন প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল। ধামরাইয়ে জোরপূর্বক জমি দখলে রাখার অভিযোগ, বারংবার বিচারেও মিলছে না সমাধান। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন। ধামরাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৩। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার পুনর্বহাল নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন। বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সড়ক ও জনপদের সার্ভেয়ার  আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১১ জন সংবাদটি পড়েছেন

সড়ক ও জনপদের সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ তৃত্বীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হয়েও গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। নামে-বেনামে দৃশ্যমান কয়েক কোটি টাকার সম্পদের তিনি মালিক হয়েছেন। আজিজ মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউপির হাজী গবিন্দপুর ঠনঠনিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তার বাবা একজন সাধারণ কৃষক ও সাবেক ইউপি সদস্য ।পৈত্রিক সুত্রে সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজের বাবা মাত্র ৫ বিঘা সম্পত্তির মালিক। টানা পোড়নের মধ্যে দিয়ে কোনভাবে চলতো তার বাবার সংসার।

ওই পরিবারের একমাত্র ছেলে আজিজ। টানাপোড়নের সংসারে অনেক কষ্টে সে লেখাপড়া করে।এসএসসি পাশ করার পর, সে রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট কলেজ থেকে ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে পাশ করেন।এর কিছুদিন পরই তিনি সড়ক ও জনপথের সার্ভেয়ারের চাকরিতে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই চাকরির নামে সোনার হরিণ হাতে পেয়ে যান তিনি। শুরু হয় তার অবৈধ উপার্জনের তেলেসমাতি। মাত্র ১৪ বছরের চাকরি জীবনে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তৃত্বীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ বনে গেছেন কোটিপতি। বর্তমানে তিনি সওজের উপ-সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর অফিসে কর্মরত আছেন।

২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে তিনি চাকরিতে যোগদান করেন। ১৪ তম গ্রেডের চাকরি করে তিনি কিভাবে এত সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এমন প্রশ্ন এলাকার সচেতন মহলের। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন মেসার্স এস কে নামে এলপিজি ফিলিং স্টেশন পাম্প, যার অনুমানিক ব্যয় ১ কোটি টাকা। ফেরিঘাট শহীদ কামারুজ্জামান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের সামনে দোকানঘরসহ জমিরক্রয় করেছেন। যার অনুমানিক মূল্য ২০ লক্ষ টাকা। রাজশাহী শহরের হেতেমখাঁ ঘোষপাড়া মোড় এলাকায় “ক্ষণিকের আশ্রয়” নামে ৫তলা বিলামবহুল ভবন ক্রয় করেছেন। যার হোর্ডিং নং ৮০/৪। যার আনুমানিক মূল্য জমিসহ ১০ কোটি টাকা, শহরে রয়েছে তার আরো একটি তিন তলা বাড়ি ও রাজশাহী শহরে আরডিএ ভবনের পাশে ক্রয়কৃত কোটি টাকা মূল্যের প্লট, গ্রামের ঠনঠনিয়া পাড়াতেও গড়েছেন আরো একটি আলিসান বাড়ি, উপজেলার বিল উতরাইল মৌজায় তার বাবার নামে কিনেছেন ১০বিঘা জমি। এভাবে নামে বেনামে বিভিন্ন এলাকায় জমি ক্রয় ও কোটি টাকার স্থাপনা গড়ে তুলেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান, শহরের পাশাপাশি গ্রামেও জায়গা জমি কিনেছেন অনেক। দাদার জমি ৫ বিঘার মতো হলেও তা ছাড়িয়েছে কয়েক গুণ। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন অফিসে ইউএনও অফিসের পিয়ন মিরাজুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তা বিভিন্ন মাধ্যমে ধামাচাপা দেন সার্ভেয়ার আজিজ।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের ছেলে সার্ভেয়ার পদে যোগদানের পরপরই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন।

নওগাঁতে চাকরি করা অবস্থায় সার্ভেয়ার আজিজ, মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অথবা বাড়ির মালিকদের সড়ক ও জনপদের অধিগ্রহণকৃত জমি লিজের কাগজ করে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, তিনি নওগাঁ সড়ক ও জনপথে চাকরি করার সময় আমার জমির সামনের অংশ তার নিকট থেকে লিজ নিয়েছি। তিনি লিজের কাগজপত্রও করে দিয়েছেন। এভাবে জেলার শত শত ব্যক্তির কাছ থেকে লিজের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও সড়ক ও জনপথের জমির পজিশন মৌখিক ভাবে লিজ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জমি মালিকদের নিকট থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপথের এক কর্মাচারী জানান, উপজেলার এক মেয়ের বাবার বহুতল ভবন সওজের আংশিক জমিতে পড়ে। পরে ভবন ভেঙ্গে দেওযার ভয় দেখিয়ে ভবন মালিকের মেয়েকে বিবাহ করেন। তার সাথে কিছুদিন ঘর সংসার করার পর তালাক দেওয়া হয় সেই মেয়েকে। সেখান থেকেও হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এভাবেই অনেক শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, কৃষক, রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গের নিকট থেকে জমি মৌখিক ও কাগজ করে লিজ দেওয়ার অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও তার পরিবারের নিকট থেকে ৫২ ভরি স্বর্ণ মজুদের হিসাব পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে সড়ক ও জনপথের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সার্ভার (বর্তমান কর্মস্থল) আব্দুল আজিজ জানান, বাড়ি বাদে শহরে তার কোন কিছু নেই। তবে আরডিএর ভবনের পাশে একটি প্লট কিনেছি। সেটিও একক নয়্ শেয়ারে কিনেছি।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় জিডি।সম্মানহানি রোধে আইনানুগ পদক্ষেপ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের।

১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সড়ক ও জনপদের সার্ভেয়ার  আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা।

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সড়ক ও জনপদের সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ তৃত্বীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হয়েও গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। নামে-বেনামে দৃশ্যমান কয়েক কোটি টাকার সম্পদের তিনি মালিক হয়েছেন। আজিজ মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউপির হাজী গবিন্দপুর ঠনঠনিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তার বাবা একজন সাধারণ কৃষক ও সাবেক ইউপি সদস্য ।পৈত্রিক সুত্রে সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজের বাবা মাত্র ৫ বিঘা সম্পত্তির মালিক। টানা পোড়নের মধ্যে দিয়ে কোনভাবে চলতো তার বাবার সংসার।

ওই পরিবারের একমাত্র ছেলে আজিজ। টানাপোড়নের সংসারে অনেক কষ্টে সে লেখাপড়া করে।এসএসসি পাশ করার পর, সে রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট কলেজ থেকে ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে পাশ করেন।এর কিছুদিন পরই তিনি সড়ক ও জনপথের সার্ভেয়ারের চাকরিতে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই চাকরির নামে সোনার হরিণ হাতে পেয়ে যান তিনি। শুরু হয় তার অবৈধ উপার্জনের তেলেসমাতি। মাত্র ১৪ বছরের চাকরি জীবনে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তৃত্বীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ বনে গেছেন কোটিপতি। বর্তমানে তিনি সওজের উপ-সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর অফিসে কর্মরত আছেন।

২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে তিনি চাকরিতে যোগদান করেন। ১৪ তম গ্রেডের চাকরি করে তিনি কিভাবে এত সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এমন প্রশ্ন এলাকার সচেতন মহলের। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন মেসার্স এস কে নামে এলপিজি ফিলিং স্টেশন পাম্প, যার অনুমানিক ব্যয় ১ কোটি টাকা। ফেরিঘাট শহীদ কামারুজ্জামান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের সামনে দোকানঘরসহ জমিরক্রয় করেছেন। যার অনুমানিক মূল্য ২০ লক্ষ টাকা। রাজশাহী শহরের হেতেমখাঁ ঘোষপাড়া মোড় এলাকায় “ক্ষণিকের আশ্রয়” নামে ৫তলা বিলামবহুল ভবন ক্রয় করেছেন। যার হোর্ডিং নং ৮০/৪। যার আনুমানিক মূল্য জমিসহ ১০ কোটি টাকা, শহরে রয়েছে তার আরো একটি তিন তলা বাড়ি ও রাজশাহী শহরে আরডিএ ভবনের পাশে ক্রয়কৃত কোটি টাকা মূল্যের প্লট, গ্রামের ঠনঠনিয়া পাড়াতেও গড়েছেন আরো একটি আলিসান বাড়ি, উপজেলার বিল উতরাইল মৌজায় তার বাবার নামে কিনেছেন ১০বিঘা জমি। এভাবে নামে বেনামে বিভিন্ন এলাকায় জমি ক্রয় ও কোটি টাকার স্থাপনা গড়ে তুলেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান, শহরের পাশাপাশি গ্রামেও জায়গা জমি কিনেছেন অনেক। দাদার জমি ৫ বিঘার মতো হলেও তা ছাড়িয়েছে কয়েক গুণ। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন অফিসে ইউএনও অফিসের পিয়ন মিরাজুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তা বিভিন্ন মাধ্যমে ধামাচাপা দেন সার্ভেয়ার আজিজ।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের ছেলে সার্ভেয়ার পদে যোগদানের পরপরই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন।

নওগাঁতে চাকরি করা অবস্থায় সার্ভেয়ার আজিজ, মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অথবা বাড়ির মালিকদের সড়ক ও জনপদের অধিগ্রহণকৃত জমি লিজের কাগজ করে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, তিনি নওগাঁ সড়ক ও জনপথে চাকরি করার সময় আমার জমির সামনের অংশ তার নিকট থেকে লিজ নিয়েছি। তিনি লিজের কাগজপত্রও করে দিয়েছেন। এভাবে জেলার শত শত ব্যক্তির কাছ থেকে লিজের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও সড়ক ও জনপথের জমির পজিশন মৌখিক ভাবে লিজ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জমি মালিকদের নিকট থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক ও জনপথের এক কর্মাচারী জানান, উপজেলার এক মেয়ের বাবার বহুতল ভবন সওজের আংশিক জমিতে পড়ে। পরে ভবন ভেঙ্গে দেওযার ভয় দেখিয়ে ভবন মালিকের মেয়েকে বিবাহ করেন। তার সাথে কিছুদিন ঘর সংসার করার পর তালাক দেওয়া হয় সেই মেয়েকে। সেখান থেকেও হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এভাবেই অনেক শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, কৃষক, রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গের নিকট থেকে জমি মৌখিক ও কাগজ করে লিজ দেওয়ার অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও তার পরিবারের নিকট থেকে ৫২ ভরি স্বর্ণ মজুদের হিসাব পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে সড়ক ও জনপথের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সার্ভার (বর্তমান কর্মস্থল) আব্দুল আজিজ জানান, বাড়ি বাদে শহরে তার কোন কিছু নেই। তবে আরডিএর ভবনের পাশে একটি প্লট কিনেছি। সেটিও একক নয়্ শেয়ারে কিনেছি।