বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের ক্ষমতালিপ্সা একটি মস্ত বড় সমস্যা। আমলারা ক্ষমতা হাতছাড়া করতে চায় না বরং ক্রমাগতভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সচেষ্ট হয়। ফলে তাদের অধীনস্থ দপ্তরগুলো ক্ষমতাশূন্য হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুনের কোন ধরনের পরিবর্তনকে এরা সহজে মেনে নিতে চায় না।
আমলাতন্ত্র জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমলাগণ সমাজের অন্যান্য অংশের তুলনায় নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র বলে গণ্য করেন। আমলাগণ পেশাদারী প্রশাসক। বৈষয়িক উন্নতি এবং প্রশাসনে নতুন মর্যাদা অর্জনের জন্য আমলাগণ সর্বদাই সচেষ্ট থাকেন। জনজীবনের সমস্যা সম্পর্কে তারা সজাগ থাকেন না। দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো সরকারি দায়িত্বে নিযুক্ত থাকার জন্য সমাজের অন্যান্য অংশের প্রতি আমলাদের তাচ্ছিল্যের মনোভাব গড়ে ওঠে। নিজের পদোন্নতি এবং বৈষয়িক পুরস্কার অর্জন তাদের দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রভাবিত করে। সাধারণ জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের ফলপ্রসূ কার্য-পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর সীমাবদ্ধতা।
আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রতা, আনুষ্ঠানিকতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিচ্ছার ফলে জনগণের সমস্যার কথা, আবেদন-নিবেদন তাঁদের কাছে প্রেরিত হলে সহজে সেই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। সকল প্রস্তাব দীর্ঘদিন ফাইলবন্দী থাকে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযথা বিলম্বিত হয়। ফাইলের লালফিতার বাঁধন সহসা খোলা হয় না। এজন্য অনেকে মনে করেন আমলাতন্ত্র হচ্ছে লালফিতার দৌরাত্ম। আমলাতন্ত্রের ঔদাসীন্য, আনুষ্ঠানিকতা, রুটিনমাফিক কাজের প্রবণতা, দীর্ঘসূত্রিতা, বিভাগীয় মনোভাব এবং গড়িমসির প্রচেষ্টা দূর করার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
আমলাতন্ত্র জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমলাগণ সমাজের অন্যান্য অংশের তুলনায় নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র বলে গণ্য করেন। আমলাগণ পেশাদারী প্রশাসক। বৈষয়িক উন্নতি এবং প্রশাসনে নতুন মর্যাদা অর্জনের জন্য আমলাগণ সর্বদাই সচেষ্ট থাকেন। জনজীবনের সমস্যা সম্পর্কে তারা সজাগ থাকেন না। দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো সরকারি দায়িত্বে নিযুক্ত থাকার জন্য সমাজের অন্যান্য অংশের প্রতি আমলাদের তাচ্ছিল্যের মনোভাব গড়ে ওঠে। নিজের পদোন্নতি এবং বৈষয়িক পুরস্কার অর্জন তাদের দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রভাবিত করে। সাধারণ জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের ফলপ্রসূ কার্য-পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর সীমাবদ্ধতা।
আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি প্রশাসনিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা। বাংলাদেশ বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আমলা প্রশাসন উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে। সুতরাং সেই সুদূর অতীত থেকে আমলাতন্ত্রের যে সমস্যাগুলো এই উপমহাদেশে আসন গেড়েছে, তাও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। আমলাগণের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে এর অতি বিকাশ ঘটেছে, ফলে সেবকের অবস্থান থেকে তারা প্রভুর স্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পিছনে কিছু কারণ বিদ্যমান রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশে উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব একটি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। নেতৃত্বের দুর্বলতা ও সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিদের অদক্ষতার সুযোগে আমলাগণ প্রশাসনে অতিরিক্ত ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে।
দেশে রাজনৈতিক অস্থি’রতার সুযোগে আমলাগণ প্রশাসনে অধিক ক্ষমতা চর্চার সুযোগ পেয়েছে। অতিরিক্ত ক্ষমতা চর্চার ফলে আমলাগণ জন-সেবকের পরিবর্তে নিজেদেরকে প্রভুর ভূমিকায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছেন। উপরিউক্ত কারণ ছাড়াও রাজনৈতিক দল, জনমত, নির্বাচক মন্ডলী কোনটাই এখানে সুসংগঠিত নয়। যার ফলে জনগণের রাজনৈতিক চেতনার মান অত্যন্ত নিম্ন। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগেও বিভিন্ন দুর্বলতা বিদ্যমান। বাংলাদেশে এসবের অভাব তীব্রভাবে বিদ্যমান থাকায় একটি সংঘবদ্ধ শ্রেণি হিসেবে আমলাতন্ত্রের অতি বিকাশ ঘটেছে। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শহরায়ন, শিল্পায়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ইত্যাদি কারণে আমলাদের হাতে প্রচুর ক্ষমতা ন্যস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে আমলাতন্ত্র প্রভুত্বের ভুমিতায় অবতীর্ণ হয়েছে।
নির্বাচিত সরকার কর্তৃক দেশের স্বার্থে, জনস্বার্থে আমলাতন্ত্রের অতিবিকশিত ব্যবস্থায় লাগাম টানার ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার। প্রয়োজনীতা দেখা দিয়েছে আমলাতন্ত্রে জনবান্ধবমুখী পেশাদারী মনোভাব তৈরীর জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের, বিদ্যমান আইনের কঠিন প্রয়োগের। প্রভুত্ব নয়-জনসেবা হউক আমলাতন্ত্রের অন্যতম অংগীকার। বৈষম্যমুক্ত এবং কল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মানে জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন আমলাতন্ত্রের।তাহলেই দেশে গণতন্ত্রায়ণ সম্ভব।প্রভূ দাসের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে পশ্চিমা ধাঁচের সমতাতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।তবে দেশের প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন যে শুরু হয়েছে তা নতুন সরকারের আচরণে স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে। আমরা চাই সম অংশীদারিত্ব। ন্যায় ও সমতাভিত্তিক রেইনবো সোসাইটি।
রোস্তম মল্লিক 
















