ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন। তারেক রহমানের প্রথম সিদ্ধান্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বার্তা। মাগুরায় ৩ মাস আগে চেক গ্রহণ করলেও শিক্ষার্থীরা পায়নি টাকা বা পুরষ্কার: প্রধান শিক্ষক বললেন, এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের কোন নির্দেশনা নেই। হাসিনা আমলের স্টাইলেই চলছে সকল মন্ত্রণালয়।ফাঁস হচ্ছে তথ্য,গায়েব হচ্ছে ফাইল! চাইনিজ তরুণীর প্রেমে মগ্ন বাঙালি তরুণ সুকান্তের বিবাহের খবরে এলাকায় উৎসবের আমেজ। প্রভূসুলভ আচরণ নয়-জনসেবা হোক আমলাতন্ত্রের অন্যতম অংগীকার!  সদ্য বিদায়ী অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের দাবী।জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ! দিনাজপুরে ইমারজেন্সি রেসপন্স টিমের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ। মানবপাচারের অভিযোগে ঝিকরহাটির ইউসুফ খানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বিচারের দাবি। মাদারীপুরের ডাসারে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে বিপরীতমূখী দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষ।নিহত দুই আহত প্রায় ২০।

হাসিনা আমলের স্টাইলেই চলছে সকল মন্ত্রণালয়।ফাঁস হচ্ছে তথ্য,গায়েব হচ্ছে ফাইল!

  • রোস্তম মল্লিক
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলাদেশ সরকারের মোট ৪৩ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ২টি-র শেষে কার্যালয়, ২টি-র শেষে বিভাগ এবং ৩৯টি-র শেষে মন্ত্রণালয় যুক্ত । মন্ত্রণালয় গুলো হলো: ১) রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ২) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৩) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ৪) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৫) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৭) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৮) ভূমি মন্ত্রণালয় ৯) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ১১) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১২) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৩) কৃষি মন্ত্রণালয় ১৪) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৫) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৬) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৭) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১৮) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ১৯) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ২০) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২১) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২২) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ২৩) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৪) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২৬) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২৭) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২৯) খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩০) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১) শিল্প মন্ত্রণালয় ৩২) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৩৩) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৪) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৩৫) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৬) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৭) রেলপথ মন্ত্রণালয় ৩৮) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ৩৯) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৪০) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৪১) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৪২) তথ্য মন্ত্রণালয় ৪৩) অর্থ মন্ত্রণালয়।

২০২৪/২৫ অর্থ বছরের হিসাব মতে এসব মন্ত্রণালয়ের অধিনে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারি চাকুরী করেন। যদিও অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১টি। বর্তমানে শুন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০ টি।

এ সব মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ শত লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব এর দপ্তরে। আর এই লিখিত অভিযোগগুলোর সিংহভাগ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে গায়েব হয়ে যায়। আর যেটা গায়েব করা সম্ভব হয়না সেটির ফটোকপি বা তথ্য মোবাইলের মাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়া হয় অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারির কাছে।

শেখ হাসিনার সরকার আমলে গত ১৭ বছর এইভাবে ফাইল গায়েব ও গোপন তথ্য পাচার বা ফাঁস করে মন্ত্রণালয়গুলোর এক শ্রেণীর কর্মচারি লাখপতি বা কোটিপতি বনে গেছেন। এরা স¦ স্ব মন্ত্রণালয়ে দলবাজ কর্মচারি হিসাবে সুপরিচিত বিধায় সব সময়ই মন্ত্রী,সচিবের আনুকুল্য পেয়ে থাকেন। ফলে অনেকটা ড্যামকেয়ার তাদের আচরণ।

জনপ্রশাসনের সেবা নিয়ে গবেষনা করা একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে-বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সারা বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ৫/৬ শত লিখিত অভিযোগ আসে কুরিয়ার ও ডাক যোগে। এ ছাড়া ই-মেইলেও আসে কয়েকশত অভিযোগ। কিন্তু এসব অভিযোগের সিংহভাগই মন্ত্রী, সচিবগনের টেবিলে পৌছে না। ফলে অভিযোগকারী কোন প্রতিকার পান না। বেশির ভাগ অভিযোগের তথ্য ফাঁস করা হয় অথবা অভিযোগপত্রটি গায়েব করে দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় ও বিভাগে অভিযোগ প্রাপ্তি ও সংরক্ষনের দালিলিক প্রমাণ সংরক্ষণ না করায় কর্মচারিদের একটি অসাধুচক্র এই সব অভিযোগ নিয়ে অনৈতিক বাণিজ্যে লিপ্ত হন। তারা অভিযোগটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সাথে সাথেই সেটির মূলকপি অথবা ছায়ালিপি কপি নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে (কখনো মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ) অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে ফোন করে জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযোগটি গায়েব করে দেন অথবা মোবাইল মাধ্যমে অভিযোগের ছায়ালিপি কপি পাঠিয়ে দেন। এ পন্থা গত ১৭ বছর চলে আসছে। ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা বিভাগীয় শাস্তি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে অভিযোগকারিরাও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এতেকরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে দুর্নীতি করার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।

এ প্রসংগে একজন প্রবীন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ সারাক্ষণ বার্তাকে জানান, দেশের সরকারী দপ্তর সমূহের অনিয়ম-দুর্নীতি কমাতে হলে মন্ত্রী ও সচিবদের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকতে হবে।দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করতে হবে। তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সমুহের ফাইল ওয়ার্ক ও শৃংখলা বিষয়ে বিশেষ নজরদারী রাখতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একটি করে অভিযোগ সেল বা শাখা স্থাপন করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে বা মাসে একবার দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা অভিযোগগুলোর ডাটা সংরক্ষণ করে সেগুলো তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে। অভিযোগগুলো যেন কোভাবেই অসাধু কর্মচারিরা গায়েব করতে না পারে সেজন্য সেগুলো ডিজিটালাইড ফরমেটে নথি সংরক্ষন করতে হবে। অভিযোগকারীকে প্রাপ্তি স্বীকার করে পত্র দিতে হবে। তাহলেই অসাধু কর্মচারিদের অভিযোগ কেন্দ্রিক বাণিজ্য ও দুর্নীতি বন্ধ হতে পারে।

যে সব মন্ত্রণালয়ে আলোচনায়:

গোপন তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েবের শীর্ষে রয়েছে- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়,অর্থ মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ভুমি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ,জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়,সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়,খাদ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরি সম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ফাইল গায়েব ও তথ্য ফাঁসে কারা জড়িত:

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ে বা বিভাগে ফাইল গায়েব ও তথ্য ফাঁসের সাথে ২য়.৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কিছু কর্মচারি ও কর্মকর্তা জড়িত। এরা মন্ত্রী ও সচিবের দপ্তরে বছরের পর বছর চাকুরী করছেন। বদলী করলেই আবার তদবীর করে স্বপদে ফিরে আসেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সচিবালয়ের বাইরে বদলী করা যায় না। ঘুরে ফিরে সচিবালয়েই পোস্টিং বাগিয়ে নেন। মন্ত্রী বা সচিবের পিএস,এপিএস,পিয়ন ও চিঠিপত্র গ্রহণ শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা এই ক্ষেত্রে মুখ্য ভুমিকা পালন করেন। তারা সারাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েব করার সাথে যুক্ত রয়েছেন। এদের ওপর গোপন নজরদারি করলেই যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যাবে।

টিআইবির বক্তব্য:

এ প্রসংগে ট্রানাস্পারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) এর একজন গবেষণা কর্মকর্তা সারাক্ষণ বার্তাকে জানান,বাংলাদেশের শীর্ষ প্রশাসন বা সচিবালয়ে এক শ্রেণীর অসাধু দলবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারির সৃষ্টি হয়েছে। যারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দুর্নীতিবাজ (অভিযুক্ত) কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কাছে মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে। প্রায় দেড় দশক ধরে এই প্রবণতা চলছে। এতেকরে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। জনপ্রশাসন রাজ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন সরকারের মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তাঁরা যেন এ বিষয়ে সতর্ক থাকেন এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব এর পদক্ষেপ জরুরী:

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গোপনীয় তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারে কঠোর নির্দেশনা ও শাস্তিমূলক বিধি থাকলেও সেটি চলমান সময়ে অকার্যকর বলেই মনে হচ্ছে। ফ্যাসিবাদ সরকার আমলে সেটি একদমই অকার্যকর ছিল। ফলে এ বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার রেকর্ড নেই। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আমলেও একই ধারা পরিলক্ষিত ছিল। ফলে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের দুর্নীতির সূচক একটুও নিন্মগামি হয়নি। বর্তমান সরকার আমলেও যদি সেই ধারা বহাল থাকে তবে তা হবে দেশ ও জাতির জন্য চরম আত্মঘাতি। এ বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ সচিব কঠোর নির্দেশনা জারি করতে পারেন।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন।

হাসিনা আমলের স্টাইলেই চলছে সকল মন্ত্রণালয়।ফাঁস হচ্ছে তথ্য,গায়েব হচ্ছে ফাইল!

আপডেট সময় : ০২:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের মোট ৪৩ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ২টি-র শেষে কার্যালয়, ২টি-র শেষে বিভাগ এবং ৩৯টি-র শেষে মন্ত্রণালয় যুক্ত । মন্ত্রণালয় গুলো হলো: ১) রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ২) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৩) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ৪) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৫) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৭) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৮) ভূমি মন্ত্রণালয় ৯) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ১১) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১২) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৩) কৃষি মন্ত্রণালয় ১৪) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৫) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৬) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৭) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১৮) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ১৯) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ২০) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২১) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২২) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ২৩) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৪) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২৬) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২৭) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২৯) খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩০) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১) শিল্প মন্ত্রণালয় ৩২) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৩৩) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৪) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৩৫) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৬) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৭) রেলপথ মন্ত্রণালয় ৩৮) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ৩৯) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৪০) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৪১) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৪২) তথ্য মন্ত্রণালয় ৪৩) অর্থ মন্ত্রণালয়।

২০২৪/২৫ অর্থ বছরের হিসাব মতে এসব মন্ত্রণালয়ের অধিনে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারি চাকুরী করেন। যদিও অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১টি। বর্তমানে শুন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০ টি।

এ সব মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ শত লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব এর দপ্তরে। আর এই লিখিত অভিযোগগুলোর সিংহভাগ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে গায়েব হয়ে যায়। আর যেটা গায়েব করা সম্ভব হয়না সেটির ফটোকপি বা তথ্য মোবাইলের মাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়া হয় অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারির কাছে।

শেখ হাসিনার সরকার আমলে গত ১৭ বছর এইভাবে ফাইল গায়েব ও গোপন তথ্য পাচার বা ফাঁস করে মন্ত্রণালয়গুলোর এক শ্রেণীর কর্মচারি লাখপতি বা কোটিপতি বনে গেছেন। এরা স¦ স্ব মন্ত্রণালয়ে দলবাজ কর্মচারি হিসাবে সুপরিচিত বিধায় সব সময়ই মন্ত্রী,সচিবের আনুকুল্য পেয়ে থাকেন। ফলে অনেকটা ড্যামকেয়ার তাদের আচরণ।

জনপ্রশাসনের সেবা নিয়ে গবেষনা করা একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে-বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সারা বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ৫/৬ শত লিখিত অভিযোগ আসে কুরিয়ার ও ডাক যোগে। এ ছাড়া ই-মেইলেও আসে কয়েকশত অভিযোগ। কিন্তু এসব অভিযোগের সিংহভাগই মন্ত্রী, সচিবগনের টেবিলে পৌছে না। ফলে অভিযোগকারী কোন প্রতিকার পান না। বেশির ভাগ অভিযোগের তথ্য ফাঁস করা হয় অথবা অভিযোগপত্রটি গায়েব করে দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় ও বিভাগে অভিযোগ প্রাপ্তি ও সংরক্ষনের দালিলিক প্রমাণ সংরক্ষণ না করায় কর্মচারিদের একটি অসাধুচক্র এই সব অভিযোগ নিয়ে অনৈতিক বাণিজ্যে লিপ্ত হন। তারা অভিযোগটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সাথে সাথেই সেটির মূলকপি অথবা ছায়ালিপি কপি নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে (কখনো মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ) অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে ফোন করে জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযোগটি গায়েব করে দেন অথবা মোবাইল মাধ্যমে অভিযোগের ছায়ালিপি কপি পাঠিয়ে দেন। এ পন্থা গত ১৭ বছর চলে আসছে। ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা বিভাগীয় শাস্তি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে অভিযোগকারিরাও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এতেকরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে দুর্নীতি করার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।

এ প্রসংগে একজন প্রবীন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ সারাক্ষণ বার্তাকে জানান, দেশের সরকারী দপ্তর সমূহের অনিয়ম-দুর্নীতি কমাতে হলে মন্ত্রী ও সচিবদের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকতে হবে।দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করতে হবে। তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সমুহের ফাইল ওয়ার্ক ও শৃংখলা বিষয়ে বিশেষ নজরদারী রাখতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একটি করে অভিযোগ সেল বা শাখা স্থাপন করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে বা মাসে একবার দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা অভিযোগগুলোর ডাটা সংরক্ষণ করে সেগুলো তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে। অভিযোগগুলো যেন কোভাবেই অসাধু কর্মচারিরা গায়েব করতে না পারে সেজন্য সেগুলো ডিজিটালাইড ফরমেটে নথি সংরক্ষন করতে হবে। অভিযোগকারীকে প্রাপ্তি স্বীকার করে পত্র দিতে হবে। তাহলেই অসাধু কর্মচারিদের অভিযোগ কেন্দ্রিক বাণিজ্য ও দুর্নীতি বন্ধ হতে পারে।

যে সব মন্ত্রণালয়ে আলোচনায়:

গোপন তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েবের শীর্ষে রয়েছে- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়,অর্থ মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ভুমি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ,জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়,সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়,খাদ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরি সম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ফাইল গায়েব ও তথ্য ফাঁসে কারা জড়িত:

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ে বা বিভাগে ফাইল গায়েব ও তথ্য ফাঁসের সাথে ২য়.৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কিছু কর্মচারি ও কর্মকর্তা জড়িত। এরা মন্ত্রী ও সচিবের দপ্তরে বছরের পর বছর চাকুরী করছেন। বদলী করলেই আবার তদবীর করে স্বপদে ফিরে আসেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সচিবালয়ের বাইরে বদলী করা যায় না। ঘুরে ফিরে সচিবালয়েই পোস্টিং বাগিয়ে নেন। মন্ত্রী বা সচিবের পিএস,এপিএস,পিয়ন ও চিঠিপত্র গ্রহণ শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা এই ক্ষেত্রে মুখ্য ভুমিকা পালন করেন। তারা সারাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েব করার সাথে যুক্ত রয়েছেন। এদের ওপর গোপন নজরদারি করলেই যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যাবে।

টিআইবির বক্তব্য:

এ প্রসংগে ট্রানাস্পারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) এর একজন গবেষণা কর্মকর্তা সারাক্ষণ বার্তাকে জানান,বাংলাদেশের শীর্ষ প্রশাসন বা সচিবালয়ে এক শ্রেণীর অসাধু দলবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারির সৃষ্টি হয়েছে। যারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দুর্নীতিবাজ (অভিযুক্ত) কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কাছে মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে। প্রায় দেড় দশক ধরে এই প্রবণতা চলছে। এতেকরে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। জনপ্রশাসন রাজ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন সরকারের মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তাঁরা যেন এ বিষয়ে সতর্ক থাকেন এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব এর পদক্ষেপ জরুরী:

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গোপনীয় তথ্য ফাঁস ও ফাইল গায়েবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারে কঠোর নির্দেশনা ও শাস্তিমূলক বিধি থাকলেও সেটি চলমান সময়ে অকার্যকর বলেই মনে হচ্ছে। ফ্যাসিবাদ সরকার আমলে সেটি একদমই অকার্যকর ছিল। ফলে এ বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার রেকর্ড নেই। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আমলেও একই ধারা পরিলক্ষিত ছিল। ফলে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের দুর্নীতির সূচক একটুও নিন্মগামি হয়নি। বর্তমান সরকার আমলেও যদি সেই ধারা বহাল থাকে তবে তা হবে দেশ ও জাতির জন্য চরম আত্মঘাতি। এ বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ সচিব কঠোর নির্দেশনা জারি করতে পারেন।