ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
প্রকৌশলীকে বদলী করার ক্ষমতা নাকি মন্ত্রী ও সচিবের নেই: মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এক প্রকৌশলীর ৬ বছরের দুর্নীতির রাজত্ব! শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র পৃথক দুই অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ আটক ১। ধামরাই গ্যাসের বিস্ফোরণে দম্পতি দগ্ধ, স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মুজিবের বাসায় গুলি: লুট হওয়া অস্ত্রসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার। মালিক বিহীন ২২ বোতল ভারতীয় মদ আটক। লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আগামীর বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের আশু সংস্কার প্রয়োজন। যাত্রাবাড়ীতে চার লক্ষ টাকার ১২৯৫ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন। প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে মাদারীপুর। আলমগীর হত্যার পর ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ব্যাপক তাণ্ডব। বাদিয়াখালীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক অর্ধ বয়সী নারীর মৃত্যু।

বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম: বিসিআইসিতে ‘কোকো পরিষদ’ ব্যানারে চেয়ারম্যান ও পিডি’র ক্যাশিয়ার খ্যাত  কে এই নজরুল ইসলাম?

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৯৭ জন সংবাদটি পড়েছেন

তিনি বিসিআইসি’র কোন কর্মকর্তা নন। তার কোন আত্মীয় স্বজনও চাকরি করেন না বিসিআইসিতে। তবুও তিনি প্রায় সময়ই বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও ৩৪ জেলায় বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের আশে পাশে থাকেন। ফাইল ওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করেন। সার ডিলার নিয়োগ থেকে শুরু করে সার পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ সহ বিসিআইসির যাবতীয় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন। এমন কি কর্মকর্তা,কর্মচারিদের নিয়োগ, বদলী, প্রমোশনেও তদবীর বাণিজ্য করেন। চেয়ারম্যান ও পিডি তার কথার বাইরে কিছুই করেন না। এমন অভিযোগ তুলেছেন বিসিআইসির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তাদের ভাষ্য: এই নজরুল ইসলামই বিসিআইসির ছায়া চেয়ারম্যানের ভুমিকা পালন করছেন গত দেড় বছর যাবত। কি তার ক্ষমতার উতস? সেটা জানার জন্য এ প্রতিবেদক অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে, এই নজরুল ইসলামের বাড়ী বৃহত্তর নোয়াখালি জেলায়। তিনি নিজেকে নোয়াখালি বেগমগঞ্জ কোকো পরিষদের নেতা বলে দাবী করেন। নোয়াখালীর সব বিএনপি নেতা তার সুপরিচিত ও আত্মীয় স¦জন বলেও প্রচার করেন। মুলত বিসিআইসিতে তার আবির্ভাব ঘটে ৫ আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর। এরপর তিনি বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসিতে প্রভাব বিস্তার করেন। বনে যান ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের রক্ষাকর্তা।

তিনি সুকৌশলে কোকো পরিষদের নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের অঘোষিত ক্যাশিয়ার বা কমিশন কালেক্টর বনে যান। এরপর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ম্যানজম্যান হয়ে তদবীর বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। ঠিকাদারদের কাছে তিনি নিজেকে চেয়ারম্যানে পিএ বলেও পরিচয় দেন। পিডি মো: মঞ্জুরুল হক তার নিকট আত্মীয় বলেও দাবী করেন।

তিনি বাফার ৩৪ জেলায় সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেবার মুল মাধ্যমের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আওয়ামী আমলের ব্ল্যাকলিষ্টেড ঠিকাদারী ফার্মগুলোর সাথে যোগাযোগ করে কাজ দেওয়ার শর্তে চেয়ারম্যান ও পিডির সাথে কমিশনের টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নজরুল ইসলামের বদৌলতে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ী ভাঙার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন ৫ টি গুদাম নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী পেয়েছেন। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের এই কাজে তিনি কমিশন বাবদ মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন।

শুধু মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনই নয়-মেসার্স এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স সালাম কন্সট্রাকশনকেও ১১ টি সার গুদাম নির্মার্ণের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কমিশনের ভিত্তিতে কাজ নিয়ে অতি নিন্মমানের পাথর,বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপাত মেজর জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান এর ছোট ভাই কোকোর নামে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘‘ কোকো পরিষদ” এর নাম ব্যবহার করে বিসিআইসিতে কালোথাবা বিস্তারকারী এই নজরুল ইসলামের কমিশন বাণিজ্য এবং দাদাগিরি বন্ধ করতে না পারলে বিসিআইসির অনিয়ম,দুর্নীতি বন্ধ হবে না মর্মে মত প্রকাশ করেছেন সিংহভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এতেকরে জিয়া পরিবারের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে। তেমন সদ্য ক্ষমতা গ্রহনকারী বিএনপি সরকারের ভাবমুর্তিও প্রশনবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকারের এখনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকৌশলীকে বদলী করার ক্ষমতা নাকি মন্ত্রী ও সচিবের নেই: মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এক প্রকৌশলীর ৬ বছরের দুর্নীতির রাজত্ব!

বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম: বিসিআইসিতে ‘কোকো পরিষদ’ ব্যানারে চেয়ারম্যান ও পিডি’র ক্যাশিয়ার খ্যাত  কে এই নজরুল ইসলাম?

আপডেট সময় : ১২:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

তিনি বিসিআইসি’র কোন কর্মকর্তা নন। তার কোন আত্মীয় স্বজনও চাকরি করেন না বিসিআইসিতে। তবুও তিনি প্রায় সময়ই বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও ৩৪ জেলায় বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের আশে পাশে থাকেন। ফাইল ওয়ার্কে হস্তক্ষেপ করেন। সার ডিলার নিয়োগ থেকে শুরু করে সার পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ সহ বিসিআইসির যাবতীয় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন। এমন কি কর্মকর্তা,কর্মচারিদের নিয়োগ, বদলী, প্রমোশনেও তদবীর বাণিজ্য করেন। চেয়ারম্যান ও পিডি তার কথার বাইরে কিছুই করেন না। এমন অভিযোগ তুলেছেন বিসিআইসির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তাদের ভাষ্য: এই নজরুল ইসলামই বিসিআইসির ছায়া চেয়ারম্যানের ভুমিকা পালন করছেন গত দেড় বছর যাবত। কি তার ক্ষমতার উতস? সেটা জানার জন্য এ প্রতিবেদক অনুসন্ধান করে জানতে পারেন যে, এই নজরুল ইসলামের বাড়ী বৃহত্তর নোয়াখালি জেলায়। তিনি নিজেকে নোয়াখালি বেগমগঞ্জ কোকো পরিষদের নেতা বলে দাবী করেন। নোয়াখালীর সব বিএনপি নেতা তার সুপরিচিত ও আত্মীয় স¦জন বলেও প্রচার করেন। মুলত বিসিআইসিতে তার আবির্ভাব ঘটে ৫ আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর। এরপর তিনি বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসিতে প্রভাব বিস্তার করেন। বনে যান ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের রক্ষাকর্তা।

তিনি সুকৌশলে কোকো পরিষদের নাম ভাঙিয়ে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ও বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের পিডি মো: মঞ্জুরুল হকের অঘোষিত ক্যাশিয়ার বা কমিশন কালেক্টর বনে যান। এরপর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ম্যানজম্যান হয়ে তদবীর বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। ঠিকাদারদের কাছে তিনি নিজেকে চেয়ারম্যানে পিএ বলেও পরিচয় দেন। পিডি মো: মঞ্জুরুল হক তার নিকট আত্মীয় বলেও দাবী করেন।

তিনি বাফার ৩৪ জেলায় সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেবার মুল মাধ্যমের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আওয়ামী আমলের ব্ল্যাকলিষ্টেড ঠিকাদারী ফার্মগুলোর সাথে যোগাযোগ করে কাজ দেওয়ার শর্তে চেয়ারম্যান ও পিডির সাথে কমিশনের টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই নজরুল ইসলামের বদৌলতে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ী ভাঙার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন ৫ টি গুদাম নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী পেয়েছেন। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের এই কাজে তিনি কমিশন বাবদ মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন।

শুধু মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনই নয়-মেসার্স এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স সালাম কন্সট্রাকশনকেও ১১ টি সার গুদাম নির্মার্ণের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কমিশনের ভিত্তিতে কাজ নিয়ে অতি নিন্মমানের পাথর,বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপাত মেজর জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান এর ছোট ভাই কোকোর নামে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘‘ কোকো পরিষদ” এর নাম ব্যবহার করে বিসিআইসিতে কালোথাবা বিস্তারকারী এই নজরুল ইসলামের কমিশন বাণিজ্য এবং দাদাগিরি বন্ধ করতে না পারলে বিসিআইসির অনিয়ম,দুর্নীতি বন্ধ হবে না মর্মে মত প্রকাশ করেছেন সিংহভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এতেকরে জিয়া পরিবারের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে। তেমন সদ্য ক্ষমতা গ্রহনকারী বিএনপি সরকারের ভাবমুর্তিও প্রশনবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকারের এখনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।