ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ:
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত।  বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ: বাইরে থেকে তালা মেরে বসতঘরে আগুন, প্রাণনাশের চেষ্টা। ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১। আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী হোলি উৎসব ২০২৬, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রায়, নতুন কলেবরে কদমবাড়ী দিঘীর পাড়।  মাদারীপুরের রাজৈরে স্বচ্ছ সাংবাদিকতা,পেশাগত দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সারাক্ষণ বার্তা পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর, প্রাণবন্ত, ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল। মহাসড়কের সংরক্ষিত জায়গা দখল: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাকা–রংপুর ফোর লেন।! ইলিশ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা, চরম ভোগান্তিতে ভোলার লক্ষাধিক জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। গোদাগাড়ীতে র‍্যাবের অভিযান ৮ কেজি গান পাউডার ও কাঁচের গুঁড়া উদ্ধার। লুকিয়ে থাকা খামেনির অবস্থান যেভাবে খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল।

আইন ভেঙে আবাসন ব্যবসা: বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহ’র ‘ক্ষমতার অপব্যবহার।

  • সারাক্ষণ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ২২ জন সংবাদটি পড়েছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহ’র ক্ষমতার অসীম দাপট চলছে। সন্ত্রাসীদের মতো মব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন তার সহযোদ্ধারা। ব্যাংকের সামনে ব্যানার নিয়ে রাজনৈতিক দলের মতো প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে এমন নজিরবিহিন ঘটনা অতীতে দেখা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে তারা কি সরকারী কর্মচারি, নাকি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী। একটি স্পর্শকাতর সরকারী প্রতিষ্ঠানে কি এমন আচরণ করা যায়? দেশটা কি মগেরমুল্লুক হয়ে গেল? সরকারের অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কি ঘটনাটি দেখেননি? তাদের চোখে কি ঠাঁটা পড়েছে? সরকার একদিকে মব কালচার নির্মুলে হুংকার দিচ্ছে অন্য দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংগঠনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এ কেমন দ্বৈত নীতি!

সরকারি চাকরিবিধি ভংগ করে আবাসন ব্যবসা:

সরকারি চাকরিজীবী। শব্দটার মধ্যেই এক ধরনের স্পর্শকাতরতা আছে। আর তিনি যদি হন ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা, তাহলে তো সেটা আরো বেশি। যা খুশি তাই করতে পারেন না তারা। নানান রকমের নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে বাঁধা তাদের জীবনাচরণ। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিন্ন এই রীতি মানতে হয়। আমাদের দেশের সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালায় স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কোনো ধরনের লাভজনক ব্যবসায় ব্যাপারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাদের পরিবারের কোনো সদস্য কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই তা করতে হবে; নইলে তা বেআইনি কাজ হবে। অথচ এসব আইনি বাধ্যবাধকতার পরোয়া না করে এবং কোনো রকম রাখঢাক না রেখেই আবাসন ব্যবসায় নেমে পড়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা-দম্পতি। নিজেরাই এআই দিয়ে ভিডিও বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরি করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচার করছেন। কমেন্ট বক্সে কারও কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে নিয়মিতভাবে জবাবও দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নাকের ডগায় এই অবৈধ কারবার চলে আসলেও সবাই যেন চোখে ঠুলি পড়ে আছে। অবশেষে মুখ খুলেছেন সরকারের একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে আমাদের অনুসন্ধানে ।

কে এই মাসুম বিল্লাহ:

এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক। তার আরেক বড় পরিচয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একমাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’-এর সভাপতি তিনি। তার স্ত্রী আক্তার জাহান সুখীও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক। এই সুখী বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে (এফআরটিএমডি) কর্মরত। তাদের আবাসন প্রকল্পটি ঢাকার মিরপুরের কালশিতে ১৬৭ শতক জমির ওপর। শুরুতে স্ত্রীর নামে প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছিলো ‘সুখী সিটি’। পরে তাদের বড় মেয়ে মাইশার নামে ‘মাইশা সিটি’ নামকরণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বিজ্ঞাপন ফেসবুকে:

আবাসন প্রকল্প নিয়ে ‘মাসুম বিল্লাহ’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন তিনি। গত ১৭ এপ্রিল দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ওই সময় এ প্রকল্পের নাম ছিলো ‘কন্ডোমিনিয়াম সুখী সিটি’, মিরপুরের কালশি মোড়ের দক্ষিণ পাশে ১৬৭ শতক জমির ওপর যা বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের মধ্যে কী কী থাকবে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। সেই বর্ণনা অনুযায়ী– প্রকল্পের পশ্চিমে ১২০ ফুট প্রশস্থ এবং দক্ষিণ পাশে ২০ ফুট প্রশস্থ রাস্তা থাকবে। প্রকল্পের মধ্যে একাধিক ভবন হবে। তবে একেবারে সামনের ভবনের প্রথম ৫তলা হবে শপিং মল। আর ওপরের ১০ তলা হবে আবাসিক ভবন। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে ৩৫০ থেকে ৩৭৫টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাট হবে তিন বেড রুম, তিন বাথ, তিন বারান্দার; একটি করে ড্রইং, ডাইনিং ও কিচেন থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আকার হবে ১৬ শ স্কয়ার ফুট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্তি পরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহর ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরো বলা হয়, আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রকল্পের মাঝখানে থাকবে সবুজ প্লে গ্রাউন্ড, কিডস জোন এবং চারপাশের দেয়াল ঘেঁষে ওয়াকওয়ে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে সুপারশপ, জিম, ক্লাব হাউস, ইনডোর গেমস, লন্ড্রি, সুইমিংপুলের ব্যবস্থা থাকবে। ফ্ল্যাটের দাম কতো হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে বুকিং মানি হিসেবে আগামী ২৫ মের মধ্যে ৫ লাখ টাকা এবং ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দামের ৫০ শতাংশ জমা দিলে বিশেষ অফার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য বাকি অর্থ দিতে হবে প্রকল্প শুরুর পর প্রতিবছর সমান কিস্তিতে। তবে ভবনের অবস্থানভেদে প্রতিটি ফ্ল্যাটের দর ৯০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর মাসুম বিল্লাহ প্রথমে গত ৬ আগস্ট ও সর্বশেষ ২৪ আগস্ট ফেসবুক পোস্টে তার আবাসন প্রকল্পের একই বিবরণ দিয়ে মাইশা সিটির নামে ভিডিও বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরি করে একাধিকবার প্রচার করেন।

মাসুম বিল্লাহ তার এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমার এবং আমার পরিবারের ওপর বিশ্বাস রেখে সম্পূর্ণ আমাদের পারিবারিক মালিকানাধীন এই প্রকল্পে যদি আপনারা আগাম ফ্ল্যাট কিনেন তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতে পারবো।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তারা জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের ব্যবসায়িক প্রচারণা চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন; এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নীতিমালারও লঙ্ঘন। তবে রহস্যময় কারণে ওই পরিচালক-দম্পতির আবাসন ব্যবসা নিয়ে সবাই নীরব।

অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহ আবাসন ব্যবসা করার জন্য অফিসের কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনুমোদনের প্রশ্নই ওঠে না।’ এই কর্মকর্তাও নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্ত জুড়ে দেন।

মাসুম বিল্লাহ’র সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক:

মাসুম বিল্লাহ’র আবাসন ব্যবসা বিষয়ে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ২৩ জুলাই সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি তার অভিযোগপত্রের অনুলিপি দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীরব থাকলেও দুদক থেকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়ে মাসুম বিল্লাহর পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, কোন কোন বিভাগে কাজ করেছেন, তার বিস্তরিত তথ্য চেয়েছে। এছাড়া তার কোথায় কী সম্পদ রয়েছে, সেই তথ্যও অনুসন্ধান করছে দুদক। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকে দুদকের এই চিঠি আসার পর থেকে অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহর ফেসবুক পেজে আর ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে না। তবে সিনিয়র সহকারী সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ওই অভিযোগপত্রের একটি কপি হাতে আসার পর থেকে মাসুম বিল্লাহর ফেসবুক পেজ অনুসরণ করি আমরা । এই সময়ের মধ্যে নিজের ফেসবুকে পেজে অন্তত ৭টি পোস্ট করেন মাসুম বিল্লাহ।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকে এই অতিরিক্ত পরিচালকের সহকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাসুম বিল্লাহর এরকম বেআইনি কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ, লজ্জিত ও হতাশ। তবে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় তারা মুখ ফুটে কিছু বলতে নারাজ। দু’একজন এসব নিয়ে ডেপুটি গর্ভনরদের সাথে আলাপ করেও কোনো সুরাহা পাননি বলে জানা যায়।

অফিসরুম যেন রাজনৈতিক কার্যালয়:

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই মাসুম বিল্লাহর আচারণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, তার ভাই আলী আহমেদ বিশ^াস মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। সেই সুবাদে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে তাদের পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে। মাসুম বিল্লাহ হরহামেশাই এসব পরিচয় দেন। ফেসবুকেও বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক পোস্ট করেন তিনি। এরমধ্যেই গত বছরের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। অফিসার্স কাউন্সিল অফিসের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে বিশাল এক চেম্বার বসিয়েছেন মাসুম বিল্লাহ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০তলা ভবনের ১৩তলায় নিজের অফিস রুমকে যেন রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়েছেন। সেখানে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন দুইজন পিওন।

সাধারণভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন অতিরিক্ত পরিচালকের রুমে অন্যদের বসার জন্য সর্বোচ্চ ৩টি চেয়ার ও দুইজন বসার জন্য একটি সোফাসেট থাকে। তবে মাসুম বিল্লাহর রুমে ২১টি চেয়ার বসানো দেখা গেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকে তিনি যে বিভাগে কর্মরত, সেই বিভাগে তারই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদের (পরিচালক) রুমে সর্বোচ্চ ৯ জন বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

মাসুম বিল্লাহ’র অনৈতিক ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী।

সচিবের অভিযোগনামা:

মাসুম বিল্লাহর অনৈতিক ব্যবসা ও কর্মকান্ডের বিষয়ে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত ২৩ জুলাই সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বরাবর যে লিখিত অভিযোগ করেন, তার অনুলিপি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারী সমবায় ঋণদান সমিতির চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ এবং ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক বরাবর।

মাসুম বিল্লাহর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ফেল করলে তার দায় বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে কি না- সেই প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের এই সিনিয়র সহকারী সচিব। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘একটি চটকদার বিজ্ঞাপন প্রদান করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মিরপুর কালশির মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছেন এই সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ১৬৭ শতাংশ জমির উপর প্রায় ৪০০টি ফ্ল্যাট তৈরি, শপিংমল ইত্যাদি স্থাপন করা হবে মর্মে জানান। অধিকন্তু, ব্যাংক ঋণের সুযোগসহ নানারকম সুবিধার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞাপনটিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নানাভাবে উপস্থাপন করেছেন এই কর্মকর্তা। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে বিনিয়োগের আশায় আমার কয়েকজন আত্মীয় এবং শুভাকাঙ্ক্ষী ইতোমধ্যে নিজেদের সম্পদ বিক্রি ও ব্যাংকে জমানো এফডিআর ভেঙ্গেছেন’- অভিযোগপত্রে জানান সিনিয়র সহকারী সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরী।

অভিযোগপত্রে তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমার আত্মীয়-স্বজনের অনুরোধে মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি যে, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন অতিরিক্ত পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতিও বটে। বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিচিত আরও দু’একজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের বিজ্ঞাপন ফেসবুকের সুবাদে তারাও দেখেছেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত ব্যবসা বলে তারা ধারণা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম কেন ব্যবহার করছেন- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর উনারা না দিলেও বিষয়টি অনৈতিক এবং সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মকান্ড অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। এছাড়া ওই প্রকল্পের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেন তারা।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিজেও একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি কর্মচারী হিসেবে লাভজনক কোনো ব্যবসায়ে যুক্ত হওয়া চাকরিবিধি অনুযায়ী শৃংখলা পরিপন্থী। মাসুম বিল্লাহর এ চটকদার বিজ্ঞাপন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতির নাম ব্যাবহার এবং নানাবিধ সুবিধার প্রলোভন দেখানোয় সাধারণ মানুষের ন্যায় আমি নিজেও বিভ্রান্তিতে পড়েছি।’

এরপর গভর্নরের কাছে দুইটি প্রশ্ন রেখেছেন সরকারের এই সিনিয়র সহকারী সচিব। ১. প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এর দায়ভার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল বা বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করবে কি না ? ২. আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মাসুম বিল্লাহ সাহেবদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রশ্রয় দেবে, নাকি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?

সরকারি কর্মচারী বিধিমালায় যা আছে:

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী কী করতে পারবেন বা পারবেন না- সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা–১৯৭৯ এ তা বলা আছে। এই বিধিমালার ১১, ১২, ১৫, ১৬, ১৭, ২১, ২৭(বি) এবং ৩২ মূলত কী ধরনের ব্যবসায় যুক্ত হওয়া যাবে বা যাবে না, সেই সংশ্লিষ্ট। এসব ধারা অনুযায়ী মোটাদাগে কোনো সরকারি চাকরিজীবী এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত হতে পারবেন না। বিধি ১২তে বলা আছে ‘কোনো সরকারি কর্মচারী আবাসিক অথবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভবন নির্মাণ করিতে পারিবেন না, যদি না সরকার কর্তৃক পূর্বানুমোদন প্রাপ্ত হয় এবং তাহার জন্য দাখিলকৃত আবেদনে নির্মাণব্যয়ের উৎস প্রকাশ করা হয়।’বিধি ১৬তে বলা আছে, ‘কোন সরকারি কর্মচারী কোন ব্যাংক বা অন্য কোন কোম্পানি স্থাপন, নিবন্ধীকরণ বা ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না। তবে সমবায় সমিতি স্থাপন, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন।’ এই বিধির ১৭(ক)তে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায বা চাকরিতে জড়িত হতে পারবেন না। তবে ননগেজেটেড সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমোদন

ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের শ্রম কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন এবং তা তার সম্পত্তির ঘোষণাপত্রের সাথে দাখিল করতে হবে।

অতি: পরিচালক মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য:

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘এ ব্যবসা আমার নামে কিংবা আমার স্ত্রী অথবা আমার সন্তানদের নামে না। আমার বড় ভাইয়ের এ ব্যবসা আমি ফেসবুকে মার্কেটিং করছি। পারিবারিক ব্যবসায় আমি মানুষকে জানিয়েছি। পারিবারিক ব্যবসায় অনুমতি নিতে হয় এমন কোনো আইন আছে নাকি? আমি কি আইনকানুন না জেনে ফেসবুকে এ পোস্ট করেছি?

ফেসবুক থেকে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্য কারণে সেটি সরিয়ে নিয়েছি।দুদকের তদন্ত রিপোর্ট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুদকের কোন নোটিশ আমি পাইনি। এছাড়া যে রিপোর্ট এসেছে সেটি আমার কিনা তা অফিসও নিশ্চিত না।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অফিসিয়ালী কোনো ব্যবসা বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকতে পারি না। আনঅফিসিয়ালী অনেকের অনেক কিছু থাকতে পারে। মাসুম বিল্লাহর এমন কোন ব্যবসা আছে বলে আমার জানা নেই।’ ব্যাংকের কাছ থেকে মাসুম বিল্লাহ কোনো অনুমতি নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমতি নেয়া বা দেয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা এটা আগে প্রশ্ন। আবেদন করা পরের কথা। তবে এ ধরনের কোনো অনুমোদন পাওয়া যায় না। বিশেষ কারণে আবেদন করা যেতে পারে যেমন, শিক্ষকতা বা এ ধরনের কাজে।’

শেষ কথা:

একজন সরকারি কর্মকর্তা কি সরকারের বিনা অনুমতিতে বেসরকারি সেক্টরে আবাসন ব্যবসা করতে পারেন? তিনি এতো টাকা কোথায় পেলেন? সাংবাদিকদেন বলেছেন এটা তার বড় ভাইয়ের ব্যবসা। তাহলে প্রশ্ন আসে-তার বড় ভাই কি করেন? তিনি কি শিল্পপতি? আমাদের অনুসন্ধান বলছে ভিন্নকথা। আমরা জানতে পেরেছি যে,তার রড় ভাই আলী আগমেদ বিশ^াস একজন কৃষিজীবি মানুষ। বিএনপির রাজনীতি করেন। গত ১৭/১৮ বছর তিনি ছিলেন দৌড়ের ওপর। পালিয়ে বেড়াতেন পুলিশের ভয়ে। এই সুদীর্ঘ সময়ে তিনি ব্যবসা বাণিজ্য কিছুই করতে পারেন নি। তাহলে তিনি হাজার কোটি টাকা বাজেটের আবাসন ব্যবসার টাকা কোথায় পেলেন? অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে ধরা পড়ে গেছেন। আমরা চাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর,অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাষ্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করুক। বাংলাদেশ ব্যাংককে মব সন্ত্রাসী মুক্ত করা হোক।

Tag :
About Author Information

GOURANGA BOSE

জনপ্রিয় সংবাদ

বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবী কারাদণ্ডে দণ্ডিত। 

আইন ভেঙে আবাসন ব্যবসা: বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহ’র ‘ক্ষমতার অপব্যবহার।

আপডেট সময় : ০৯:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহ’র ক্ষমতার অসীম দাপট চলছে। সন্ত্রাসীদের মতো মব সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন তার সহযোদ্ধারা। ব্যাংকের সামনে ব্যানার নিয়ে রাজনৈতিক দলের মতো প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে এমন নজিরবিহিন ঘটনা অতীতে দেখা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে তারা কি সরকারী কর্মচারি, নাকি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী। একটি স্পর্শকাতর সরকারী প্রতিষ্ঠানে কি এমন আচরণ করা যায়? দেশটা কি মগেরমুল্লুক হয়ে গেল? সরকারের অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কি ঘটনাটি দেখেননি? তাদের চোখে কি ঠাঁটা পড়েছে? সরকার একদিকে মব কালচার নির্মুলে হুংকার দিচ্ছে অন্য দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংগঠনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এ কেমন দ্বৈত নীতি!

সরকারি চাকরিবিধি ভংগ করে আবাসন ব্যবসা:

সরকারি চাকরিজীবী। শব্দটার মধ্যেই এক ধরনের স্পর্শকাতরতা আছে। আর তিনি যদি হন ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা, তাহলে তো সেটা আরো বেশি। যা খুশি তাই করতে পারেন না তারা। নানান রকমের নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে বাঁধা তাদের জীবনাচরণ। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিন্ন এই রীতি মানতে হয়। আমাদের দেশের সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালায় স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কোনো ধরনের লাভজনক ব্যবসায় ব্যাপারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাদের পরিবারের কোনো সদস্য কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই তা করতে হবে; নইলে তা বেআইনি কাজ হবে। অথচ এসব আইনি বাধ্যবাধকতার পরোয়া না করে এবং কোনো রকম রাখঢাক না রেখেই আবাসন ব্যবসায় নেমে পড়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা-দম্পতি। নিজেরাই এআই দিয়ে ভিডিও বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরি করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রচার করছেন। কমেন্ট বক্সে কারও কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে নিয়মিতভাবে জবাবও দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নাকের ডগায় এই অবৈধ কারবার চলে আসলেও সবাই যেন চোখে ঠুলি পড়ে আছে। অবশেষে মুখ খুলেছেন সরকারের একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে আমাদের অনুসন্ধানে ।

কে এই মাসুম বিল্লাহ:

এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক। তার আরেক বড় পরিচয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একমাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’-এর সভাপতি তিনি। তার স্ত্রী আক্তার জাহান সুখীও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক। এই সুখী বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে (এফআরটিএমডি) কর্মরত। তাদের আবাসন প্রকল্পটি ঢাকার মিরপুরের কালশিতে ১৬৭ শতক জমির ওপর। শুরুতে স্ত্রীর নামে প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছিলো ‘সুখী সিটি’। পরে তাদের বড় মেয়ে মাইশার নামে ‘মাইশা সিটি’ নামকরণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বিজ্ঞাপন ফেসবুকে:

আবাসন প্রকল্প নিয়ে ‘মাসুম বিল্লাহ’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন তিনি। গত ১৭ এপ্রিল দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ওই সময় এ প্রকল্পের নাম ছিলো ‘কন্ডোমিনিয়াম সুখী সিটি’, মিরপুরের কালশি মোড়ের দক্ষিণ পাশে ১৬৭ শতক জমির ওপর যা বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের মধ্যে কী কী থাকবে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। সেই বর্ণনা অনুযায়ী– প্রকল্পের পশ্চিমে ১২০ ফুট প্রশস্থ এবং দক্ষিণ পাশে ২০ ফুট প্রশস্থ রাস্তা থাকবে। প্রকল্পের মধ্যে একাধিক ভবন হবে। তবে একেবারে সামনের ভবনের প্রথম ৫তলা হবে শপিং মল। আর ওপরের ১০ তলা হবে আবাসিক ভবন। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে ৩৫০ থেকে ৩৭৫টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাট হবে তিন বেড রুম, তিন বাথ, তিন বারান্দার; একটি করে ড্রইং, ডাইনিং ও কিচেন থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আকার হবে ১৬ শ স্কয়ার ফুট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্তি পরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহর ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরো বলা হয়, আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রকল্পের মাঝখানে থাকবে সবুজ প্লে গ্রাউন্ড, কিডস জোন এবং চারপাশের দেয়াল ঘেঁষে ওয়াকওয়ে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে সুপারশপ, জিম, ক্লাব হাউস, ইনডোর গেমস, লন্ড্রি, সুইমিংপুলের ব্যবস্থা থাকবে। ফ্ল্যাটের দাম কতো হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে বুকিং মানি হিসেবে আগামী ২৫ মের মধ্যে ৫ লাখ টাকা এবং ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দামের ৫০ শতাংশ জমা দিলে বিশেষ অফার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য বাকি অর্থ দিতে হবে প্রকল্প শুরুর পর প্রতিবছর সমান কিস্তিতে। তবে ভবনের অবস্থানভেদে প্রতিটি ফ্ল্যাটের দর ৯০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর মাসুম বিল্লাহ প্রথমে গত ৬ আগস্ট ও সর্বশেষ ২৪ আগস্ট ফেসবুক পোস্টে তার আবাসন প্রকল্পের একই বিবরণ দিয়ে মাইশা সিটির নামে ভিডিও বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরি করে একাধিকবার প্রচার করেন।

মাসুম বিল্লাহ তার এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমার এবং আমার পরিবারের ওপর বিশ্বাস রেখে সম্পূর্ণ আমাদের পারিবারিক মালিকানাধীন এই প্রকল্পে যদি আপনারা আগাম ফ্ল্যাট কিনেন তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতে পারবো।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তারা জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের ব্যবসায়িক প্রচারণা চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন; এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নীতিমালারও লঙ্ঘন। তবে রহস্যময় কারণে ওই পরিচালক-দম্পতির আবাসন ব্যবসা নিয়ে সবাই নীরব।

অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহ আবাসন ব্যবসা করার জন্য অফিসের কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনুমোদনের প্রশ্নই ওঠে না।’ এই কর্মকর্তাও নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্ত জুড়ে দেন।

মাসুম বিল্লাহ’র সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক:

মাসুম বিল্লাহ’র আবাসন ব্যবসা বিষয়ে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ২৩ জুলাই সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি তার অভিযোগপত্রের অনুলিপি দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীরব থাকলেও দুদক থেকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়ে মাসুম বিল্লাহর পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, কোন কোন বিভাগে কাজ করেছেন, তার বিস্তরিত তথ্য চেয়েছে। এছাড়া তার কোথায় কী সম্পদ রয়েছে, সেই তথ্যও অনুসন্ধান করছে দুদক। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকে দুদকের এই চিঠি আসার পর থেকে অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহর ফেসবুক পেজে আর ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে না। তবে সিনিয়র সহকারী সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ওই অভিযোগপত্রের একটি কপি হাতে আসার পর থেকে মাসুম বিল্লাহর ফেসবুক পেজ অনুসরণ করি আমরা । এই সময়ের মধ্যে নিজের ফেসবুকে পেজে অন্তত ৭টি পোস্ট করেন মাসুম বিল্লাহ।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকে এই অতিরিক্ত পরিচালকের সহকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাসুম বিল্লাহর এরকম বেআইনি কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ, লজ্জিত ও হতাশ। তবে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় তারা মুখ ফুটে কিছু বলতে নারাজ। দু’একজন এসব নিয়ে ডেপুটি গর্ভনরদের সাথে আলাপ করেও কোনো সুরাহা পাননি বলে জানা যায়।

অফিসরুম যেন রাজনৈতিক কার্যালয়:

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই মাসুম বিল্লাহর আচারণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, তার ভাই আলী আহমেদ বিশ^াস মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। সেই সুবাদে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে তাদের পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে। মাসুম বিল্লাহ হরহামেশাই এসব পরিচয় দেন। ফেসবুকেও বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক পোস্ট করেন তিনি। এরমধ্যেই গত বছরের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। অফিসার্স কাউন্সিল অফিসের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে বিশাল এক চেম্বার বসিয়েছেন মাসুম বিল্লাহ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০তলা ভবনের ১৩তলায় নিজের অফিস রুমকে যেন রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়েছেন। সেখানে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন দুইজন পিওন।

সাধারণভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন অতিরিক্ত পরিচালকের রুমে অন্যদের বসার জন্য সর্বোচ্চ ৩টি চেয়ার ও দুইজন বসার জন্য একটি সোফাসেট থাকে। তবে মাসুম বিল্লাহর রুমে ২১টি চেয়ার বসানো দেখা গেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকে তিনি যে বিভাগে কর্মরত, সেই বিভাগে তারই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদের (পরিচালক) রুমে সর্বোচ্চ ৯ জন বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

মাসুম বিল্লাহ’র অনৈতিক ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী।

সচিবের অভিযোগনামা:

মাসুম বিল্লাহর অনৈতিক ব্যবসা ও কর্মকান্ডের বিষয়ে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত ২৩ জুলাই সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বরাবর যে লিখিত অভিযোগ করেন, তার অনুলিপি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারী সমবায় ঋণদান সমিতির চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ এবং ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক বরাবর।

মাসুম বিল্লাহর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ফেল করলে তার দায় বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে কি না- সেই প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের এই সিনিয়র সহকারী সচিব। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘একটি চটকদার বিজ্ঞাপন প্রদান করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মিরপুর কালশির মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছেন এই সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ১৬৭ শতাংশ জমির উপর প্রায় ৪০০টি ফ্ল্যাট তৈরি, শপিংমল ইত্যাদি স্থাপন করা হবে মর্মে জানান। অধিকন্তু, ব্যাংক ঋণের সুযোগসহ নানারকম সুবিধার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞাপনটিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নানাভাবে উপস্থাপন করেছেন এই কর্মকর্তা। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে বিনিয়োগের আশায় আমার কয়েকজন আত্মীয় এবং শুভাকাঙ্ক্ষী ইতোমধ্যে নিজেদের সম্পদ বিক্রি ও ব্যাংকে জমানো এফডিআর ভেঙ্গেছেন’- অভিযোগপত্রে জানান সিনিয়র সহকারী সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরী।

অভিযোগপত্রে তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমার আত্মীয়-স্বজনের অনুরোধে মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি যে, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন অতিরিক্ত পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতিও বটে। বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিচিত আরও দু’একজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের বিজ্ঞাপন ফেসবুকের সুবাদে তারাও দেখেছেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত ব্যবসা বলে তারা ধারণা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম কেন ব্যবহার করছেন- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর উনারা না দিলেও বিষয়টি অনৈতিক এবং সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মকান্ড অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। এছাড়া ওই প্রকল্পের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেন তারা।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিজেও একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি কর্মচারী হিসেবে লাভজনক কোনো ব্যবসায়ে যুক্ত হওয়া চাকরিবিধি অনুযায়ী শৃংখলা পরিপন্থী। মাসুম বিল্লাহর এ চটকদার বিজ্ঞাপন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতির নাম ব্যাবহার এবং নানাবিধ সুবিধার প্রলোভন দেখানোয় সাধারণ মানুষের ন্যায় আমি নিজেও বিভ্রান্তিতে পড়েছি।’

এরপর গভর্নরের কাছে দুইটি প্রশ্ন রেখেছেন সরকারের এই সিনিয়র সহকারী সচিব। ১. প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এর দায়ভার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল বা বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করবে কি না ? ২. আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মাসুম বিল্লাহ সাহেবদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রশ্রয় দেবে, নাকি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?

সরকারি কর্মচারী বিধিমালায় যা আছে:

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী কী করতে পারবেন বা পারবেন না- সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা–১৯৭৯ এ তা বলা আছে। এই বিধিমালার ১১, ১২, ১৫, ১৬, ১৭, ২১, ২৭(বি) এবং ৩২ মূলত কী ধরনের ব্যবসায় যুক্ত হওয়া যাবে বা যাবে না, সেই সংশ্লিষ্ট। এসব ধারা অনুযায়ী মোটাদাগে কোনো সরকারি চাকরিজীবী এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত হতে পারবেন না। বিধি ১২তে বলা আছে ‘কোনো সরকারি কর্মচারী আবাসিক অথবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভবন নির্মাণ করিতে পারিবেন না, যদি না সরকার কর্তৃক পূর্বানুমোদন প্রাপ্ত হয় এবং তাহার জন্য দাখিলকৃত আবেদনে নির্মাণব্যয়ের উৎস প্রকাশ করা হয়।’বিধি ১৬তে বলা আছে, ‘কোন সরকারি কর্মচারী কোন ব্যাংক বা অন্য কোন কোম্পানি স্থাপন, নিবন্ধীকরণ বা ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না। তবে সমবায় সমিতি স্থাপন, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন।’ এই বিধির ১৭(ক)তে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায বা চাকরিতে জড়িত হতে পারবেন না। তবে ননগেজেটেড সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমোদন

ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের শ্রম কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন এবং তা তার সম্পত্তির ঘোষণাপত্রের সাথে দাখিল করতে হবে।

অতি: পরিচালক মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য:

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘এ ব্যবসা আমার নামে কিংবা আমার স্ত্রী অথবা আমার সন্তানদের নামে না। আমার বড় ভাইয়ের এ ব্যবসা আমি ফেসবুকে মার্কেটিং করছি। পারিবারিক ব্যবসায় আমি মানুষকে জানিয়েছি। পারিবারিক ব্যবসায় অনুমতি নিতে হয় এমন কোনো আইন আছে নাকি? আমি কি আইনকানুন না জেনে ফেসবুকে এ পোস্ট করেছি?

ফেসবুক থেকে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্য কারণে সেটি সরিয়ে নিয়েছি।দুদকের তদন্ত রিপোর্ট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুদকের কোন নোটিশ আমি পাইনি। এছাড়া যে রিপোর্ট এসেছে সেটি আমার কিনা তা অফিসও নিশ্চিত না।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অফিসিয়ালী কোনো ব্যবসা বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকতে পারি না। আনঅফিসিয়ালী অনেকের অনেক কিছু থাকতে পারে। মাসুম বিল্লাহর এমন কোন ব্যবসা আছে বলে আমার জানা নেই।’ ব্যাংকের কাছ থেকে মাসুম বিল্লাহ কোনো অনুমতি নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমতি নেয়া বা দেয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা এটা আগে প্রশ্ন। আবেদন করা পরের কথা। তবে এ ধরনের কোনো অনুমোদন পাওয়া যায় না। বিশেষ কারণে আবেদন করা যেতে পারে যেমন, শিক্ষকতা বা এ ধরনের কাজে।’

শেষ কথা:

একজন সরকারি কর্মকর্তা কি সরকারের বিনা অনুমতিতে বেসরকারি সেক্টরে আবাসন ব্যবসা করতে পারেন? তিনি এতো টাকা কোথায় পেলেন? সাংবাদিকদেন বলেছেন এটা তার বড় ভাইয়ের ব্যবসা। তাহলে প্রশ্ন আসে-তার বড় ভাই কি করেন? তিনি কি শিল্পপতি? আমাদের অনুসন্ধান বলছে ভিন্নকথা। আমরা জানতে পেরেছি যে,তার রড় ভাই আলী আগমেদ বিশ^াস একজন কৃষিজীবি মানুষ। বিএনপির রাজনীতি করেন। গত ১৭/১৮ বছর তিনি ছিলেন দৌড়ের ওপর। পালিয়ে বেড়াতেন পুলিশের ভয়ে। এই সুদীর্ঘ সময়ে তিনি ব্যবসা বাণিজ্য কিছুই করতে পারেন নি। তাহলে তিনি হাজার কোটি টাকা বাজেটের আবাসন ব্যবসার টাকা কোথায় পেলেন? অতিরিক্ত পরিচালক মাসুম বিল্লাহ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে ধরা পড়ে গেছেন। আমরা চাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর,অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাষ্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করুক। বাংলাদেশ ব্যাংককে মব সন্ত্রাসী মুক্ত করা হোক।